• সিলেট, রাত ১১:৫২, ২রা নভেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

সিলেটে ‘জিনের ভয়’ দেখিয়ে ১১ লাখ টাকার স্বর্ণালংকার নিয়ে চম্পট

admin
প্রকাশিত নভেম্বর ২, ২০২৬
সিলেটে ‘জিনের ভয়’ দেখিয়ে ১১ লাখ টাকার স্বর্ণালংকার নিয়ে চম্পট

Manual7 Ad Code

সিলেটে ‘জিনের ভয়’ দেখিয়ে ১১ লাখ টাকার স্বর্ণালংকার নিয়ে চম্পট

নিজস্ব প্রতিবেদক

অসুস্থ ছেলেকে সম্পূর্ণ সুস্থ করার অলৌকিক আশ্বাস আর ভয়াবহ ক্ষতির আশঙ্কায় সর্বস্বান্ত করার এক অভিনব প্রতারণার ঘটনা ফাঁস হয়েছে সিলেটের মৌলভীবাজারে।

 

কথিত ‘জিন্নী হুজুরের’ নামে ভীতি ছড়িয়ে এক সহজ-সরল নারীর কাছ থেকে দুই দফায় হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে ৫ ভরি ৬ আনা স্বর্ণালংকার, যার বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। চাঞ্চল্যকর এই প্রতারণা চক্রের মূল ৪ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। একই সঙ্গে উদ্ধার করা হয়েছে আত্মসাৎকৃত সমস্ত স্বর্ণালংকার।

 

রবিবার (১ নভেম্বর) বড়লেখা ও জুড়ী উপজেলায় পৃথক অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করে করা হয়।

 

Manual8 Ad Code

গ্রেফতারকৃতরা হলেন- বড়লেখা উপজেলার আহমদপুর গ্রামের করবুল নেছা (৬০), হিনাইনগর গ্রামের তাজ উদ্দিন (৪৫), জুড়ী উপজেলার আমতৈল গ্রামের বিজয় বৈদ্য (৪৮) এবং হরিরামপুর গ্রামের রিপন মিয়া (৩৮)।

পুলিশ জানায়, গত ৩ আগস্ট মৌলভীবাজারের বড়লেখা থানাধীন হিনাইনগর গ্রামের বাসিন্দা রোকেয়া বেগমকে অজ্ঞাতপরিচয় এক নারী ফোন করেন। ফোনালাপে দাবি করা হয়, কথিত ‘জিন্নী হুজুর’ তাঁর অসুস্থ ছেলেকে অলৌকিকভাবে সুস্থ করে তুলতে সক্ষম। তবে এর জন্য শর্ত হিসেবে চরম গোপনীয়তা বজায় রাখতে এবং বিষয়টি কাউকে না জানাতে কঠোরভাবে সতর্ক করা হয়। অন্যথায় ছেলের মারাত্মক ক্ষতি হবে বলে ভয় দেখানো হয়।

 

ছেলের জীবনের নিরাপত্তার কথা ভেবে প্রতারকদের পাতা এই ফাঁদে অন্ধবিশ্বাস করেন মা রোকেয়া বেগম। তাদের কথামতো তিনি বাড়ির পেছনের ডিপ টিউবওয়েলের ম্যানহোলের ঢাকনায় একটি পরিষ্কার বাটিতে স্বর্ণালংকার রেখে আসেন। নির্দিষ্ট সময় পর সেখানে গিয়ে দেখেন সব অলংকার গায়েব। পরবর্তীতে যোগাযোগ করা হলে তাঁকে জানানো হয়, ‘জিন্নী মুমিন’ স্বর্ণালংকারগুলো নিয়ে গেছেন এবং আগামী এক মাসের মধ্যে ছেলে পুরোপুরি সুস্থ হওয়ার পাশাপাশি অলংকারও ফেরত পেয়ে যাবেন।

এরপর গত ১৬ অক্টোবর প্রতারক চক্রটি ফের সক্রিয় হয়ে ওঠে। ওই নারী আবার ফোন করে রোকেয়া বেগমকে আরও কিছু স্বর্ণালংকার একই স্থানে রাখতে বলেন। এবার ছেলেকে পাগল হয়ে যাওয়ার ভয় দেখিয়ে চরম আতঙ্ক তৈরি করা হয় এবং শর্ত মানলে আগেরসহ সমস্ত অলংকার মাত্র এক ঘণ্টার মধ্যে ফেরত দেওয়ার ভুয়া আশ্বাস দেওয়া হয়। সন্তানের ভবিষ্যতের কথা ভেবে মা মনোকষ্টে দ্বিতীয় দফায়ও বসতঘরের পেছনের নির্দিষ্ট স্থানে স্বর্ণালংকার রেখে আসেন।

 

কিন্তু এবারও ফিরে গিয়ে দেখেন সবকিছু খালি। এভাবেই অত্যন্ত সুকৌশলে দুই দফায় মোট ৫ ভরি ৬ আনা ২ রতি ২ পয়েন্ট স্বর্ণালংকার আত্মসাৎ করে চক্রটি।

Manual4 Ad Code

 

Manual4 Ad Code

পরে কোনো উপায়ন্তর না পেয়ে রবিবার (১ নভেম্বর) ভুক্তভোগী রোকেয়া বেগম বাদী হয়ে বড়লেখা থানায় মামলা করেন। মামলা হওয়ার পর নড়েচড়ে বসে পুলিশ। পরে তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে বড়লেখা ও জুড়ী উপজেলায় পৃথক অভিযান চালিয়ে প্রতারক চক্রের এই চার সদস্যকে গ্রেফতার করে। পরবর্তীতে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই আত্মসাৎ করা স্বর্ণালংকারগুলো উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত অলংকারের মধ্যে রয়েছে একটি সিতাহার, দুই জোড়া ঝুমকা ও একটি আংটি। পরে থানায় গিয়ে ভুক্তভোগী রোকেয়া বেগম নিজের হারিয়ে যাওয়া অলংকারগুলো শনাক্ত করেন।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বড়লেখা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান খান জানান, এ ঘটনায় গ্রেফতারকৃত চার আসামিকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। চাঞ্চল্যকর এই প্রতারণা চক্রের নেপথ্যে আরও কেউ জড়িত আছে কি না, সে বিষয়ে পুলিশি তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

 

 

সিলেটভিউ২৪ডটকম

Manual4 Ad Code

Latif Travels
Metropolitan University

আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন

📞 মোবাইল: +8801712540420

✉️ ইমেইল: pavel.syl@gmail.com