বাড়তি ৭৫০ ডলারে দ্রুত মার্কিন ভিসা ইন্টারভিউয়ের সুযোগ
অনলাইন ডেস্ক
যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণ বা ব্যবসায়িক ভিসার সাক্ষাৎকারের দীর্ঘ অপেক্ষা কমাতে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে মার্কিন পররাষ্ট্র দফতর। নতুন পরীক্ষামূলক কর্মসূচির আওতায় বি-১/বি-২ ভিসা আবেদনকারীরা অতিরিক্ত ৭৫০ ডলার পরিশোধ করে দ্রুত সাক্ষাৎকারের তারিখ পাওয়ার সুযোগ পাবেন। তবে এই অর্থ পরিশোধ করলেও ভিসা অনুমোদনের কোনো নিশ্চয়তা থাকবে না বলে স্পষ্ট করেছে কর্তৃপক্ষ।
মার্কিন পররাষ্ট্র দফতর জানায়, চলতি সপ্তাহে ফেডারেল রেজিস্টারে প্রকাশিত হতে যাওয়া এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে কর্মসূচিটি আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হবে। বিশ্বের নির্বাচিত কিছু মার্কিন দূতাবাস ও কনস্যুলেটে পরীক্ষামূলকভাবে এটি চালু করা হবে।
নতুন ব্যবস্থার আওতায় ১০ কর্মদিবসের মধ্যে সাক্ষাৎকারের সময়সূচি পেতে পারবেন অতিরিক্ত ফি প্রদানকারী আবেদনকারীরা। তবে এই সুবিধা কেবল সাক্ষাৎকারের তারিখ দ্রুত পাওয়ার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে। সাক্ষাৎকারের পর ভিসা প্রক্রিয়াকরণ দ্রুত হবে না এবং ভিসা অনুমোদনের সম্ভাবনাও বাড়বে না।
অর্থাৎ আবেদনকারীরা দ্রুত সাক্ষাৎকারের সুযোগ কিনতে পারবেন, কিন্তু দ্রুত সিদ্ধান্ত বা নিশ্চিত ভিসা নয়। পররাষ্ট্র দফতর জানায়, দ্রুত সাক্ষাৎকারের এই সুবিধা সব মার্কিন দূতাবাস বা কনস্যুলেটে পাওয়া যাবে না। শুধুমাত্র নির্বাচিত কিছু কনস্যুলেটে এটি চালু করা হবে।
প্রতিটি স্থানে কতটি প্রিমিয়াম সাক্ষাৎকারের সময় বরাদ্দ থাকবে, তা নির্ভর করবে স্থানীয় সক্ষমতার ওপর। ফলে দেশভেদে এই সুবিধার প্রাপ্যতা ভিন্ন হতে পারে এবং চাহিদা বেশি হলে সুযোগ সীমিত হয়ে যেতে পারে। নতুন ৭৫০ ডলারের ফি বিদ্যমান ভিসা আবেদন ফির বিকল্প নয়। আবেদনকারীদের প্রচলিত নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ফি পরিশোধের পাশাপাশি অতিরিক্ত এই অর্থ দিতে হবে।
অর্থাৎ দ্রুত সাক্ষাৎকারের সুযোগ পেতে আবেদনকারীদের মোট ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে। মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের ভাষ্য অনুযায়ী, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ভিসা সাক্ষাৎকারের দীর্ঘ জট এবং ক্রমবর্ধমান চাহিদা মোকাবিলার অংশ হিসেবে এই কর্মসূচি চালু করা হচ্ছে।
কর্তৃপক্ষ দেখতে চায়, দ্রুত সাক্ষাৎকারের বিনিময়ে অতিরিক্ত অর্থ দিতে আবেদনকারী ও ব্যবসায়িক ভ্রমণকারীরা কতটা আগ্রহী হন এবং এর মাধ্যমে সাক্ষাৎকার ব্যবস্থার ওপর চাপ কমানো সম্ভব হয় কিনা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, কর্মসূচিটি ১ জুলাই ২০২৬ থেকে কার্যকর হবে এবং ৩১ ডিসেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত চালু থাকবে।
এই সময়ের মধ্যে কতজন আবেদনকারী সুবিধাটি ব্যবহার করেন, এর কার্যকারিতা কতটা এবং ভিসা ব্যবস্থাপনায় কী প্রভাব পড়ে, তা মূল্যায়ন করবে মার্কিন পররাষ্ট্র দফতর। একইসঙ্গে জনমতও সংগ্রহ করা হবে। ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন ক্ষমতায় ফেরার পর অভিবাসন ও ভিসা নীতিতে ধারাবাহিকভাবে কঠোরতা আরোপ করছে। নতুন দ্রুত সাক্ষাৎকার কর্মসূচি সেই বৃহত্তর নীতিগত পরিবর্তনের সময়েই চালু হচ্ছে।
সম্প্রতি কিছু দেশের নাগরিকদের জন্য সর্বোচ্চ ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ডের শর্ত আরোপ করা হয়েছে। পাশাপাশি আবেদনকারীদের ব্যক্তিগত তথ্য, অতীত ইতিহাস এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের হিসাবও বিস্তারিতভাবে যাচাই করা হচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, এসব অতিরিক্ত যাচাই-বাছাইয়ের কারণে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণের সময়ও বেড়েছে।
বিডি প্রতিদিন