যে অভিযোগে সিলেট ওসমানী হাসপাতালে দুদকের অভিযান
নিজস্ব প্রতিবেদক
সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসকদের নির্ধারিত কর্মঘণ্টা পালন, রোগীদের চিকিৎসাসেবা প্রদান এবং দায়িত্ব পালনে নানা অনিয়ম ও অবহেলার অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সরেজমিনে এনফোর্সমেন্ট অভিযান পরিচালনা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে হাসপাতালটিতে দুই সদস্যের একটি বিশেষ টিম পাঠানো হয় বলে জানিয়েছেন দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক সুবেল আহমেদ।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত দুদকের ঢাকাস্থ প্রধান কার্যালয়ের এনফোর্সমেন্ট ইউনিটের নির্দেশনার পর সিলেটে সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের সমন্বয়ে এ অভিযান পরিচালিত হয়।
দুদক সূত্রে জানা যায়, দেশের অন্যতম বৃহৎ এই সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসকদের নির্ধারিত সময়ে কর্মস্থলে উপস্থিত না থাকা, কর্মঘণ্টা পূর্ণ না করা, রোগীদের চিকিৎসাসেবা পেতে হয়রানি ও অবহেলার শিকার হওয়ার মতো গুরুতর অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরে রয়েছে। এসব অভিযোগের সরেজমিন সত্যতা যাচাই এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে এনফোর্সমেন্ট টিমকে তদারকি ও তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহের নির্দেশ দেওয়া হয়।
অভিযোগ ছিল, ওসমানী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের চিকিৎসকদের একটি অংশ নির্ধারিত সময়ে কর্মস্থলে উপস্থিত হন না। অনেকে দেরিতে হাসপাতালে এসে আবার নির্ধারিত সময়ের আগেই কর্মস্থল ত্যাগ করেন। এতে দূর-দূরান্ত থেকে চিকিৎসাসেবা নিতে আসা রোগীদের ভোগান্তি বাড়ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
এদিকে, চিকিৎসকদের উপস্থিতি ও কর্মঘণ্টা পালনের বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের একটি নোটিশেও অনিয়মের চিত্র উঠে এসেছে। সদ্যবিদায়ী হাসপাতাল পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল উমর রাশেদ মুনির স্বাক্ষরিত ওই নোটিশে চিকিৎসকদের নির্ধারিত সময়ে হাসপাতালে উপস্থিতি ও কর্মস্থল ত্যাগ নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়।
নোটিশে বলা হয়, চিকিৎসকদের হাসপাতালে প্রবেশের নির্ধারিত সময় সকাল ৮টা এবং প্রস্থানের সময় দুপুর ২টা ৩০ মিনিট। তবে সাম্প্রতিক বায়োমেট্রিক উপস্থিতির তথ্য পর্যালোচনায় চিকিৎসকদের উপস্থিতি ও প্রস্থানের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অসঙ্গতি পাওয়া গেছে।
বায়োমেট্রিক তথ্য অনুযায়ী, সকাল ৯টার পর কর্মস্থলে উপস্থিত হওয়ার হার বহির্বিভাগে ৪৮ শতাংশ এবং অন্তর্বিভাগে ৬৫ শতাংশ। অর্থাৎ নির্ধারিত সময় সকাল ৮টার এক ঘণ্টা পরও উল্লেখযোগ্যসংখ্যক চিকিৎসক কর্মস্থলে উপস্থিত হচ্ছেন।
শুধু দেরিতে উপস্থিত হওয়াই নয়, নির্ধারিত সময়ের আগেই কর্মস্থল ত্যাগের প্রবণতাও রয়েছে। বায়োমেট্রিক তথ্য বলছে, দুপুর ২টা ৩০ মিনিটের আগেই বহির্বিভাগের ৯৬ শতাংশ এবং অন্তর্বিভাগের ৯০ শতাংশ চিকিৎসক কর্মস্থল ত্যাগ করছেন। হাসপাতাল পরিচালকের ওই নোটিশে চিকিৎসকদের দায়িত্বশীলতার সঙ্গে নির্ধারিত কর্মঘণ্টা অনুসরণ করে রোগীদের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
এরই মধ্যে মঙ্গলবার ওসমানী হাসপাতাল পরিদর্শন করে গেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। এর পরপরই হাসপাতালের বিভিন্ন অনিয়ম ও চিকিৎসকদের দায়িত্ব পালনে গাফিলতির অভিযোগ খতিয়ে দেখতে দুদকের এনফোর্সমেন্ট অভিযানকে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক সুবেল আহমেদ বলেন, ‘দুই সদস্যবিশিষ্ট একটি টিম মঙ্গলবার ওসমানী হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এনফোর্সমেন্ট টিম সেখানে বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করেছে এবং আরও কিছু তথ্য চেয়েছে। সংগৃহীত তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে কমিশনের পরবর্তী সিদ্ধান্তের জন্য প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।‘
তিনি আরও বলেন, ‘সিলেট বিভাগসহ আশপাশের বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষের চিকিৎসাসেবার অন্যতম প্রধান ভরসা এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল। ফলে হাসপাতালটির চিকিৎসাসেবা ও প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা নিশ্চিতের পাশাপাশি রোগীদের হয়রানি ও ভোগান্তি কমাতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।’
সিলেটভিউ২৪ডটকম