• সিলেট, দুপুর ১:৩৪, ৫ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

মতবিনিময় সভায় সাংবাদিকরা, ঐক্যবদ্ধ না থাকলে বিপন্ন হবে রাষ্ট্র

admin
প্রকাশিত ডিসেম্বর ২২, ২০২৫
মতবিনিময় সভায় সাংবাদিকরা, ঐক্যবদ্ধ না থাকলে বিপন্ন হবে রাষ্ট্র

Manual2 Ad Code

মতবিনিময় সভায় সাংবাদিকরা,
ঐক্যবদ্ধ না থাকলে বিপন্ন হবে রাষ্ট্র

অনলাইন ডেস্ক

 

রাজধানীর একটি হোটেলে গতকাল বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ঐতিহাসিক স্বদেশ প্রত্যাবর্তন উপলক্ষে জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় বক্তব্য দিচ্ছেন দলের জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ -বাংলাদেশ প্রতিদিন

বিএনপির মতবিনিময় সভায় গণমাধ্যমের সিনিয়র সাংবাদিকরা বলেছেন, বিএনপির শাসনামল গণমাধ্যমের জন্য অধিকতর স্বস্তিদায়ক ছিল। তারা এই মুহূর্তে দেশের বৃহৎ রাজনৈতিক দল। গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিতে তাদেরও বড় দায়িত্ব রয়েছে। দেশের ইতিহাসে এর আগে মিডিয়া হাউসে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটেনি। তবে এ সময়ে দাঁড়িয়েও ভবিষ্যতে চোখ রাখতে চান তারা। বিভিন্ন মিডিয়ার সম্পাদকরা বলেন, সমালোচনা ও মত প্রকাশের ইস্যুকে অবশ্যই সুস্থ ধারার একটি প্ল্যাটফর্মে নিয়ে আসার জন্য সবাইকে কাজ করতে হবে। জবাবে বিএনপির নীতিনির্ধারক মহলের সদস্যরা বলেন, বিএনপি অতীতের সব তিক্ততা ভুলে আগামীতে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেলে বিগত ফ্যাসিবাদী সরকারের দমনপীড়নের কথা মাথায় রেখে গণমাধ্যমকে পূর্ণ সহযোগিতা দেবে।

Manual1 Ad Code

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন উপলক্ষে রাজধানীর রেডিসন ব্লু হোটেলে সম্পাদক, নির্বাহী সম্পাদকসহ গণমাধ্যমের শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তিদের সঙ্গে বিএনপির মতবিনিময় সভায় তারা এসব কথা বলেন। দলের জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে সভায় সিনিয়র সাংবাদিকরা বলেন, আগামী দিনে চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হলে আমাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। আমরা যদি ঐক্যবদ্ধ না হই, রাষ্ট্র বিপন্ন হয়ে যাবে। সেই রাষ্ট্রের যদি অস্তিত্ব বিপন্ন হয়ে যায়, তাহলে আমরা কেউই থাকব না। বর্তমান পরিস্থিতিকে অস্থির ও কঠিন সময় হিসেবে উল্লেখ করেন তারা।

মতবিনিময় সভায় যায়যায়দিন সম্পাদক শফিক রেহমান, প্রথম আলো সম্পাদক মতিউর রহমান, ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহফুজ আনাম, দৈনিক ইনকিলাব সম্পাদক এ এম এম বাহাউদ্দীন, মানবজমিনের প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান, কালের কণ্ঠ সম্পাদক হাসান হাফিজ, যুগান্তর সম্পাদক আবদুল হাই শিকদার, বাংলাদেশ প্রতিদিনের নির্বাহী সম্পাদক মনজুরুল ইসলাম, নয়া দিগন্তের নির্বাহী সম্পাদক মাসুমুর রহমান খলিলী, নিউজ টোয়েন্টি ফোরের শরীফুল ইসলাম খান, যমুনা টেলিভিশনের ফাহিম আহমেদ প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

এ ছাড়া বাংলাদেশ প্রতিদিন সম্পাদক আবু তাহের, প্রতিদিনের বাংলাদেশ সম্পাদক মারুফ কামাল খান, নয়াদিগন্ত সম্পাদক সালাহউদ্দিন মুহাম্মদ বাবর, আমার দেশ নির্বাহী সম্পাদক সৈয়দ আবদাল আহমদ, ডেইলি সান সম্পাদক রেজাউল করিম লোটাস, খবরের কাগজ সম্পাদক মোস্তফা কামাল, বাসস এমডি মাহবুব মোর্শেদ, জনকণ্ঠের নির্বাহী সম্পাদক খুরশিদ আলম, বাংলানিউজ সম্পাদক তৌহিদুল ইসলাম মিন্টু, সিনিয়র সাংবাদিক এম এ আজিজ, মাসুদ কামাল, আজকের পত্রিকা সম্পাদক কামরুল হাসান, বণিক বার্তা সম্পাদক দেওয়ান হানিফ মাহমুদ, ঢাকা মেইলের নির্বাহী সম্পাদক হারুন জামিল, যুগান্তরের এনাম আবেদীন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

Manual2 Ad Code

বিএনপি নেতৃবৃন্দের মধ্যে দলের জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান, বেগম সেলিমা রহমান, মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ, দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ, বিএনপি মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক মওদুদ আহমেদ পাভেল, সদস্য সচিব শহীদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, সদস্য শাম্মী আক্তার, মোর্শেদ হাসান খান, মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, আতিকুর রহমান রুমন, শায়রুল কবির খান, ব্যারিস্টার আবু সায়েম, অ্যাডভোকেট ফারজানা শারমিন পুতুল উপস্থিত ছিলেন। সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বিএনপি আগামীতে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় গেলে গণমাধ্যমকে পূর্ণ সহযোগিতা দেওয়া হবে। অতীতের ফ্যাসিবাদী সরকারের দমনপীড়নের অভিজ্ঞতা মাথায় রেখেই এ সহযোগিতা নিশ্চিত করা হবে।

Manual3 Ad Code

তিনি বলেন, প্রথম আলো ও ডেইলি স্টারে অগ্নিকান্ডের ঘটনা দেশের জন্য লজ্জার। এটা শুধু দুঃখ প্রকাশ করে চলবে না। রাজনীতিবিদরা রাষ্ট্রের চালক হলেও সাংবাদিকরা তাদের দিকনির্দেশক। এ সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দেরিতে আসার কারণ নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। রুহুল কবির রিজভী আহমেদ বলেন, ফ্যাসিবাদের ঘন কালো অন্ধকার পার হলেও এখনো শঙ্কা কাটেনি। মতামত ও বক্তব্যের কারণে কারোর ওপর হামলা হওয়া গ্রহণযোগ্য নয়।

যায়যায়দিন-এর সম্পাদক ও ‘লাল গোলাপ’খ্যাত জনপ্রিয় উপস্থাপক শফিক রেহমান বলেন, ওয়ান-ইলেভেনে কয়েকজন সাংবাদিক প্রচ- ভুল করেছিলেন। ব্যক্তিগতভাবে তারা আমার কাছে স্বীকার করেছিলেন। তারা ভুল করেছিলেন। এ ভুল যেন আর না হয়। আর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ফেরার দিন বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটতেও পারে। এয়ারপোর্টে অথবা রাস্তাঘাটে যে কোনোখানে অথবা অন্য শহরে। যারা ইলেকশন বানচাল করতে চায়, তারাই সেটাকে সেদিন খুব বড় করে দেখাবে। আমি বিএনপির আয়োজকদের সতর্ক থাকতে বলছি। তারেক রহমান যেদিন ফিরে আসবেন এবং তার পরবর্তী কয়েকদিন যেন কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা না ঘটে। এটা খুবই জরুরি।

মানবজমিনের প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী বলেন, আগামী দিনে চ্যালেঞ্জ যেটা আসছে, তা মোকাবিলা করতে হলে আমাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। আমরা যদি ঐক্যবদ্ধ না হই, রাষ্ট্র বিপন্ন হয়ে যাবে। সেই রাষ্ট্রের যদি অস্তিত্ব বিপন্ন হয়ে যায়, তাহলে আমরা কেউই থাকব না। বর্তমান পরিস্থিতিকে অস্থির ও কঠিন সময় উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশটা দুভাগে বিভক্ত। এই বিভাজনের মধ্যে কথা বলাও খুব ডিফিকাল্ট (কঠিন)। তবে আজকের এ অনুষ্ঠানে এসে আমার খুবই ভালো লেগেছে এ কারণে বিএনপির যে তিনজন নেতা বক্তৃতা করেছেন, আগামী দিনে দলটি ক্ষমতায় এলে মিডিয়া পলিসি কী হবে, তা সালাহউদ্দিন আহমদ ও রিজভী আহমেদের বক্তব্য থেকে স্পষ্ট। আমি খুবই আশাবাদী হতে চাই আগামী দিনে যদি এর সিকিভাগ বাস্তবায়িত হয়।

প্রথম আলোর সম্পাদক মতিউর রহমান বলেন, দেশের গণমাধ্যমের ওপর হামলার ঘটনায় দলমতনির্বিশেষে যারা আমাদের পাশে দাঁড়িয়েছে, এই রেশ বজায় থাকবে বলে বিশ্বাস করি। আগের ফ্যাসিবাদী শাসনামল ছিল গণমাধ্যমের জন্য কঠিন একটা সময়। এর আবসান ঘটবে বলেও আশাপ্রকাশ করেন তিনি। তিনি আরও বলেন, মিথ্যা মামলায় কয়েকজন সাংবাদিককে কারাগারে যাওয়ার মতোও ঘৃণ্য ঘটনার সাক্ষী হয়েছে দেশ।

Manual3 Ad Code

পত্রিকার মালিকানা বদলে দেওয়া, সম্পাদক পরিবর্তনসহ সরাসরি গণমাধ্যমের স্বাধীনতায় বাধা দেওয়া হতো।

তুলনামূলকভাবে বিএনপির শাসনামল গণমাধ্যমের জন্য অধিকতর স্বস্তিদায়ক ছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, তারা এ মুহূর্তে দেশের বৃহৎ দল। গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিতে তাদেরও বড় দায়িত্ব রয়েছে। নির্বাচন নিয়ে নিজেদের করা জরিপের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত বিএনপি বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ রাজনৈতিক দল, এটা স্বীকৃত। আমাদের জরিপ, আমরা যেটা করেছি। আমরা এটা বিশ্বাস করি যে জরিপটা মোটামুটি সত্যের কাছাকাছি বা মানুষের চিন্তা জগতের কাছাকাছি। সেখানে বিএনপি কিন্তু বৃহত্তম দল হিসেবে এসেছে। নির্বাচনে অনেক বেশি ভোট পেয়ে তারা বিজয়ী হবেন, সেটা কিন্তু আছে।

ডেইলি স্টারের সম্পাদক মাহফুজ আনাম বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে এর আগে কোনো মিডিয়া হাউসে আগুন দেওয়া হয়নি। সর্বপ্রথম প্রথম আলো-ডেইলি স্টারে এ ঘটনা ঘটেছে। তিনি বলেন, সমালোচনা ও মতপ্রকাশের ইস্যুকে অবশ্যই সুস্থ ধারার একটি প্ল্যাটফর্মে নিয়ে আসার জন্য সবাইকে কাজ করতে হবে।

বাংলাদেশ প্রতিদিনের নির্বাহী সম্পাদক মনজুরুল ইসলাম বলেন, বিএনপির মধ্যে কিছু লোক আছে, যাদের পকেটে ব্লাড টেস্ট করার মেশিন আছে। কে বিএনপি বা কে বিএনপি না। যখন বিরোধী দলে থাকে কোনো দল, তখন তাদের কাছে গণমাধ্যমের বিউটিটা খুব সুন্দর থাকে। এই সৌন্দর্যটা সরকারি দলে গেলে থাকে না। তিনি বলেন, রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে হোক আর গণতন্ত্র হোক, বিএনপি যদি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের গৃহীত পলিসিটা ধারণ করতে পারে তাহলে বিএনপি আগামীতে ভালো করবে। তিনি আরও বলেন, অতীতে হাওয়া ভবনকে কেন্দ্র করে তারেক রহমানের নামে অপবাদ দেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে যেন কোনো সিন্ডিকেটের কারণে তারেক রহমানের দুর্নাম না হয়।

অনুষ্ঠানে অতিথিরা প্রতি তিন বা ছয় মাসে অন্তত একবার করে হলেও গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে সার্বিক অবস্থার প্রেক্ষাপটে এ রকম মতবিনিময় আয়োজনের প্রতি দৃষ্টিপাত করেন।

Latif Travels
Metropolitan University

আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন

📞 মোবাইল: +8801712540420

✉️ ইমেইল: pavel.syl@gmail.com