• সিলেট, রাত ৪:১৬, ২৬শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

সম্পদ উপার্জনে নীতি বিসর্জন নিন্দনীয়

admin
প্রকাশিত ডিসেম্বর ১৩, ২০২৫
সম্পদ উপার্জনে নীতি বিসর্জন নিন্দনীয়

Manual8 Ad Code

সম্পদ উপার্জনে নীতি বিসর্জন নিন্দনীয়

মুফতি মুহাম্মদ মর্তুজা

 

অর্থ-সম্পদ মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে পরীক্ষা। এটি কারো কারো কল্যাণ বয়ে আনে, আবার কারো কারো জন্য খুলে দেয় অকল্যাণ ও পাপাচারের দ্বার। তাই এটি উপার্জন করার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সতর্ক হওয়া উচিত। মহানবী (সা.) তাঁর সাহাবিদের এ ব্যাপারে জোরালোভাবে সতর্ক করতেন।

একদিন মহানবী (সা.) হাকিম ইবনে হিজাম (রা.) নামের এক সাহাবিকে এ বিষয়ে সতর্ক করতে গিয়ে বলেন, হে হাকিম! এ সম্পদ সবুজ ও সুমিষ্ট। যে লোক তা খুশি মনে গ্রহণ করবে, তার জন্য তাতে বরকত দেওয়া হবে। আর যে ব্যক্তি তা লালসা নিয়ে গ্রহণ করবে, তার জন্য তাতে বরকত দেওয়া হবে না; বরং সে ওই ব্যক্তির মতো যে খায়, কিন্তু তৃপ্ত না। আর ওপরের (দাতার) হাত নিচের (গ্রহীতার) হাত থেকে শ্রেষ্ঠ।

(বুখারি, হাদিস : ৬৪৪১)

এই হাদিসে মহানবী (সা.) অর্থ-সম্পদ উপার্জনের ক্ষেত্রে কয়েকটি বিষয়ে সতর্ক থাকার প্রতি ইঙ্গিত করেছেন। নিম্নে এর গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো কোরআন-হাদিসের আলোকে তুলে ধরা হলো—

Manual7 Ad Code

ন্যায়নীতি বিসর্জন দেওয়া যাবে না : পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ বলেছেন, ‘তোমাদের ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি পরীক্ষা। আর আল্লাহর কাছেই মহাপ্রতিদান।’

(সুরা : তাগাবুন, আয়াত : ১৫)

এই আয়াত দ্বারা স্পষ্ট হয়ে যায় যে ধন-সম্পদ যেমন আল্লাহর নিয়ামত, তেমনি পরীক্ষাও।

আল্লাহ দেখতে চান যে তা উপার্জনের ক্ষেত্রে কারা নিজেদের নিয়ন্ত্রণ করতে পারে আর কারা আল্লাহ বিধান ভুলে যায়। অর্থ-সম্পদের লোভ যখন মানুষকে পেয়ে বসে, তখন তারা তা অর্জনে নিজের ন্যায়-নীতি, ইসলামের বিধান বিসর্জন দিতে দ্বিধা করে না। এটি তাদের সাময়িক কিছু অর্থ এনে দিলেও চূড়ান্ত ধ্বংসের দিকে অগ্রসর করে। এ জন্যই হয়তো মহানবী (সা.) বলেছেন, ‘প্রত্যেক উম্মতের জন্য কোনো না কোনো ফিতনা রয়েছে, আর আমার উম্মতের ফিতনা হলো ধন-সম্পদ।’ (তিরমিজি, হাদিস : ২৩৩৬)
প্রাপ্ত রিজিকে সন্তুষ্ট থাকা : মানুষের জন্য মহান আল্লাহ যা বরাদ্দ করেছেন, তারা তা পাবেই।

কিন্তু তারা প্রাপ্ত নিয়ামতে সন্তুষ্ট না হয়ে যদি তা লোভ নিয়ে গ্রহণ করে এবং অপাত্রে অপচয় করে, তবে তা থেকে বরকত উঠে যায়। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘আর আল্লাহ তোমাকে যা দান করেছেন তাতে তুমি আখিরাতের নিবাস অনুসন্ধান করো। তবে তুমি দুনিয়া থেকে তোমার অংশ ভুলে যেয়ো না। তোমার প্রতি আল্লাহ যেরূপ অনুগ্রহ করেছেন তুমিও সেরূপ অনুগ্রহ করো। আর জমিনে ফাসাদ করতে চেয়ো না। নিশ্চয়ই আল্লাহ ফাসাদকারীদের ভালোবাসেন না।’ (সুরা : কাসাস, আয়াত : ৭৭)

Manual8 Ad Code

হাদিস শরিফে ইরশাদ হয়েছে, আবদুল্লাহ ইবনে উমার ইবনুল আস (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তির ইসলাম কবুল করার সৌভাগ্য হয়েছে, যাকে প্রয়োজন পরিমাণ রিজিক দেওয়া হয়েছে এবং আল্লাহ তাআলা তাকে যে সম্পদ দিয়েছেন এর ওপর পরিতৃপ্ত হওয়ার শক্তি দিয়েছেন, সে-ই (জীবনে) সফলতা লাভ করেছে।’ (মুসলিম, হাদিস : ২৩১৬)

Manual5 Ad Code

হারাম উপার্জন ত্যাগ করা : হারাম পন্থায় উপার্জিত সম্পদে বরকত থাকে না। পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ বলেছেন, ‘আল্লাহ সুদকে মিটিয়ে দেন আর সদকাকে বাড়িয়ে দেন।’ (সুরা : বাকারাহ, আয়াত : ২৭৬)

মুমিনের হালাল উপায়ে উপার্জিত প্রতিটি সম্পদ তাদের দুনিয়া ও আখিরাত সাজাতে সহযোগিতা করে। আর কোনো সম্পদ যদি হারাম উপার্জিত হয় তা আখিরাতকে ধ্বংস করে, দুনিয়াতেও এর রবকত থাকে না।

পরকালকে ভয় করা : সামান্য কিছু অর্থের লোভে মানুষ পরকাল ভুলে যায়। কত ছলছাতুরীর আশ্রয় নেয়। অথচ অন্যায়ভাবে উপার্জন করা সম্পদ তার পরকালকে ধ্বংস করে। পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ অন্যায়ভাবে অন্যের সম্পদ ভক্ষণ নিষিদ্ধ করেছেন। ইরশাদ হয়েছে, ‘আর তোমরা নিজেদের মধ্যে তোমাদের সম্পদ অন্যায়ভাবে খেয়ো না এবং তা বিচারকদের (ঘুষ হিসেবে) প্রদান কোরো না, যাতে মানুষের সম্পদের কোনো অংশ পাপের মাধ্যমে জেনে-বুঝে খেয়ে ফেলতে পারো।’ (সুরা : বাকারাহ, আয়াত : ১৮৮)

মহান আল্লাহ সবাইকে সত্ভাবে উপার্জন করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

বিডি-প্রতিদিন

Manual2 Ad Code

Latif Travels
Metropolitan University

আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন

📞 মোবাইল: +8801712540420

✉️ ইমেইল: pavel.syl@gmail.com