• সিলেট, রাত ৪:২০, ৬ই নভেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

পুরান ঢাকার সমস্যার স্থায়ী সমাধানের প্রতিশ্রুতি ইশরাকের

admin
প্রকাশিত জানুয়ারি ২৩, ২০২৬
পুরান ঢাকার সমস্যার স্থায়ী সমাধানের প্রতিশ্রুতি ইশরাকের

Manual1 Ad Code

পুরান ঢাকার সমস্যার স্থায়ী সমাধানের প্রতিশ্রুতি ইশরাকের

Manual5 Ad Code

 

অনলাইন ডেস্ক

 

পুরান ঢাকার দীর্ঘদিনের গ্যাস সংকট, জলাবদ্ধতা, ভাঙা রাস্তা, দূষণ ও ট্রাফিক জ্যামের মতো জটিল সমস্যাগুলোর স্থায়ী সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন ঢাকা-৬ আসনের বিএনপির মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন। তিনি বলেছেন, উন্নয়ন ও গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার মাধ্যমেই পুরান ঢাকাকে বাসযোগ্য নগরীতে রূপান্তর করা হবে।

Manual5 Ad Code

শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) রাজধানী সুরিটোলা স্কুলের সামনে দ্বিতীয় দিনের মতো নির্বাচনী প্রচারণার শুরুতে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।

ইশরাক হোসেন বলেন, ‘জনগণ অত্যন্ত উচ্ছ্বসিত এবং তারা অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন।আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিয়ে তাদের জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত করার জন্য অপেক্ষা করছেন। আমরাও সবাইকে উদ্বুদ্ধ করেছি, যাতে সবাই ভোটকেন্দ্রে যায় এবং তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করে।’

তিনি বলেন, ‘পুরান ঢাকার যে স্থানীয় সমস্যাগুলো রয়েছে, যেমন গ্যাস সংকট এখন মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। রাস্তাঘাট ভেঙে চুরমার হয়ে গেছে। বিভিন্ন জায়গায় খোলা ড্রেনেজ রয়েছে, যেখানে নর্দমার মতো পানি জমে থাকে। এ ছাড়া আমাদের এখানে জলাবদ্ধতা, দূষণ এবং ট্রাফিক জ্যামসহ নানাবিধ সমস্যায় জর্জরিত এই পুরান ঢাকার অঞ্চলটি। এসব সমস্যা সমাধানের প্রতিশ্রুতি আমরা দিচ্ছি।’

তিনি আরো বলেন, ‘পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদে বাংলাদেশে যে সংস্কারগুলো আমরা করতে চাই, তার মধ্যে স্থায়ীভাবে একটি তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করে বাংলাদেশের গণতন্ত্রকে স্থায়ীভাবে প্রতিষ্ঠা করাও আমাদের লক্ষ্য। বিগত দিনে সংঘটিত সব গণহত্যা, গুম ও খুনের সঠিক বিচার করার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছি। আমরা সবার কাছে ‘হ্যাঁ’ ভোটের জন্য প্রচারণা চালাচ্ছি।’

গত এক দিন আগে একজন প্রার্থী বলেছেন— ঢাকার একটা সিট কাউকে দেব না, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে ইশরাক বলেন, ‘এটা অত্যন্ত দুঃখজনক যে, এ ধরনের মন্তব্য একজন প্রার্থী করেছেন। আমি বলব, এসব কথা বলার কারণে তারা এখন হাস্যরসের পাত্রে পরিণত হয়েছেন। তারা এসব কথা বলছেন, কেবলমাত্র তাদের নেতাকর্মীদের উজ্জীবিত রাখার জন্য। তারা যেভাবে বলে, সেভাবে আমরা বলব না। আমরা তাদের মতো নই।’

Manual5 Ad Code

ইশরাক হোসেন বলেন, ‘আমরা আন্দোলন-সংগ্রাম করে এই জায়গায় এসেছি, ভেসে আসিনি। আমাদের দীর্ঘ ১৭ বছরের ত্যাগ রয়েছে। আমাদের বহু ভাইয়ের রক্ত রয়েছে। তারা কোথায় ছিল? তারা তো হঠাৎ করে বের হয়েছে ২৪ এর ৫ আগস্টের পরে। এই গুপ্ত বাহিনী হঠাৎ করে উদয় হয়েছে। এর আগে আমরা দেখেছি, তারা ভোরবেলা ছয়টার সময়, যখন রাস্তাঘাটে জনগণ থাকত না, তখন চুপ করে অন্ধকারে বের হয়ে মিছিল করে চলে যেত এই ছিল তাদের আন্দোলন।’

তিনি আরো বলেন, ‘আমরা রাজপথে বুক ফুলিয়ে রক্ত দিয়েছি, গুলির মুখে দাঁড়িয়েছি। আমাদের হত্যা করা হয়েছে, ১৭ বছর ধরে গুম-খুনের শিকার হয়েছি। আমরা কোনো সময় পিছু হটিনি। তাই এখন তারা যা বলছে, তারাও জানে ঢাকা শহরের সবগুলোর জামানত বাজেয়াপ্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে তাদের। এসব কেবল তাদের নেতাকর্মীদের উৎসাহ জাগানোর জন্য বলছে।’

দুর্নীতি-চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে বিএনপি মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘আমরা কথা দিচ্ছি, যারা অবৈধভাবে বিভিন্ন জায়গায় স্থাপনা নির্মাণ করছে ফুটপাতে, রাস্তায় অবৈধ স্থাপনা গড়ে তুলছে এবং সেখান থেকে চাঁদা তুলছে, তাদের ব্যাপারে আমরা জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছি। কোনো অবৈধ স্থাপনা ও অবৈধ কর্মকাণ্ড আমাদের দল অনুমোদন করে না। আমরাও এর বিরুদ্ধে জোরালো অবস্থান নিয়েছি।’

পোস্টাল ব্যালট নিয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নে জবাবে ইশরাক হোসেন বলেন, ‘এটি যেহেতু আমাদের দল থেকে দেওয়া একটি স্টেটমেন্ট, আমি সেখানেই থাকছি। এই ব্যাপারে কেন্দ্রীয়ভাবে কমিশনের সঙ্গে যোগাযোগ করে একটি সমাধানে যাওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে আমি বলব, পোস্টাল ব্যালটের বিষয়টি আরো সতর্কভাবে হ্যান্ডলিং করতে হবে। একটি ঠিকানায় ২৫০টি পোস্টাল ব্যালট যাওয়া একটি অশুভ সংকেত। তাই সবাইকে সজাগ থাকতে হবে। যদি কারো কোনো গাফিলতি থাকে, এখনো সময় আছে, তা সংশোধন করা সম্ভব।’

তিনি আরো বলেন, ‘পোস্টাল ব্যালটের জন্য আলাদা কেন্দ্র রয়েছে এবং সেখানে আলাদাভাবে গণনা হবে। সেখানে যদি কোনো অনিয়ম হয়, তাহলে পোস্টাল ব্যালটকে চূড়ান্ত ফলাফলে আমলে নেওয়া যাবে না।’

ঢাকা-৬ আসন থেকে আপনি জয়ী হতে পারবেন কি না, নিশ্চিত কিনা—প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমি জয়ের ব্যাপারে নিশ্চিত কি না তা বলতে পারছি না। তবে আমি অত্যন্ত আশাবাদী। ঢাকা-৬ এবং পুরান ঢাকার জনগণ ধানের শীষের পক্ষে ভোট দিয়ে এই আসনটি বিপুল ভোটে জয়লাভ করিয়ে দলকে উপহার দেবে এই আশাবাদ আমার আছে।’

কর্মসংস্থান ও নারীদের উন্নয়নের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘কর্মসংস্থান ও নারীদের উন্নয়নের বিষয়ে আমাদের ৩১ দফার মধ্যে বিস্তারিত বলা আছে। আমরা বলেছি আগামী এক বছরে কতগুলো কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে চাই এবং কিভাবে করতে চাই। ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের ফ্যাসিলিটেট করে তারাও যাতে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে পারে, সে উদ্যোগ আমাদের রয়েছে। নারীদের ক্ষমতায়নের ব্যাপারেও আমাদের ব্যাপক পরিকল্পনা রয়েছে ফ্যামিলি কার্ড, নারীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করা, নারীদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থাপনা, গণপরিবহনসহ বিভিন্ন জায়গায় যাতে তারা স্বস্তিতে চলাফেরা করতে পারে, সে ব্যবস্থাও অন্তর্ভুক্ত।’

এসময় স্থানীয় বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী ও এলাকাবাসী উপস্থিত ছিলেন। পরে তিনি বিভিন্ন এলাকায় লিফলেট ও গণসংযোগ করেন।

Manual4 Ad Code

বিডি প্রতিদিন

Latif Travels
Metropolitan University

আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন

📞 মোবাইল: +8801712540420

✉️ ইমেইল: pavel.syl@gmail.com