• সিলেট, রাত ১০:১২, ৩০শে আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

উম্মতে মুহাম্মদির অন্যান্য মর্যাদা ও বৈশিষ্ট্য

admin
প্রকাশিত আগস্ট ৩০, ২০২৬
উম্মতে মুহাম্মদির অন্যান্য মর্যাদা ও বৈশিষ্ট্য

Manual5 Ad Code

প্রতীকী ছবি

 

উম্মতে মুহাম্মদির অন্যান্য মর্যাদা ও বৈশিষ্ট্য

মাওলানা সাখাওয়াত উল্লাহ

 

 

Manual8 Ad Code

উম্মতে মুহাম্মদি-আল্লাহ তাআলা তাদের ওপর রহমত করুন এবং তাদের প্রতি সন্তুষ্ট থাকুন-অন্যান্য উম্মতের তুলনায় বহু বিষয়ে বিশেষ মর্যাদা লাভ করেছে। এর মধ্যে কয়েকটি হলো :

ক. কিছু খাদ্য উম্মতে মুহাম্মদির জন্য হালাল করা হয়েছে

আল্লাহ তাআলা এই উম্মতের জন্য এমন কিছু খাদ্য হালাল করেছেন, যা অন্যদের জন্য হালাল ছিল না।

ইমাম আহমদ ও ইবনে মাজাহ, আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘আমাদের জন্য দুটি মৃত প্রাণী ও দুটি রক্ত হালাল করা হয়েছে। দুটি মৃত প্রাণী হলো মাছ ও পঙ্গপাল; আর দুটি রক্ত হলো কলিজা ও প্লিহা।’ (সহিহুল জামে, হাদিস : ২১০)

খ. সাহরির মাধ্যমে বিশেষ মর্যাদা

আল্লাহ তাআলা এই উম্মতকে সাহরি করার বিশেষ সুযোগ দিয়েছেন। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘আমাদের রোজা এবং আহলে কিতাবের রোজার মধ্যে পার্থক্য হলো সাহরির খাবার।’ (নাসাঈ, হাদিস : ২১৬৬)

গ. দাফনের সময় লাহদ ব্যবস্থাকে বিশেষভাবে পছন্দনীয় করা হয়েছে

আল্লাহ তাআলা উম্মতে মুহাম্মদিকে দাফনের ক্ষেত্রে লাহদ ব্যবস্থাকে বিশেষ মর্যাদা দিয়েছেন। নবী (সা.) বলেছেন, লাহদ আমাদের জন্য, আর শাক (সোজা গর্ত) অন্যদের জন্য।’ (আলবানি, আহকামুল জানায়িজ, পৃষ্ঠা ১৪৫)

Manual4 Ad Code

এখানে উল্লেখ্য, শাক পদ্ধতিও বৈধ। তবে লাহদ পদ্ধতি এই উম্মতের জন্য অধিক পছন্দনীয়।
অর্থাৎ মৃত ব্যক্তিকে দাফনের পদ্ধতির ক্ষেত্রেও উম্মতে মুহাম্মদি একটি স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য লাভ করেছে।

ঘ. সালাতুল ইশার মাধ্যমে বিশেষ মর্যাদা

ইশার সালাতও উম্মতে মুহাম্মদির বিশেষ বৈশিষ্ট্যগুলোর অন্তর্ভুক্ত। পূর্ববর্তী কোনো উম্মত এ সালাত আদায় করেনি। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘এই সালাতটি কিছুটা বিলম্ব করে আদায় করো। কারণ এর মাধ্যমে তোমাদের অন্যান্য উম্মতের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দেওয়া হয়েছে। তোমাদের আগে কোনো উম্মত এই সালাত আদায় করেনি।’ (আবু দাউদ, হাদিস : ৪২১)

ঙ. গনিমতের সম্পদ উম্মতে মুহাম্মদির জন্য হালাল করা হয়েছে

পূর্ববর্তী উম্মতগুলোর জন্য গনিমতের সম্পদ হালাল ছিল না। কিন্তু আল্লাহ তাআলা উম্মতে মুহাম্মদির জন্য তা হালাল করেছেন। আল্লাহ তাআলা বলেন, আল্লাহর পক্ষ থেকে আগে একটি বিধান না থাকলে তোমরা যা গ্রহণ করেছ, তার কারণে তোমাদের ওপর অবশ্যই মহাশাস্তি আপতিত হতো। অতএব তোমরা যা গনিমত হিসেবে লাভ করেছ, তা হালাল ও পবিত্র হিসেবে ভক্ষণ করো এবং আল্লাহকে ভয় করো। নিশ্চয়ই আল্লাহ ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু। (সুরা : আল-আনফাল, আয়াত : ৬৮-৬৯)

চ. উম্মতে মুহাম্মদিকে ইসনাদ বা সনদের বিশেষ বৈশিষ্ট্য দেওয়া হয়েছে

আল্লাহ তাআলা এই উম্মতকে ইসনাদ তথা বর্ণনাকারীদের ধারাবাহিক সূত্রের মাধ্যমে হাদিস সংরক্ষণের বিশেষ বৈশিষ্ট্য দান করেছেন। নবী (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা শুনবে, তোমাদের কাছ থেকে শোনা হবে এবং যারা তোমাদের কাছ থেকে শুনবে, তাদের কাছ থেকেও শোনা হবে।’ (সিলসিলা সহিহাহ, হাদিস : ১৭৮৪)

Manual5 Ad Code

এটি নিঃসন্দেহে এই উম্মতের একটি মহান বৈশিষ্ট্য। ইসনাদ ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ অংশ; এর মাধ্যমে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর হাদিস সংরক্ষিত হয়েছে এবং আল্লাহর দ্বিন বিকৃতি ও বিলুপ্তি থেকে রক্ষা পেয়েছে।

আল্লাহ তাআলা বলেন, নিশ্চয়ই আমরাই এই উপদেশ (কোরআন) নাজিল করেছি এবং অবশ্যই আমরাই এর সংরক্ষণকারী। (সুরা : আল-হিজর, আয়াত : ৯)

ছ. নাসখ বা পূর্ববর্তী বিধান রহিত করার বিশেষ বৈশিষ্ট্য

ইমাম সুয়ুতি (রহ.) তাঁর আল-‘ইতকান ফি উলুমিল কোরআন’ গ্রন্থে বলেন, ‘নাসখ এমন একটি বিষয়, যা আল্লাহ এই উম্মতের জন্য বিশেষভাবে নির্ধারণ করেছেন।’

এর মধ্যে একটি হিকমত হলো সহজীকরণ। ইহুদিরা নাসখকে অস্বীকার করেছিল। আলেমরা উল্লেখ করেছেন যে পূর্ববর্তী শরিয়তসমূহের বিধান অনেক সময় একসঙ্গে নাজিল হতো; ফলে তাতে নাসখের সুযোগ ছিল সীমিত। পক্ষান্তরে ইসলামী শরিয়ত ধীরে ধীরে ও পর্যায়ক্রমে নাজিল হয়েছে। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘আর আমি কোরআনকে পৃথক পৃথকভাবে নাজিল করেছি, যাতে তুমি তা মানুষের কাছে ধীরে ধীরে পাঠ করতে পারো; এবং আমি তা পর্যায়ক্রমে নাজিল করেছি।’ (সুরা : আল-ইসরা, আয়াত : ১০৬)

বিডি প্রতিদিন

Manual1 Ad Code

Latif Travels
Metropolitan University

আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন

📞 মোবাইল: +8801712540420

✉️ ইমেইল: pavel.syl@gmail.com