• সিলেট, রাত ১০:৫৫, ২২শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

পবিত্র কোরআনে আল্লাহতায়ালা বলেছেন

admin
প্রকাশিত জুন ১৬, ২০২৬
পবিত্র কোরআনে আল্লাহতায়ালা বলেছেন

Manual1 Ad Code

সৎকাজের আদেশই অসৎকাজের নিষেধ

Manual2 Ad Code

মাওলানা সেলিম হোসাইন আজাদী

 

Manual6 Ad Code

পবিত্র কোরআনে আল্লাহতায়ালা বলেছেন, ‘হে বিশ্বাসীগণ! তোমরাই উত্তম উম্মত; মানবজাতির কল্যাণের জন্য তোমরা মনোনীত। তোমরা মানুষকে সৎকাজে অনুপ্রাণিত করবে আর অসৎকাজে নিষেধ করবে। আর আল্লাহর ওপর বিশ্বাসে অটল থাকবে। হায়! পূর্ববর্তী কিতাবিরা যদি সত্য বিশ্বাস করত, তাহলে কত না ভালো হতো! ওদের মধ্যে কিছু বিশ্বাসী আছে কিন্তু ওদের বেশির ভাগই সত্যত্যাগী (সুরা আলে ইমরান, আয়াত ১১০)।’

এ আয়াতে উম্মতে মুহাম্মাদির বিশেষ মর্যাদা ও দায়িত্ব সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে। উম্মতে মুহাম্মাদির বিশেষ মর্যাদা হলো তারা উত্তম জাতি। এই উত্তম জাতি তারা নিজের ইচ্ছায় হয়নি বরং তাদের মনোনীত করা হয়েছে। কারও ভোটে বা গণতান্ত্রিক কোনো পদ্ধতিতে আল্লাহ উম্মতে মুহাম্মাদিকে শ্রেষ্ঠ জাতি নির্বাচিত করেননি। তিনি উম্মতে মুহাম্মাদিকে শ্রেষ্ঠ জাতি হিসেবে নির্বাচিত করেছেন নিজের ইচ্ছায়। যেহেতু নবী শ্রেষ্ঠ, তাই উম্মতও শ্রেষ্ঠ হবে। তবে এই শ্রেষ্ঠত্ব ধরে রাখতে হবে। অন্যভাবে বললে এই শ্রেষ্ঠত্ব বজায় রাখার জন্য বিশেষ তিনটি দায়িত্ব আল্লাহ উম্মতে মুহাম্মাদির ওপর ন্যস্ত করেছেন। সৎকাজের আদেশ করা, অসৎকাজের নিষেধ করা এবং আল্লাহর ওপর বিশ্বাসে অবিচল থাকা। এই তিনটি দায়িত্ব পালনের মাধ্যমেই উম্মতে মুহাম্মাদি তার শ্রেষ্ঠত্ব বজায় রাখতে পারবে। ভালো কাজের আদেশ এবং মন্দ কাজের নিষেধ দুইভাবে হতে পারে। এককভাবে এবং সংঘবদ্ধভাবে। অবশ্যই প্রতিটি বিশ্বাসী বান্দা তার জায়গা থেকে সব সময় ভালো কাজের আদেশ করবে এবং মন্দ কাজে নিষেধ করবে। কিন্তু এরপরও মুমিন সমাজে শুধু ভালো কাজের আদেশ এবং মন্দ কাজে নিষেধ করার জন্য একটি প্রাতিষ্ঠানিক রূপ থাকতে হবে। সাংগঠনিক ঐক্যবদ্ধ শক্তি থাকতে হবে। এ সম্পর্কে অন্য আয়াতে আল্লাহ বলেছেন, ‘হে বিশ্বাসীগণ! তোমাদের এমন একটি সংঘ থাকা উচিত, যা সংঘবদ্ধভাবে মানুষকে ভালো কাজে অনুপ্রাণিত করবে, আর অন্যায় কাজে নিষেধ করবে। তাহলেই তোমরা সফলকাম হবে (সুরা আলেম ইমরান, আয়াত ৪)।’

Manual5 Ad Code

মুফাসসিরগণ বলেন, মুমিন সমাজে সৎকাজের আদেশ এবং অসৎকাজে নিষেধ করার জন্য সংঘবদ্ধ যে দল থাকার কথা, পবিত্র কোরআনে আল্লাহ বলেছেন, এটা সরাসরি ফরজ নির্দেশ। তাই সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজের নিষেধ কোনো সাধারণ হুকুম কিংবা কম গুরুত্বপূর্ণ হুকুম নয়। বরং এটা ফরজ। আর নির্দেশ কেবল উম্মতে মুহাম্মাদির জন্য নয় বরং পূর্ববর্তী উম্মতের জন্যও ছিল। এ সম্পর্কে মহান আল্লাহ বলেন, ‘বনি ইসরায়েলের মধ্যে যারা সত্য অস্বীকার করেছিল, তারা ইতোমধ্যেই দাউদ ও মরিয়মপুত্র ঈসা দ্বারা অভিশপ্ত হয়েছিল। কারণ তারা ছিল অবাধ্য ও জালেম। ওরা পরস্পরকে অন্যায় করা থেকে বিরত রাখার কোনো চেষ্টা করেনি। ওদের কর্মপন্থা কতই না নিকৃষ্ট (সুরা মায়েদাহ, আয়াত ৭৮-৭৯)।’ এ আয়াত থেকে জানা যায়, মানুষকে অন্যায় করতে দেখে চুপ থাকা কেবল কবিরাহ গুনাহ নয় বরং এটা নবীদের থেকে লানত পাওয়ার কারণও। আসলে মানুষ যখন অন্যায় দেখে চুপ থাকে, তখন সমাজ ধীরে ধীরে অন্যায়ের চোরাবালিতে ডুবে যায়। তখন দেশে যতই মাদ্রাসা থাকুক, মসজিদ থাকুক, মানুষ যতই হজ করুক, নামাজ পড়ুক, রোজা রাখুক- নৈতিকতা অধঃপতন ঠেকানো যায় না। মানুষ ধর্মও করে, আবার দুর্নীতিতেও ডুবে যায়। এ কারণে খারাপ কাজ দেখলে সাধ্যমতো প্রতিবাদ করতেই হবে। প্রতিবাদ করা সম্ভব না হলে অন্তত মনে মনে এ কাজ ঘৃণা করার এবং এ পরিবেশ বদলানোর ইচ্ছা পোষণ করতে হবে।

সৎকাজের আদেশ এবং অসৎকাজের নিষেধের ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষের চেয়ে বেশি দায়িত্ব পালন করতে হবে আলেমসমাজকে। আলেমসমাজই মূলত ধর্মের খুঁটি মজবুত রাখার ক্ষেত্রে জীবন উৎসর্গ করে ভূমিকা রাখে। আর মানুষ আলেমসমাজকে মেনেও চলে। তাই আল্লাহতায়ালা আলেমসমাজের নীরবতার নিন্দা করেছেন এভাবে- ‘ওদের অনেককেই তুমি দেখবে অন্যায় ও জুলুমবাজি এবং হারাম ভক্ষণে পরস্পর অসৎ প্রতিযোগিতায় লিপ্ত। আর এ কাজগুলো কতই না নিকৃষ্ট! ওদের রাব্বানি ও পুরোহিতরা কেন ওদের জুলুম থেকে বিরত থাকতে ও হারাম ভক্ষণ করতে নিষেধ করে না? ওরা যা করছে তা-ও কতই না নিকৃষ্ট (সুরা মায়েদাহ, আয়াত ৬২-৬৩)।’

আসলে একটি সমাজ ধ্বংস হওয়ার পেছনের জ্ঞানীদের নীরবতা ঘুণ পোকার মতো ভূমিকা রাখে। জ্ঞানীরা যখন অন্যায়-অনাচার দেখেও চুপ থাকেন, প্রতিবাদ করেন না, তখন সমাজ ভিতর থেকে ধ্বংস হয়ে যায়। সমাজের তরুণরা নেশায় ডুবে যায়, রাজনীতিবিদরা অসৎ জীবনে জড়িয়ে পড়েন, ব্যবসায়ীরা ভেজাল, ওজনে কম দেওয়াকে মুনাফার উপায় মনে করে, দায়িত্বশীলরা দায়িত্বে ফাঁকি দেওয়াকে যোগ্যতা মনে করে। আর এভাবেই একটি সমাজ বাইরে থেকে দেখলে যতই সংহত মনে হোক না কেন তা আসলে ভিতর থেকে একেবারেই ফাঁপা। যখন কোনো দুর্যোগ আসে, বিপদ আসে, তখন বোঝা যায় এ সমাজের মানুষের ভিতর মায়া নেই, মমতা নেই। তারা বিপদ নিয়েও ব্যবসা করে। সংকটও তাদের কাছে সুখবর মনে হয়। আল্লাহ আমাদের সঠিকভাবে বোঝার তাওফিক দিন।

Manual5 Ad Code

♦ লেখক : প্রিন্সিপাল, সেইফ এডুকেশন ইনস্টিটিউট

 

বিডি প্রতিদিন

Latif Travels
Metropolitan University

আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন

📞 মোবাইল: +8801712540420

✉️ ইমেইল: pavel.syl@gmail.com