• সিলেট, বিকাল ৩:৪৪, ২৪শে আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

জুমার ফজিলত অপরিসীম

admin
প্রকাশিত নভেম্বর ২৮, ২০২৫
জুমার ফজিলত অপরিসীম

Manual3 Ad Code

জুমার ফজিলত অপরিসীম

মাওলানা আবদুর রশিদ

 

জুমার দিনের গুরুত্ব সম্পর্কে হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন : যেদিন সমূহে সূর্য উদিত হয় তন্মধ্যে সর্বোত্তম হলো জুমার দিন। যেদিন হজরত আদম (আ.)-এর জন্ম হয়েছিল, যেদিন তাঁকে জান্নাতে প্রবেশ করানো হয়েছিল এবং যেদিন তাঁকে জান্নাত থেকে পৃথিবীতে অবতরণ করা হয়েছিল (মুসলিম ৮৫৪, নাসায়ি ১৩৭৩, তিরমিজি ৩৮৮)।

Manual4 Ad Code

রসুলুল্লাহ (সা.) মক্কা থেকে মদিনায় হিজরতের সময়, মদিনার নিকটবর্তী আমর ইবনে আউফ গোত্রের বসতি কুবায় কয়েক দিন অবস্থান করেন। কুবা থেকে রওনা হওয়ার এক দিন আগে বৃহস্পতিবার রসুলুল্লাহ (সা.) মসজিদে কুবার ভিত্তি স্থাপন করেন, এটিই ইসলামের প্রথম মসজিদ, যা প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল খোদাভীতি-তাকওয়ার ওপর।

শুক্রবার সকালে রসুলুল্লাহ (সা.) কুবা থেকে মদিনার উদ্দেশে রওনা হন। যখন সালিম ইবনে আউফ গোত্রের উপত্যকায় পৌঁছেন, তখন জুমার সময় হয়। রসুলুল্লাহ (সা.) যেখানে বর্তমানে ‘মসজিদে জুমা’ রয়েছে, সেখানে জুমার নামাজ আদায় করেন। এটি ছিল রসুলুল্লাহ (সা.) এর প্রথম জুমা (আল বিনায়াহ ৩/৫৩)।

জুমার দিনে হাতের নখ কাটা, উত্তমরূপে গোসল করা, পরিষ্কার ও পবিত্র পোশাক পরিধান করা, সুগন্ধি ব্যবহার করা, মসজিদে আগে যাওয়া, দাঁত মেসওয়াক করা সুন্নত। মসজিদে প্রবেশ করে দুই রাকাত ‘তাহইয়াতুল মসজিদ’র নামাজ আদায় করা এবং মনোযোগ সহকারে ইমাম সাহেবের খুতবা শোনা অতি উত্তম। জুমার দিনে সবচেয়ে বড় আমল হলো সুরা কাহাফ তেলাওয়াত করা ও বেশি বেশি দরুদ শরিফ পাঠ করা।

জুমার দিন নামাজের জন্য আজান দেওয়া হলে দ্রুত নামাজ আদায়ের জন্য মসজিদে যাওয়া এবং নামাজ আদায় ও খুতবা শোনা উত্তম। প্রত্যেক মুসলমানের উচিত আজান শোনার পর নামাজ ও খুতবা ছাড়া অন্য কোনো কাজের প্রতি মনোযোগী না হওয়া। জুমার দিনে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব মসজিদে হাজির হওয়ার ব্যাপারে তাগিদ দেওয়া হয়েছে।

হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, আল্লাহর রসুল (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি জুমার দিনে পবিত্র হওয়ার জন্য গোসল করবে এবং নামাজ আদায়ের জন্য সর্বপ্রথম মসজিদে হাজির হবে সে যেন একটি উট কোরবানির সওয়াব অর্জন করল। যে ব্যক্তি দ্বিতীয় সময়ে মসজিদে এসে হাজির হলো সে একটি গরু কোরবানির সওয়াব অর্জন করল, আর যে তৃতীয় সময়ে নামাজ আদায়ের জন্য মসজিদে উপস্থিত হলো সে একটি শিংওয়ালা ছাগল কোরবানির সওয়াব অর্জন করল। যে চতুর্থ সময়ে গেল সে একটি মুরগি জবাই করার সওয়াব এবং পঞ্চম ব্যক্তি একটি ডিম ভাজি করার সওয়াব অর্জন করল।’

জুমার দিন ফজরের নামাজে প্রথম রাকাতে সুরা আলিফ-লাম-মিম-সাজদা ও দ্বিতীয় রাকাতে সুরা দাহার তেলাওয়াত করা সুন্নত। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রসুলুল্লাহ (সা.) জুমার দিন ফজরের নামাজে সুরা আলিফ-লাম-মিম সাজদা এবং সুরা দাহর পড়তেন। (বুখারি শরিফ ৮৯১)।

জুমার দিন সুরা কাহাফ তেলাওয়াত করা মুস্তাহাব। হাদিস শরিফে এসেছে : আবু সাঈদ খুদরি (রা.) থেকে বর্ণিত, রসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন, যে ব্যক্তি জুমার দিন ‘সুরা কাহাফ’ তেলাওয়াত করবে, তাঁর জন্য এমন একটি নুর আলোকিত করা হবে, যা সে জুমা থেকে পরের জুমা পর্যন্ত দীর্ঘায়িত হবে (সুনানে কুবরা ৩/৩৫৩)।

Manual8 Ad Code

অন্য বর্ণনায় এসেছে ‘তাঁর জন্য এমন একটি নুর প্রজ্জ্বলিত করা হবে, যা তেলাওয়াতকারী থেকে বাইতুল্লাহ শরিফ পর্যন্ত বিস্তৃত থাকবে। (বাইহাকি শরিফ ৩/১১৩)।

Manual8 Ad Code

হাদিস শরিফে এসেছে, হজরত জাবের ইবনে আবদুল্লাহ (রা.) থেকে বর্ণিত, রসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন জুমার দিন এমন একটি মুহূর্ত রয়েছে, যখন কোনো মুসলমান আল্লাহতায়ালার কাছে যা কিছু প্রার্থনা করবে, আল্লাহতায়ালা তাকে তা দান করবেন। কাজেই তোমরা আসরের পর দিনের শেষ মুহূর্তে সে সময়টা তালাশ করো। (আবু দাউদ ১/১৫০)।

মুসলিম শরিফের বর্ণনায় এসেছে, আবু বুরদা ইবনে আবু মুসা আশআরি (রা.) বলেন, হজরত ইবনে ওমর (রা.) আমাকে জিজ্ঞেস করলেন, তুমি কি তোমার পিতার কাছ থেকে জুমার প্রহরের মহিমা সম্পর্কে কোনো হাদিস শুনেছো? আমি বললাম হ্যাঁ শুনেছি। তিনি বলেছেন, আমি রসুলুল্লাহ (সা.)-কে বলতে শুনেছি, জুমার দিনে মহিমান্বিত মুহূর্তটি হচ্ছে ইমাম মিম্বরে বসা থেকে নামাজ শেষ হওয়া পর্যন্ত (মুসলিম শরিফ ১৯৭৫)।

Manual3 Ad Code

আল্লাহ আমাদের সবাইকে জুমার মর্যাদা অনুধাবনের তৌফিক দান করুন।

লেখক : ইসলামবিষয়ক গবেষক।

বিডি-প্রতিদিন/

Latif Travels
Metropolitan University

আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন

📞 মোবাইল: +8801712540420

✉️ ইমেইল: pavel.syl@gmail.com