বড্ড দুঃসময়ে চলে গেলেন ম্যাডাম
মন্জুরুল ইসলাম
হ্যাপি নিউ ইয়ার। বাংলাদেশ প্রতিদিন-এর সুপ্রিয় পাঠক, বিজ্ঞাপনদাতা ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান, শুভানুধ্যায়ীদের জানাচ্ছি নতুন বছরের শুভকামনা। ২০২৫-এর সব দুঃখ-বেদনা ভুলে নতুন বছরকে আজ হাসিমুখে, আনন্দচিত্তে বরণ করতে পারলে খুব ভালো লাগত। কিন্তু পাহাড়সমান এক বেদনায় গোটা জাতি মুহ্যমান। সদ্যগত বছরের একদম শেষ প্রান্তে এসে আমরা হারিয়েছি দেশের গর্ব, অহংকার, জাতীয় ঐক্যের প্রতীক, জাতির মহান অভিভাবক, আপসহীন নেত্রী বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে। ফ্যাসিবাদী শাসনাবসানের পর দেশ যখন নানান প্রতিকূল পরিস্থিতি মোকাবিলা করে গণতন্ত্রে উত্তরণের পথে যাত্রা করেছে, তখনই আমরা হারালাম ‘মাদার অব ডেমোক্র্যাসি’কে। তিনি ছিলেন সবার নেতা। তাঁর অসুস্থতার সময় দেশের সব শ্রেণি-পেশার মানুষ, সব রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মী সমস্ত ভেদাভেদ ভুলে জাতীয় নেতা বেগম খালেদা জিয়ার সুস্থতা কামনায় দোয়া করেছেন। একজন গৃহবধূ থেকে রাজনীতিতে এসে ৪৩ বছরের নিরবচ্ছিন্ন শ্রমসাধনা, সংগ্রাম-নেতৃত্বে তিনি দেশবাসীর শ্রদ্ধা-ভালোবাসার সর্বোচ্চ আসনে অধিষ্ঠিত হয়েছেন। দেশের এক চরম সংকটকালে তিনি রাজনীতিতে এসে দেশবাসীকে স্বৈরাচারের হাত থেকে মুক্ত করেছেন। তিনি কারও কাছে নেত্রী, কারও কাছে মা এবং কারও কাছে শ্রদ্ধেয় বড় বোনের মতো মর্যাদা পেয়েছেন। মহান আল্লাহর ডাকে তিনি পৃথিবী থেকে চলে গেছেন; কিন্তু কোটি কোটি মানুষের যে দোয়া, যে ভালোবাসা নিয়ে তিনি দুনিয়াকে বিদায় জানালেন তা সবার ভাগ্যে জোটে না। বাংলাদেশের সরকার, সব রাজনৈতিক ব্যক্তি ও সংগঠন, সব সেক্টরের সংগঠন ও প্রতিষ্ঠান এবং বিশ্বনেতারা বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। বসুন্ধরা গ্রুপ, এবিজি গ্রুপ এবং বাংলাদেশ প্রতিদিন পরিবারের পক্ষ থেকে গভীর শোক প্রকাশ করছি। সেই সঙ্গে আমরা তাঁর জন্য মহান আল্লাহর কাছে জান্নাতুল ফেরদৌস কামনা করছি।
বেগম খালেদা জিয়ার মতো এমন ধীশক্তিসম্পন্ন, বুদ্ধিদীপ্ত ও বিচক্ষণ রাজনীতিবিদ আমরা আর পাব কি না সন্দেহ। এমন বাংলাদেশদরদি নেতার মৃত্যুতে সরকার তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছে। তাঁর দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) সাত দিন শোক ঘোষণা করেছে। রাষ্ট্রীয় শোক, দলীয় শোক ঘোষণা নেতার প্রতি শ্রদ্ধা ও সম্মান প্রদর্শনের একটি অংশ। তিন দিন পর রাষ্ট্রের বিভিন্ন পর্যায়ে বেগম খালেদা জিয়ার কৃতিত্বপূর্ণ জীবন নিয়ে অনেকে আলোচনা করবেন। সাত দিন পর দলও শোককে শক্তিতে পরিণত করে আগামী নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি নেবে। কিন্তু সালাহউদ্দিন আহমদ, আমান উল্লাহ আমান, খায়রুল কবির খোকন, রুহুল কবির রিজভী, রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, আতিকুর রহমান রুমনের মতো যে লাখ লাখ নেতা-কর্মী তাঁর স্নেহ, ভালোবাসা ও আদর্শে বড় হয়েছেন, তাঁরা কীভাবে তাঁদের হৃদয়ে নেত্রীর শূন্যতা পূরণ করবেন? তাঁরা কোথায় খুঁজে পাবেন তাঁদের মায়ের মতো নেত্রীর হাস্যোজ্জ্বল মুখ? কোথায় খুঁজে পাবেন বটবৃক্ষের মতো নেত্রীর স্নেহের শীতল ছায়া?
অবুঝ শৈশবেই পিতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে হারিয়েছেন, প্রবাসে ভাই কোকোকে হারিয়েছেন এবং ১৭ বছর নির্বাসিত জীবন পার করে দেশে ফিরেই প্রাণপ্রিয় মা বেগম খালেদা জিয়াকে হারালেন তারেক রহমান। এই পৃথিবীতে তাঁকে সান্ত্বনা দেওয়ার মতো কোনো ভাষা কারও জানা নেই। মায়ের ঘরে প্রবেশ করলে এক ভয়াবহ শূন্যতা তাঁকে আঁকড়ে ধরবে। চোখের পানিতে বুক ভাসবে কিন্তু মাকে ফিরে পাবেন না। মায়ের রেখে যাওয়া দেশ ও দেশের মানুষের গুরুদায়িত্ব এখন তাঁর কাঁধে। চিকিৎসক পুত্রবধূ জুবাইদা রহমান, যিনি শাশুড়ির সেবা করার জন্য লন্ডন থেকে ঢাকায় আসেন, তিনিও আজ শোকে পাথর। তাঁদের একমাত্র কন্যা ব্যারিস্টার জাইমা রহমানের ইচ্ছা ছিল দাদুর পাশে থাকার। সেই প্রিয় দাদু তাঁকে রেখে চলে গেছেন না-ফেরার দেশে।
আপনারা স্বামী-স্ত্রী দেশ ও দেশের মানুষের জন্য কাজ করেছেন। এর প্রতিদান দিতে দেশবাসী কার্পণ্য করেনি। আপনাদের অসমাপ্ত কাজের দায়িত্ব রেখে গেলেন সুযোগ্য পুত্র তারেক রহমানের ওপর। নিশ্চয় আপনারা দুজন মহান আল্লাহর কাছে সম্মানের স্থানই লাভ করবেন। আর আপনাদের সন্তানকেও বাংলাদেশের মানুষ সসম্মানে, আপনাদের মতোই ভালোবেসে বুকে জড়িয়ে রাখবে। আল্লাহ হাফেজ ম্যাডাম বেগম খালেদা জিয়া
বড্ড দুঃসময়ে চলে গেলেন ম্যাডামবাংলাদেশের রাজনীতিতে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এবং বেগম খালেদা জিয়ার সততা নিয়ে এখন পর্যন্ত কেউ কোনো প্রশ্ন তুলতে পারেনি। তার পরও বিগত ফ্যাসিস্ট সরকার খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে মিথ্যা দুর্নীতির অভিযোগ উত্থাপন করে। সেই অভিযোগে তাঁকে কারাগারেও যেতে হয়। একটি পরিবারের একজন ছিলেন রাষ্ট্রপতি, আরেকজন তিনবারের প্রধানমন্ত্রী। কিন্তু এই পরিবারের তেমন কোনো সম্পদ নেই। একটি বাড়ি আছে, যা সরকারিভাবে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। জিয়াউর রহমানের নামে আরেকটি ৮ কাঠার প্লট আছে ঢাকার দক্ষিণখানের আর্মি সোসাইটিতে। স্বাধীনতার পর সিনিয়র আর্মি অফিসাররা নিজেদের টাকায় জমি কিনে প্লট আকারে বরাদ্দ নিয়েছিলেন। মেজর মতিউর, পরে যিনি পীর মতিউর হিসেবে পরিচিত, তাঁর উদ্যোগে এ জমি কেনা হয়েছিল। এর বাইরে পারিবারিক সম্পদ ছাড়া আর কোনো জমি বা সম্পদ জিয়া পরিবারের নেই। অথচ রূপগঞ্জে এখন যে পূর্বাচল উপশহর গড়ে উঠছে সেটি বেগম খালেদা জিয়ার উদ্যোগেই হয়েছে। প্রকল্পটি গ্রহণ করার সময় রূপগঞ্জের সংসদ সদস্য ছিলেন আবদুল মতিন চৌধুরী। ১৯৯১ সালের নির্বাচনে বিজয়ী হয়েই বেগম জিয়া বুঝতে পেরেছিলেন দিনদিন ঢাকা ঝুঁকির শহরে পরিণত হবে। সে কারণে একটি আধুনিক শহর গড়ে তুলতে পূর্বাচল প্রকল্প গ্রহণ করার জন্য মতিন চৌধুরীকে দায়িত্ব দেন। সেই পূর্বাচল শহরে জিয়া পরিবারের নামে একটি প্লটও নেই। ১৯৯০ সালের পর আজকের বাংলাদেশের যত মৌলিক উন্নয়ন হয়েছে সবই করেছেন বেগম খালেদা জিয়া। আর্থিক খাতের শৃঙ্খলা, ভ্যাট প্রবর্তন, নারীর ক্ষমতায়ন, কন্যাশিশু সুরক্ষা, বেকারদের কর্মসংস্থান, নতুন শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়া, দেশি উদ্যোক্তাদের প্রতিষ্ঠিত করা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় র্যাব প্রতিষ্ঠা, সশস্ত্র বাহিনীকে সময়োপযোগী করে গড়ে তোলাসহ আইকনিক সব কাজই করেছেন বেগম খালেদা জিয়া। তাঁর হাত ধরেই বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে মর্যাদার আসন লাভ করেছে। জিয়াউর রহমানের অনেক অসমাপ্ত কাজই তিনি সমাপ্ত করেছেন। তিনবার প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পরও দুর্নীতি তাঁকে স্পর্শ করেনি। তিনি ছিলেন বিচক্ষণ রাজনৈতিক নেতা, দূরদর্শী প্রশাসক ও সফল রাষ্ট্রনায়ক। তাঁর সঙ্গে শুধু তাঁরই তুলনা চলে।
রাজনীতিতে বেগম খালেদা জিয়ার প্রজ্ঞা, মেধা ও গ্রহণযোগ্যতা সবার কাছেই ছিল প্রশংসিত। প্রেসিডেন্ট হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ, ফখরুদ্দীন-মইন উদ্দিনের ওয়ান-ইলেভেনের সরকার এবং শেখ হাসিনার বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় বিএনপি ভাঙার বারবার চেষ্টা করা হয়েছে। ওয়ান-ইলেভেনের সরকার তাঁকে দেশত্যাগে বাধ্য করার চেষ্টা করেছে অনেকবার। কিন্তু দেশপ্রেমিক খালেদা জিয়াকে কেউ কোনোভাবেই টলাতে পারেনি। তিনি দ্ব্যর্থহীন ভাষায় বলেছিলেন, ‘এই দেশ ছাড়া বিদেশে আমার কোনো ঠিকানা নেই। আমি এই দেশ ছেড়ে কোথাও যাব না। এই দেশেই আমি জন্মেছি, এই দেশেই আমার মৃত্যু হবে।’ দল ভাঙার সব অপশক্তির ষড়যন্ত্র তিনি অত্যন্ত শক্ত হাতে প্রতিহত করে বিএনপিকে সুসংহত রেখেছেন। বিএনপির প্রতিষ্ঠাতাদের মধ্যে এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী, কে এম ওবায়দুর রহমানসহ অনেকেই দল ছেড়ে গেছেন। নতুন বিএনপিও গঠন করার চেষ্টা করেছেন। কিন্তু তিনি পেছন ফিরে তাকাননি। দলের বৃহত্তর স্বার্থে আবদুল মান্নান ভূঁইয়ার মতো ত্যাগী নেতাকেও বহিষ্কার করতে বিন্দুমাত্র দ্বিধা করেননি। তাঁর দৃষ্টি ছিল সামনের দিকে, দিগন্ত প্রসারিত। তিনি তাঁর উদার গণতান্ত্রিক চিন্তা-চেতনা থেকে জামায়াতে ইসলামী, হেফাজতে ইসলামসহ অন্যান্য ইসলামি ও ডান-বাম সব দলকে এক ছাতার নিচে স্থান দিয়েছেন। সবাইকে এক টেবিলে বসিয়ে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। হেফাজতের নেতা-কর্মীদের ওপর শাপলা চত্বরে যখন নির্মম হত্যাকাণ্ড চালানো হয়, তিনি তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে দলের নেতা-কর্মীদের নির্দেশ দিয়েছিলেন হেফাজতের পাশে দাঁড়াতে। জামায়াতে ইসলামীকেও তিনি দীর্ঘদিন জোটে রেখেছিলেন। তাঁর মন্ত্রিসভায় জামায়াতের দুই নেতাকে মন্ত্রীও করেছিলেন। জামায়াতকে গুরুত্ব দেওয়ার প্রতিবাদে একসময় বিএনপি নেতা ও মন্ত্রী কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীরবিক্রম বিএনপি ছেড়ে নতুন দল গঠন করেছিলেন। অবশ্য সেই অলি আহমদ আবার জামায়াতের সঙ্গেই সম্প্রতি নির্বাচনি জোটবদ্ধ হলেন! বেগম জিয়া বুঝতে পারতেন কে কেমন। মানুষ চিনতে ভুল করেননি তিনি। গণতন্ত্রের স্বার্থে সবাইকে নিয়ে রাজনীতি করেছেন। তিনি যখন প্রধানমন্ত্রী ছিলেন, তখন মন্ত্রিপরিষদের বৈঠকে সবার কথা মনোযোগ দিয়ে শুনে নিজের সুচিন্তিত মতামত দিতেন। দলের স্থায়ী কমিটির সভায়ও সবার কথা শুনে সিদ্ধান্ত দিতেন। এমনকি সাতদলীয় বা পরে ২০-দলীয় জোটের সভায়ও সবার মতামতের প্রতি সম্মান রেখে তিনি সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতেন। সে কারণে অন্য রাজনৈতিক দলের নেতারাও বেগম খালেদা জিয়াকে সবার নেতা হিসেবে বিবেচনা করতেন। মৃত্যুর আগে তিনি যখন গুরুতর অসুস্থ হয়ে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন, তখন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস, উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য, জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানসহ সব দলের নেতা হাসপাতালে ছুটে গেছেন। সে সময় প্রত্যেকে মনে করেছেন বেগম খালেদা জিয়া হলেন জাতির অভিভাবক। সব দলের, সব মানুষের নেতা। তিনি তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে দেশ ও দেশের মানুষের কল্যাণেই কাজ করেছেন। সে কারণেই তিনি দেশনেত্রী। কোনো অন্যায়ের সঙ্গে কখনো আপস করেননি। সে কারণেই তিনি আপসহীন নেত্রী। দেশের যেকোনো সংকটে তিনি ঐক্যের আহ্বান জানালে সবাই তাতে সাড়া দিতেন। সে কারণেই তিনি হয়ে ওঠেন জাতীয় ঐক্যের প্রতীক।
দীর্ঘ প্রায় ১৭ বছরের দুঃশাসনের পর চব্বিশের গণ অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার রাষ্ট্র পরিচালনা করছে। এ সরকার প্রতিষ্ঠার পরপরই বেগম খালেদা জিয়া সর্বাত্মক সহযোগিতা করার আশ্বাস দিয়েছিলেন। এখন পর্যন্ত তাঁর দল বিএনপি বর্তমান সরকারকে সব রকম সহযোগিতা করছে। নির্বাচন নিয়ে যখন সংকট তৈরি হয় তখন তিনিই প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে কথা বলে সমঝোতা করেন। তার পরই বিএনপি ডিসেম্বরে নির্বাচনের দাবি থেকে সরে ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন অনুষ্ঠানে সরকারের সিদ্ধান্ত মেনে নেয়। আমরা এখন নির্বাচনি রোডম্যাপে আছি। নির্বাচন বানচাল ও দেশের মধ্যে অশান্তি সৃষ্টি করতে নানান দুষ্টচক্র তৎপর হয়ে উঠেছে। আমরা এখন চরম দুঃসময় পার করছি। এমন এক ক্রান্তিকালে, দেশের বড্ড দুঃসময়ে চলে গেলেন ম্যাডাম। বাংলাদেশ যত দিন থাকবে তত দিন দেশের মানুষের হৃদয়ে বেগম খালেদা জিয়া বেঁচে থাকবেন। বাংলাদেশের ইতিহাস, গণতন্ত্রের ইতিহাস, সাম্যের ইতিহাস, মানবকল্যাণের ইতিহাস লিখতে গেলে ম্যাডাম খালেদা জিয়ার নাম লিখতে হবে। তিনি বাংলাদেশের ইতিহাসের অনেকটা অংশজুড়ে থাকবেন। বছরের শেষ দিনে তাঁর প্রতি দেশের মানুষের যে ভালোবাসা তা আবারও প্রমাণ হলো ইতিহাসের স্মরণীয় জানাজার নামাজের মধ্য দিয়ে। একই স্থানে তাঁর স্বামী শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের জানাজার নামাজও অনুষ্ঠিত হয়েছিল। শহীদ জিয়ার জন্য সেদিনও দেশের মানুষ কান্নায় বুক ভাসিয়েছিল। আপনারা স্বামী-স্ত্রী দেশ ও দেশের মানুষের জন্য কাজ করেছেন। এর প্রতিদান দিতে দেশবাসী কার্পণ্য করেনি। আপনাদের অসমাপ্ত কাজের দায়িত্ব রেখে গেলেন সুযোগ্য পুত্র তারেক রহমানের ওপর। নিশ্চয় আপনারা দুজন মহান আল্লাহর কাছে সম্মানের স্থানই লাভ করবেন। আর আপনাদের সন্তানকেও বাংলাদেশের মানুষ সসম্মানে, আপনাদের মতো ভালোবেসে বুকে জড়িয়ে রাখবে। আল্লাহ হাফেজ ম্যাডাম বেগম খালেদা জিয়া।
লেখক : নির্বাহী সম্পাদক, বাংলাদেশ প্রতিদিন
manju209@yahoo.com
বিডি প্রতিদিন