২৫ আগস্ট থেকে সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের যাত্রা শুরু
প্রেস বিজ্ঞপ্তি
আগামী ২৫ আগস্ট আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু করতে যাচ্ছে সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিউক)। ওইদিন দুপুর ১২টায় উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
উদ্বোধক হিসেবে থাকবেন গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন প্রবাসী ও বৈদেশিক কল্যাণ এবং শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী এবং গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আহম্মদ সোহেল মনজুর। এছাড়া সিলেটের বিভিন্ন পর্যায়ের জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতৃবৃন্দ, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি এবং সাংবাদিকেরা উপস্থিত থাকবেন।
রবিবার (২৩ আগস্ট) নগরীর নাইওরপুল সংলগ্ন হোটেল ফরচুন গার্ডেনে সিউকের অস্থায়ী কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান নব গঠিন সংস্থাটির চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কয়েস লোদী।
বক্তব্যে সিউক চেয়ারম্যান বলেন, নগরীসহ আশপাশের প্রায় ৯৯৫ বর্গকিলোমিটার এলাকা কর্তৃপক্ষের আওতায় আনার প্রস্তাব করা হয়েছে। তিনি পরিকল্পিত, সমন্বিত ও আধুনিক পর্যটন নগরী গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। এ জন্য সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তর, পেশাজীবী সংগঠন, সুশীল সমাজসহ বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।
তন্মধ্যে প্রাথমিক পরিকল্পনায় রয়েছে সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের কার্যক্রম স্থায়ী কার্যালয়ে স্থানান্তর, দুটি জোনাল অফিস স্থাপনে স্থান নির্বাচন, বিভিন্ন আবাসন প্রকল্পে ভবন, পার্ক, রাস্তা ও ফুটপাতের পাশে উপযোগী সবুজ স্থায়ী বৃক্ষরোপণ এবং গ্রিন বিল্ডিং সার্টিফিকেশনের ব্যবস্থা করা।
সিলেট সিটি করপোরেশনের সংলগ্ন এলাকায় নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য ফ্ল্যাট নির্মাণ, কর্তৃপক্ষের আওতাভুক্ত এলাকায় পরিকল্পিত নগরায়ণ ও ভূমির সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা, সিলেট-আম্বরখানা সড়কসংলগ্ন আবাসিক এলাকার উন্নয়ন, বাদাঘাট এলাকায় বিদ্যমান রেললাইনসংলগ্ন আবাসিক এলাকার উন্নয়ন এবং বিভিন্ন সংযোগ সড়ক, বাইপাস ও ফ্লাইওভার নির্মাণের পরিকল্পনাও রয়েছে।
সিউকের নথি অনুযায়ী, বর্তমানে সিলেট মহানগরের ৭৯ দশমিক ৫ বর্গকিলোমিটার এলাকা রয়েছে। এর সঙ্গে সিলেট সদর, দক্ষিণ সুরমা, গোলাপগঞ্জ ও বিশ্বনাথ এই চারটি উপজেলা মিলিয়ে প্রায় ৯৯৫ বর্গকিলোমিটার এলাকাকে সিউকের অধিক্ষেত্র হিসেবে ঘোষণার প্রস্তাব মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।
প্রস্তাবিত এলাকার পাহাড়, টিলা, নদী ও খালসহ প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য অপরিবর্তিত রেখে পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রেখে উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনার কথা বলা হয়েছে।
সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের রাজস্ব খাতে ৬৭টি ক্যাটাগরিতে ৭১৪টি পদ সৃষ্টির প্রস্তাব করা হয়েছে। পদগুলোর যৌক্তিকতা, বেতন স্কেল, নিয়োগযোগ্যতা নির্ধারণ ও প্রবিধানমালা প্রণয়ন করে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।
এরই মধ্যে স্থায়ী ও আউটসোর্সিং প্রক্রিয়ায় জনবল নিয়োগের মাধ্যমে দাপ্তরিক কার্যক্রম শুরু হয়েছে। স্থায়ী দপ্তরের জন্য জমি পেতে জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি অস্থায়ী কার্যালয়ও স্থাপন করা হয়েছে।
সিউকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়নের পাশাপাশি স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। ইমারত নির্মাণ আইন ১৯৫২, বাংলাদেশ ন্যাশনাল বিল্ডিং কোড (বিএনবিসি) ২০২০ এবং সিউক আইন ২০২৩ অনুযায়ী প্রকৌশলী, স্থপতি ও কারিগরি প্রতিষ্ঠান তালিকাভুক্ত করার কার্যক্রম চলছে। রিয়েল এস্টেট ডেভেলপারদেরও তালিকাভুক্ত করা হচ্ছে।
সিউকের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়েছে, কর্তৃপক্ষের কার্যক্রম শুরুর পর সরকারি বিভিন্ন দপ্তর, পেশাজীবী সংগঠন ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় করা হবে। স্থপতি ও ডেভেলপারদের নিয়ে আধুনিক নগর পরিকল্পনা বিষয়ে সেমিনার, সিম্পোজিয়াম ও কর্মশালার আয়োজনেরও পরিকল্পনা রয়েছে।
সিলেটকে বাসযোগ্য, আধুনিক ও বিশ্বমানের পর্যটন নগরীতে রূপান্তরের প্রত্যয় ব্যক্ত করে সিউকের চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কয়েস লোদী সাংবাদিকদের বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশন ও পরামর্শ দেওয়ার আহ্বান জানান।