• সিলেট, দুপুর ১২:২১, ১৭ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

নবীজি (সা.) বললেন

admin
প্রকাশিত জানুয়ারি ১০, ২০২৬
নবীজি (সা.) বললেন

Manual6 Ad Code

দারিদ্র্য ও বেকারত্ব নিরসনে মহানবী (সা.)

আবদুল্লাহ আলমামুন আশরাফী

 

 

দারিদ্র্য ও বেকারত্বের সমস্যা শুধু আধুনিক বিশ্বের নয়, অতীতেও ছিল। রসুল (সা.) এর সমাধানে বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিলেন। এ ক্ষেত্রে তাঁর প্রথম নির্দেশনা ছিল-বেকার ব্যক্তিরা বসে না থেকে যেকোনো ধরনের কাজ ও পেশায় নিয়োজিত থাকা। নবীরাও বিভিন্ন পেশায় নিয়োজিত ছিলেন। তাঁরা মানুষের সামনে কর্মের এবং হালাল উপার্জনের উচ্চমানের আদর্শ ও দৃষ্টান্ত রেখে গেছেন। যেমন রসুল (সা.) হজরত দাউদ (আ.)-এর ক্ষেত্রে বলেন, ‘নিজ হাতে উপার্জিত খাদ্যের চেয়ে উত্তম খাদ্য কখনো কেউ খায়নি। আল্লাহর নবী দাউদ (আ.) নিজ হাতে উপার্জন করে খেতেন’ (সহিহ বুখারি)।

কোনো বৈধ কাজই তুচ্ছ নয়

রসুল (সা.) সব (বৈধ) কর্মকেই সম্মান, মর্যাদা ও গুরুত্বের চোখে দেখতেন। কেননা মানুষের কাছে হাত পাতা এবং তাদের সামনে লাঞ্ছিত হওয়ার চেয়ে নিজে কাজ করে খাওয়াই উত্তম। এ বিষয়টি রসুল (সা.) তাঁর হাদিসে ফুটিয়ে তুলেছেন এভাবে-

‘তোমাদের কেউ যদি পিঠে করে কাঠের বোঝা বয়ে আনে এবং তা বিক্রি করে, যার মাধ্যমে আল্লাহ তার চেহারাকে (ভিক্ষা করার লাঞ্ছনা থেকে) রক্ষা করেন, তার জন্য এটাই উত্তম-মানুষের কাছে হাত পেতে বেড়ানোর চেয়ে। যে হাত পাতার ফলে মানুষ তাকে কিছু দিতেও পারে, আবার নাও দিতে পারে।’ (সহিহ বুখারি)।

অর্থনৈতিক প্রকল্প তৈরিতে উৎসাহ প্রদান

রসুল (সা.) বিভিন্ন অর্থনৈতিক প্রকল্প তৈরির ব্যাপারে অনুপ্রাণিত করেছেন। তাদের বর্গা চাষের প্রতি উৎসাহিত করেছেন। যেমন দরিদ্র ও নিঃস্ব অবস্থায় মদিনায় আগত মুহাজির মুসলমানদের সঙ্গে আনসার সাহাবীরা করেছিলেন। এ বিষয়ে হজরত আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণনা করেন, আনসার সাহাবিরা রসুল (সা.)-এর কাছে এসে বললেন, ‘আমাদের এবং আমাদের ভাইদের (মুহাজিরদের) মধ্যে খেজুরের বাগান ভাগ করে দিন।’

নবীজি (সা.) বললেন, ‘না।’

তখন তারা মুহাজিরদের বললেন, ‘আপনারা আমাদের বাগানে কাজ করুন, আমরা আপনাদের বাগানের ফলের মধ্যে অংশীদার করে নেব।’ তখন মুহাজিররা বললেন, ‘আমরা শুনলাম এবং মানলাম; অর্থাৎ তারা এই প্রস্তাবে রাজি হলেন (সহিহ বুখারি)।

স্বনির্ভরতার এক চমৎকার গল্প

দারিদ্র্য ও বেকারত্ব নিরসনের এসব নীতি-আদর্শ ও মূল্যবোধ সাহাবায়ে কেরামের জীবনে দারুণভাবে জাগিয়ে তুলতেন রসুল (সা.)। এ ক্ষেত্রে চমৎকার ও একটি শিক্ষণীয় গল্প ইতিহাসের পাতায় স্বর্ণাক্ষরে লিপিবদ্ধ আছে।

Manual5 Ad Code

হজরত আনাস (রা.) বর্ণিত : একবার এক ব্যক্তি এসে নবীজি (সা.)-এর কাছে হাত পাতল। নবীজি (সা.) তাকে জিজ্ঞাসা করলেন, ‘তোমার ঘরে কি কিছু নেই?’

লোকটি বলল, ‘একটি গালিচা আছে, যার কিছু অংশ আমরা পরিধান করি এবং কিছু অংশ বিছিয়ে রাখি। একটি পাত্রও আছে, তাতে আমরা পানি পান করি।’

নবীজি (সা.) বললেন, ‘সেগুলো আমার কাছে নিয়ে এসো।’

লোকটি সেগুলো নিয়ে এলে মহানবী (সা.) তা হাতে নিয়ে বললেন, ‘এ দুটি কে ক্রয় করবে?’

এক ব্যক্তি বলল, ‘আমি এগুলো এক দিরহামে ক্রয় করব।’

Manual2 Ad Code

নবীজি (সা.) তখন আরও দুইবার অথবা তিনবার বললেন, ‘কেউ কি এর অধিক মূল্য দেবে?’

Manual3 Ad Code

আরেকজন বলল, ‘আমি দুই দিরহামে নেব।’

Manual7 Ad Code

নবীজি (সা.) তখন ওই ব্যক্তিকে জিনিস দুটি দিয়ে তার থেকে দিরহাম দুটি গ্রহণ করলেন। এরপর সেই ব্যক্তিকে তা প্রদান করে বললেন, ‘এক দিরহাম দিয়ে খাবার কিনে পরিবার-পরিজনকে দাও এবং আরেক দিরহামে একটি কুঠারের ফলা কিনে আমার কাছে নিয়ে এসো।’

লোকটি তাই করল। এবার নবীজি (সা.) নিজ হতে সেই লৌহ কুঠারে একটি হাতল লাগিয়ে দিয়ে বললেন, ‘যাও, তুমি এটা দিয়ে কাঠ কেটে বাজারে বিক্রি করো এবং পনেরো দিন অতিবাহিত হওয়ার আগে আমার সঙ্গে আর দেখা করবে না।’

লোকটি কুঠার হাতে চলে গেল। কাঠ কেটে বাজারে বিক্রি করতে লাগল। পনেরো দিন পার হলে সে নবীজি (সা.)-এর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে এলো। ইতোমধ্যে সে দশ দিরহাম উপার্জন করেছে। সে এর থেকে কিছু দিয়ে কাপড় এবং কিছু দিয়ে খাবার কিনল। এবার নবীজি (সা.) তাকে বললেন, ‘ভিক্ষার কারণে কেয়ামতের দিন মুখমণ্ডলে দাগ নিয়ে ওঠার চেয়ে এটাই তোমার জন্য উত্তম।’ এরপর নবীজি (সা.) আরও বললেন, তিন ব্যক্তি ছাড়া কারও জন্য অন্যের কাছে হাত পেতে বেড়ানো বৈধ নয়। ১. প্রচণ্ড দরিদ্র ব্যক্তি, ২. ঋণে জর্জরিত ব্যক্তি এবং ৩. যার ওপর রক্তপণ আছে, অথচ সে তা পরিশোধ করতে অক্ষম। (সুনানে আবু দাউদ : ১৬৪১)।

লেখক: মুহাদ্দিস, জামিয়া গাফুরিয়া মাখযানুল উলুম, টঙ্গী, গাজীপুর

 

বিডি প্রতিদিন

Latif Travels
Metropolitan University

আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন

📞 মোবাইল: +8801712540420

✉️ ইমেইল: pavel.syl@gmail.com