• সিলেট, দুপুর ২:২০, ২৪শে আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

ইতিহাস গড়লেন সিইসি নাসির উদ্দিন

admin
প্রকাশিত ফেব্রুয়ারি ১৭, ২০২৬
ইতিহাস গড়লেন সিইসি নাসির উদ্দিন

Manual8 Ad Code

সিইসি এএমএম নাসির উদ্দিন/ফাইল ছবি

ইতিহাস গড়লেন সিইসি নাসির উদ্দিন

অনলাইন ডেস্ক

 

 

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংসদ সদস্য পদে নির্বাচিতদের কোনও বিভাজন ছাড়াই শপথ পাঠ করিয়ে ইতিহাস গড়লেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এএমএম নাসির উদ্দিন।

Manual5 Ad Code

মঙ্গলবার সকালে তিনি দ্বিতীয় কোনও সিইসি হিসেবে শপথ পাঠ করান। এর আগে একজন সিইসি এই সুযোগ পেলেও সকল দলের সদস্যদের শপথ পাঠ করাতে পারেননি।

সংবিধান অনুযায়ী, জাতীয় সংসদের স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার অনুপস্থিত থাকায় এই দায়িত্ব এসে পড়ে সিইসির ওপর।

দ্বাদশ জাতীয় সংসদের স্পিকার শিরিন শারমিন চৌধুরী জুলাই আন্দোলনের পর পদত্যাগ করেন। তিনি কোথায় আছেন, তার কোনও হদিস নেই। আর ডেপুটি স্পিকার কারাবন্দি রয়েছেন। এই অবস্থায় সোমবার সংসদ সচিবালয়ের সচিব ইসি সচিবকে শপথ পাঠ করানোর জন্য চিঠি দেন।

Manual4 Ad Code

চিঠিতে সংসদ সচিবালয়ের সচিব কানিজ মওলা উল্লেখ করেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের ২৯৭টি নির্বাচনী এলাকার ফলাফল এবং গণভোটের ফলাফল সরকারি গেজেটে ১৩ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত হয়েছে। গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়যুক্ত হয়েছে। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ১৪৮(২ক) অনুচ্ছেদে সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণ সম্পর্কিত নিম্নরূপ বিধান রয়েছে:

১৪৮ (২ক)। ১২৩ অনুচ্ছেদের (৩) দফার অধীন অনুষ্ঠিত সংসদ সদস্যদের সাধারণ নির্বাচনের ফলাফল সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপিত হইবার তারিখ হইতে পরবর্তী তিন দিনের মধ্যে এই সংবিধানের অধীন এতদুদ্দেশ্যে নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা তদুদ্দেশ্যে অনুরূপ ব্যক্তি কর্তৃক নির্ধারিত অন্য কোনো ব্যক্তি যে কোনো কারণে নির্বাচিত সদস্যদের শপথ পাঠ পরিচালনা করিতে ব্যর্থ হইলে বা না করিলে, প্রধান নির্বাচন কমিশনার উহার পরবর্তী তিন দিনের মধ্যে উক্ত শপথ পাঠ পরিচালনা করিবেন, যেন এই সংবিধানের অধীন তিনিই ইহার জন্য নির্দিষ্ট ব্যক্তি।

উক্ত বিধান মতে আগামী ১৬ ফেব্রুয়ারি, সোমবার গেজেট প্রকাশের পরবর্তী ৩ দিন সমাপ্ত হবে। জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫-এর অনুচ্ছেদ ৮ অনুসারে নির্বাচিত প্রতিনিধিগণ সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ গ্রহণের পর একই শপথ অনুষ্ঠানে উক্ত আদেশের তফসিল-১ অনুযায়ী পরিষদ সদস্য হিসেবে শপথ গ্রহণ করবেন। উক্ত বিধান অনুযায়ী সংসদ সদস্যদের সাধারণ নির্বাচনের ফলাফল সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপিত হওয়ার তারিখ হতে পরবর্তী তিন দিনের মধ্যে শপথ পাঠ পরিচালনার উল্লেখ রয়েছে।

Manual8 Ad Code

এছাড়া, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের তৃতীয় তফসিলের ৫ অনুচ্ছেদে স্পিকার কর্তৃক সংসদ সদস্যদের শপথ (বা ঘোষণা) পাঠ পরিচালনার উল্লেখ রয়েছে।

চিঠিতে আরও বলা হয়, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ১৪৮ (২ক) অনুচ্ছেদে উল্লেখিত প্রথম তিন দিন সোমবার শেষ হচ্ছে।

ফলে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ১৪৮ (২ক) অনুচ্ছেদ অনুসারে মঙ্গলবার হতে তিন দিনের মধ্যে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ পাঠ পরিচালনার জন্য নির্দিষ্ট ব্যক্তি প্রধান নির্বাচন কমিশনার। এ পরিপ্রেক্ষিতে ১৭ হতে ১৯ ফেব্রুয়ারির মধ্যে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের এবং সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্যদের শপথ পাঠ পরিচালনার জন্য সময় ও স্থান নির্ধারণ করার নিমিত্ত বিষয়টি প্রধান নির্বাচন কমিশনার মহোদয়কে অনুরোধ করা হলো।”

এই পরিপ্রেক্ষিতে প্রধান নির্বাচন কমিশনার মঙ্গলবার সকাল ১০টা থেকে সংসদের শপথ কক্ষে শপথ পাঠ করানোর সময় দেন। পরবর্তীতে ইসি সচিব আখতার আহমেদ ওই দিনই সংসদ সচিবকে বিষয়টি জানিয়ে দেন।

ইসি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গণঅভ্যুত্থানে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের পতনের পর ১৯৯১ সালের নির্বাচনের সময়কার প্রধান নির্বাচন কমিশনার বিচারপতি আব্দুর রউফ এর আগে পঞ্চম জাতীয় সংসদের নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ পাঠ করিয়েছিলেন। তবে সে সময় তিনি সুপ্রিম কোর্টের রেফারেন্স অনুসারে এই দায়িত্ব পেয়েছিলেন।

সে সময়কার ইসির সহকারী সচিব জেসমিন টুলি এ বিষয়ে বলেন, গণঅভ্যুত্থানে সরকার পতনের পর যে নির্বাচন হয়েছিল, তখন আব্দুর রউফ স্যার ছিলেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার। তিনি নবনির্বাচিতদের শপথ পড়িয়েছিলেন। জেসমিন টুলি পরবর্তীতে ইসির অতিরিক্ত সচিব হিসেবে অবসরে যান। ২০২৪ সালের জুলাই অভ্যুত্থানের পর নির্বাচন বিষয়ক সংস্কার কমিশনের সদস্য হয়েছিলেন তিনি।

এদিকে জেসমিন টুলির সমসাময়িক সহকর্মী, ইসির নির্বাচন পরিচালনা শাখার সাবেক উপসচিব মিহির সারওয়ার মোর্শেদ জানান, সে সময় দু’জন ব্যক্তি নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ পাঠ করান। তখন স্পিকার ছিলেন মো. শামসুল হুদা চৌধুরী। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ তার অধীনে শপথ নিলেও বিএনপি আপত্তি জানিয়েছিল। দলটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল-স্বৈরাচারের স্পিকারের অধীনে কোনওে শপথ তারা নেবে না।

এমন বিরোধ উত্থাপন হলে সুপ্রিম কোর্টের কাছে রেফারেন্স চাওয়া হয়। পরবর্তীতে সুপ্রিম কোর্ট প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কথা বললে তার অধীনে শপথ নেন বিএনপির নির্বাচিত সদস্যরা।

’৯১ সালের নির্বাচনে বিএনপি ১৪০টি আসন পেয়েছিল। আর আওয়ামী লীগ পেয়েছিল ৮৮টি আসন। আওয়ামী লীগ ও সমমনারা সে সময় স্পিকারের অধীনে এবং বিএনপি ও সমমনারা সিইসির অধীনে শপথ পাঠ করেন। ওই নির্বাচনে ১৮ আসন পাওয়া বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সমর্থন নিয়ে সরকার গঠন করে বিএনপি। ভোটে জাতীয় পার্টি পায় ৩৫টি আসন।

মিহির সারওয়ার মোর্শেদ বলেন, সে সময় নির্বাচনের গেজেট হওয়ার কত দিন পর শপথ পাঠ হতে হবে, তার কোনও সময়সীমা ছিল না। এছাড়া গেজেট কত দিনের মধ্যে করতে হবে, তারও সময়সীমা ছিল না।

গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে ২৯৯ আসনে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। শেরপুর-৩ আসনের বৈধ প্রার্থী মারা যাওয়ায় সেই আসনে পরবর্তীতে নতুন তফসিলের মাধ্যমে ভোট নেবে ইসি। এছাড়া আইনি জটিলতা থাকায় চট্টগ্রাম-২ ও ৪ আসনের ফলাফল ঘোষণা স্থগিত করে সংস্থাটি। আবার একই সঙ্গে একাধিক আসনের সংসদ সদস্য পদ রাখা না যাওয়ার কারণে বগুড়া-৬ আসন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান ছেড়ে দেন। এই আসনেও শিগগিরই উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। সব মিলিয়ে কোনও বিভেদ ছাড়াই ২৯৬ জন নির্বাচিত সংসদ সদস্যের শপথ পড়ানোর গৌরব অর্জন করলেন সিইসি এএমএম নাসির উদ্দিন।

Manual1 Ad Code

এবারের নির্বাচনে নিবন্ধিত ৬০টি দলের মধ্যে বিএনপি, জামায়াত, এনসিপি, জাতীয় পার্টিসহ ৫০টি দল অংশ নেয়। অন্যদিকে নিবন্ধন স্থগিত থাকায় আওয়ামী লীগ ভোটের বাইরে ছিল। এছাড়াও নয়টি দল ভোটে অংশ নেয়নি। সৌজন্যে: বাংলানিউজ

বিডি প্রতিদিন

Latif Travels
Metropolitan University

আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন

📞 মোবাইল: +8801712540420

✉️ ইমেইল: pavel.syl@gmail.com