জাতীয় নির্বাচনের পূর্বে গণভোট হওয়া প্রয়োজন: অধ্যাপক হান্নান
নিজস্ব প্রতিবেদক
“একসাথে জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট আয়োজন করার মতো সক্ষমতা আমাদের নির্বাচনের কমিশনের আছে বলে মনে হয় না। তাই জাতীয় নির্বাচনের পূর্বে গণভোট আয়োজন করার প্রয়োজন। আর গণভোটের পর সঠিক সময়ে জাতীয় সংসদ নির্বাচনও আয়োজন করা হউক। জুলাই বিপ্লবের চেতনা দিয়েই সবাইকে সাথে নিয়েই আমরা বাংলাদেশ গড়ব। কারণ বিভেদ সৃষ্টি করে ও হিংস্বা-বিদ্বেষ মনে রেখে জাতিকে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব নয়।”
কথাগুলো সিলেট-২ (বিশ্বনাথ-ওসমানীনগর) আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের সম্ভাব্য সংসদ সদস্য প্রার্থী ও সিলেট জেলা জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর অধ্যাপক আব্দুল হান্নানের।
তিনি মঙ্গলবার (২ ডিসেম্বর) দুপুরে সিলেটের বিশ্বনাথে উপজেলা মডেল মসজিদ হল রুমে স্থানীয় সাংবাদিকদের সাথে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় একথাগুলো বলেন।
জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী অধ্যাপক আব্দুল হান্নান আরোও বলেন, “আপনাদের ভোটে আমি সিলেট-২ আসনে নির্বাচিত হলে ও জামায়াতে ইসলামী রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় গেলে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজানো হবে। তৃণমূল পর্যায়ে মানুষের কাঙ্খিত চিকিৎসা সেবা পৌঁছে দেওয়া হবে। ওই নির্বাচনী আসনের বিভিন্ন অঞ্চলে থাকা বিশুদ্ধ খাবার পানি সংকট দূরীকরণে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। অনিময়-দূর্নীতি ও ঘুষ’মুক্ত সমাজ গঠনে কাজ করে যাব। নির্বাচনী আসনের দুটি উপজেলায় টেকনিক্যাল কলেজ স্থাপন করে যুব সমাজকে দক্ষ হিসেবে গড়ে তোলা হবে।”
তিনি বলেন, “বাংলাদেশ হচ্ছে অপার সম্ভাবনার দেশ। আর বাংলাদেশের যে সম্পদ রয়েছে, সঠিকভাবে তা কাজে লাগাতে পারলে অনেক পূর্বেই বাংলাদেশ এগিয়ে যেতো। বাংলাদেশের শুধু ‘মাছ ও সবজি’ রপ্তানী করেই ‘দেশ ও জাতি’কে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব। এখন সময় এসেছে ঐক্যবদ্ধভাবে বাংলাদেশকে এগিয়ে নেওয়ার। এক সময় বিশ্বের যারা বাংলাদেশকে অবহেলা ও ছোট করে দেখতো, ছাত্রদের কল্যাণেই এখন সেখানে আমূল পরিবর্তন এসেছে। আমাদের ছাত্রদের আন্দোলনের ফলেই বিগত সরকারের পতন হওয়ার ফলে দেশের মানুষ এখন স্বাধীনভাবে কথা বলতে ও চলাফেরা করতে পারছি আমরা। আর জামায়াতে ইসলামী রাস্ট্রীয় ক্ষমতায় গেলে নিজ এলাকার উন্নয়নে কোন বৈষম্য থাকবে না, জনগণকে এব্যাপারে শতভাগ নিশ্চয়তা দিচ্ছি আমরা।”
এসময় অধ্যাপক আব্দুল হান্নান সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দিয়ে বলেন, ‘আন্দোলনরত ইসলামী ৮ দলীয় সমঝোতায় শেষ পর্যন্ত আমি মনোনয়ন পাব বলে ৯৫% আশাবাদি। এরপরও যদি দল আমাকে বাদ দিয়ে অন্য কাউকে মনোনয়ন দেন আমি সেই প্রার্থীর পক্ষেই কাজ করব।’
মতবিনিময় সভায় এসময় উপস্থিত ছিলেন- জেলা জামায়াতে ইসলামীর অফিস সেক্রেটারী আব্দুল কাইয়ুম, উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর মোহাম্মদ নিজাম উদ্দিন সিদ্দিকী, পৌর জামায়াতে ইসলামীর আমীর এইচ এম আখতার ফারুক, উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর মাস্টার ইমাদ উদ্দিন, পৌর জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর আব্দুস সোবহান, উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারী মতিউর রহমান, পৌর জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারী জাহেদুর রহমান, উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর এসিস্টেন্ট সেক্রেটারী আব্দুল মুকছিত আখতার, বায়তুলমাল আশিকুর রহমান, অফিস সেক্রেটারী এইচ এম মোহাম্মদ আলী, উপজেলা পশ্চিম ইসলামী ছাত্র শিবিরের সভাপতি শাহ হোসাইন আলী, পৌর ইসলামী ছাত্র শিবিরের সভাপতি মতিউর রহমান ইমন প্রমুখ নেতৃবৃন্দ।