ফের ১০০ ডলার ছাড়ালো অপরিশোধিত তেলের দাম
অনলাইন ডেস্ক
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতি আরও তীব্র হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম দ্রুত বাড়ছে। দীর্ঘদিন পর ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের সীমা অতিক্রম করেছে। মধ্যপ্রাচ্য থেকে বিশ্ববাজারে তেল সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা বাড়ায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে।
বুধবার গ্রিনিচ মান সময় সকাল ৭টা ২১ মিনিট (বাংলাদেশ সময় দুপুর ১টা ২১ মিনিট) পর্যন্ত লেনদেনে ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের ফিউচার মূল্য ২ দশমিক ১৫ ডলার বা ২ দশমিক ২ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০০ দশমিক ০৭ ডলারে পৌঁছায়। ২৪ জুলাইয়ের পর এই প্রথম ব্রেন্টের দাম ১০০ ডলারের সীমা অতিক্রম করলো।
একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট বা ডব্লিউটিআই অপরিশোধিত তেলের দাম ১ দশমিক ৭০ ডলার বা ১ দশমিক ৮৩ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৯৪ দশমিক ৭৩ ডলারে দাঁড়ায়।
বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত নতুন ও বিপজ্জনক মাত্রায় পৌঁছানোর আশঙ্কাই মূলত তেলের বাজারকে অস্থির করে তুলেছে। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি উৎপাদন ও রফতানি অঞ্চল মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়লে তেল উৎপাদন, স্থাপনা ও পরিবহন ব্যবস্থা সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।
চলতি সপ্তাহে ইরান-সমর্থিত হুতি যোদ্ধাদের সৌদি আরবের জ্বালানি স্থাপনায় হামলার ঘটনায় পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে। এসব হামলায় কয়েকটি তেল ও জ্বালানি স্থাপনায় আগুন লাগার খবর পাওয়া গেছে। এর ফলে আঞ্চলিক সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে এবং বিশ্ববাজারে তেল সরবরাহ নিয়ে নতুন করে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হলে বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বাজার বিশ্লেষকেরা। বিশেষ করে তেল উৎপাদনকারী দেশগুলোর অবকাঠামো ও গুরুত্বপূর্ণ নৌপথগুলো সংঘাতের আওতায় এলে আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহ সংকট আরও তীব্র হতে পারে।
এদিকে তেলের দাম বাড়ার সম্ভাবনা বিবেচনায় বিশ্বের বড় কয়েকটি বিনিয়োগ ব্যাংক তাদের পূর্বাভাসও সংশোধন করেছে। সাম্প্রতিক দিনগুলোতে গোল্ডম্যান স্যাকস, ব্যাংক অব আমেরিকা ও এইচএসবিসিসহ একাধিক আর্থিক প্রতিষ্ঠান অপরিশোধিত তেলের মূল্য পূর্বাভাস বাড়িয়েছে।
বাজার পর্যবেক্ষকদের মতে, ১০০ ডলারের সীমা অতিক্রম করা শুধু প্রতীকী ঘটনা নয়; এটি বিশ্ব অর্থনীতির জন্যও নতুন সতর্কবার্তা। কারণ তেলের দাম বাড়লে পরিবহন ব্যয় থেকে শুরু করে বিদ্যুৎ উৎপাদন ও শিল্প খাতের খরচ বেড়ে যায়। এর প্রভাব শেষ পর্যন্ত বিশ্বজুড়ে মূল্যস্ফীতির ওপর পড়তে পারে।
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয় এবং সৌদি আরবসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ তেল উৎপাদনকারী দেশের স্থাপনা আরও হামলার লক্ষ্যবস্তু হয় কি না, এখন সেদিকেই নজর রাখছে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজার। সংঘাত আরও বিস্তৃত হলে অপরিশোধিত তেলের দাম নতুন উচ্চতায় পৌঁছাতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। সূত্র: আল-জাজিরা
বিডি প্রতিদিন