কুশিয়ারা নদী থেকে অবৈধ ভাবে বালু উত্তোলন, বালু জ*ব্দ
রাজনগর প্রতিনিধি
মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলার ফতেহপুর ইউনিয়নের সাদাপুর এলাকায় কুশিয়ারা নদী থেকে দীর্ঘদিন থেকে ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলন করছে একটি দুর্বৃত্ত চক্র। ওই চক্রের একটি নৌকা ও আড়াই হাজার ঘনফুট বালু স্থানীয় লোকজন আটক করলে তহশীলদার গিয়ে জব্দ করেন।
রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলন করায় ভাঙনের মুখে পড়বে নদী তীরবর্তী গ্রামগুলো।
এদিকে কুশিয়ারা নদীর ওই স্থান থেকে বালু পলি উত্তোলনের ফলে কুশিয়ারা নদীর ভেঙে যাওয়া এলাকা আরো ভাঙনের মুখে পড়বে উত্তরভাগ ও ফতেহপুর ইউনিয়নের ৮-১০টি গ্রাম।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, রাজনগর উপজেলার ফতেহপুর ও উত্তরভাগ ইউনিয়নের পাশ দিয়ে কুশিয়ারা নদী প্রবাহিত। এ নদীর ভাঙনে প্রতিবছর শতশত ঘরবাড়ি নদী গর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের ফলে এ নদীতে ভাঙন আরো বৃদ্ধি পেয়েছে। অবৈধভাবে বালু উত্তোলনকারীদের বিভিন্ন সময় মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে জেল জরিমানা করা হলেও সংশ্লিষ্টদের যোগসাজসে আবারো শুরু হয় বালু উত্তোলন। ফলে থামছে না নদী ভাঙন। এদিকে বেশ কিছুদিন থেকে রাজনগর উপেজলার ফতেহপুর ইউনিয়নের সাদাপুর এলাকা থেকে ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু তুলছে একটি চক্র। কুশিয়ারা নদী থেকে বালু তুলে শেরপুর এলাকায় নিয়ে বিক্রি করছে ওই চক্রটি।রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় বালু উত্তোলন করা হলও এরা ছিল ধরাছোয়ার বাহিরে।
এদিকে ওই এলাকা বালু তুলে নিয়ে যাওয়ার পথে রশিদপুর এলাকায় দুটি বালু নিয়ে যাওয়ার পথে সাদাপুর এলাকার শাহিন, লায়েছ, আব্দুস সালাম ও সেলিম মিয়া এবং শাহবাজপুর এলাকার নাছির মিয়াসহ ২টি নৌকা আটক করেন স্থানীয় জনতা। পরে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কে জানালে তিনি সেখানে তহশীলদারকে পাঠান। এদিকে তহশীরদার দিনবন্ধু যাওয়ার আগেই বালু খেকোরা ১টি নিয়ে পালিয়ে যায়। পরে তহশীলদার দিনবন্ধু ১টি নৌকা ও আড়াই হাজার ঘটফুট বালু জব্দ করে স্থানীয় ইউপি সদস্যের জিম্মায় রেখেছেন।
কিশোরগঞ্জের ইটনা উপজেরার নৌকা চালক আবÍদুল জলিল বলেন, আমি এই দিক প্রথম এসেছি। বালু নিয়ে আজমিরিগঞ্জ যাচ্ছিলাম। ছোট নৌকা থেকে আমাদের বড় নৌকায় বালু তুলে দেয়া হয়েছে। এ বালু কোথা থেকে আনা হয়েছে তা বলতে পারছি না।
মনসুরনগর ইউনিয়ন ভূমি অফিসের তহশীলদার দিনবন্ধু বলেন, খবর পেয়ে আমরা এসেছি। বালুসহ একটি নৌকা জব্দ করে স্থানীয় ইউপি সদস্যেরে জিম্মায় রাখা হয়েছে। এব্যাপারে আমরা রিপোর্ট দেব। সহকারী কমিশনার মহোদয় পরবর্তী ব্যবস্থ্যা নেবেন।
এব্যপাারে জানতে সহকারী কমিশনার (ভূমি) ফারজানা হোসেনের মোবাইল ফোনে কল করলেও তিনি ফোন ধরেন নি।