সিলেটে ওয়াকফ এস্টেট নিয়ে সং ঘ র্ষে র ঘটনায় ৩ মা*ম*লা
নিজস্ব প্রতিবেদক
সিলেট মহানগরীর মোগলাবাজার থানাধীন সিলাম এলাকার হযরত শাহ তৈয়ব ছয়লানি (রহ.) ওয়াকফ এস্টেট মাজার ও মসজিদ এবং ৩৫-৪০টি দোকান কোটা নিয়ে দুইপক্ষের সংঘর্ষের ঘটনায় মোট ৩টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এই তিনটি মামলা সর্বমোট ৪০/৫০ জনকে আসামি করে মামলাগুলো দায়ের করা হয়। শনিবার (২২ আগস্ট) সংঘর্ষে লিপ্ত হওয়া দুইপক্ষ এবং পুলিশের পক্ষথেকে পৃথকভাবে সর্বমোট ৩টি মামলা দায়ের হয়।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মোগলাবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনির হোসেন।
জানা যায়, সংঘর্ষের ঘটনায় একপক্ষের শাহ তৈয়ব ছয়লানি (রহ.) মাজার ওয়াকফ এস্টেটের যুগ্ম মোতাওয়াল্লী আবেদ রাজা বাদী হয়ে থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। পরবর্তীতে অপরপক্ষের ফাহাদুল মান্নান বাদী হয়ে পাল্টা আরেকটি মামলা দায়ের করেন। এদিকে দুইপক্ষের সংঘর্ষে মোগলাবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনির হোসেনসহ পুলিশ সদস্যদের উপর হামলার ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে আরেকটি মামলা দায়ের করে। পুলিশের দায়েরকৃত মামলার বাদী মোগলাবাজার থানার এসআই রুবেল আহমদ।
মোগলাবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনির হোসেন বলেন, ‘মামলা দায়ের হওয়ার পর থেকে আসামি ধরতে পুলিশী অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’
উল্লেখ্য, সিলেট মহানগরীর মোগলাবাজার থানাধীন সিলাম এলাকার চকের বাজারে হযরত শাহ তৈয়ব ছয়লানি (রহ.) ওয়াকফ এস্টেট মাজার ও মসজিদ এবং ৩৫-৪০টি দোকান কোটা নিয়ে দুইপক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। সবশেষ শুক্রবার (২১ আগস্ট) বেলা ১টার দিকে মাজার ও মসজিদ এবং ৩৫-৪০টি দোকান কোটা নিয়ে দুইপক্ষের মধ্যে সংঘর্ঘের ঘটনা ঘটে। আনুমানিক দুইঘন্টাব্যাপি চলা সংঘর্ষে ৭জন পুলিশ সদস্যসহ আহত হয়েছেন অন্তত ৩০ জন। সংঘর্ষের খবর পেয়ে মোগলাবাজার থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে দুইপক্ষের হামলা-পাল্টাহামলায় ওসি মো. মনির হোসেনসহ সাত পুলিশ সদস্য আহত হন। পরে মোগলাবাজার থানা পুলিশ, স্থানীয় নেতৃবৃন্দ ও মুরব্বিদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
সূত্র জানায়, হযরত শাহ তৈয়ব ছয়লানি (রহ.) মাজার ওয়াকফ এস্টেট (ইসি নং–১২৭৩৫) পরিচালনা নিয়ে বিরোধের সূত্রপাত আরও আগে। গত ২৯ জুলাই গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের বাংলাদেশ ওয়াকফ এস্টেটের প্রশাসকের এক আদেশে হযরত শাহ তৈয়ব ছয়লানি (রহ.) মাজার ওয়াকফ এস্টেটের জন্য নয় সদস্যের একটি কমিটি অনুমোদন দেওয়া হয়। ওই কমিটিতে সিলেট-৩ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আব্দুল মালিককে সভাপতি, দক্ষিণ সুরমা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে সহ-সভাপতি এবং মো. ফজলু মিয়াকে মোতাওয়াল্লী করা হয়। এছাড়া আবেদ রাজা ও আহমদুর রহমান ছাদেককে যুগ্ম মোতাওয়াল্লী এবং মোয়াজ্জেম হোসেন লনি, লুতফুর রহমান বাবু, আব্দুল মতিন শাহিন ও আব্দুস সামাদকে সদস্য করা হয়।ডিজিটাল ক্যালেন্ডার ও টাইম ট্র্যাকার নির্বাচন করা
ওই আদেশের পরিপ্রেক্ষিতে শাহ আব্দুল মান্নান বাদী হয়ে উচ্চ আদালতে রীট পিটিশন নং ১০৭৬৭/২৬ ইং দাখিল করেন। গত ১৬ আগস্ট মহামান্য হাইকোর্ট সুপ্রিম কোর্ট বিভাগের বিজয়-৭১ ভবনের ৩ নম্বর আদালতে এ রিটের শুনানি হয়। বিচারপতি মো. হাবিবুল গনি ও বিচারপতি সৈয়দ মো. তাজরুল হোসাইনের আদালতে শুনানি শেষে বাংলাদেশ ওয়াকফ এস্টেট অনুমোদিত কমিটি বহাল রাখা হয়। নেভিগেশন ও ডিজিটাল ম্যাপ ব্যবহার করা তবে সাময়িক সময়ের জন্য ওই কমিটির মোতাওয়াল্লী ফজলু মিয়ার কার্যক্রম স্থগিত করে হযরত শাহ তৈয়ব ছয়লানি (রহ.) মাজার ওয়াকফ এস্টেট ও মসজিদের দায়িত্ব পালনের জন্য মোতাওয়াল্লী হিসেবে আবেদ রাজাকে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেওয়া হয়।
সিলেটভিউ২৪ডটকম