‘বিতর্ক সৃষ্টি করে ভারতীয় সেনাদের মনোবল ভাঙার চেষ্টা চলছে’

প্রকাশিত: ১১:৩৪ অপরাহ্ণ, জুন ২০, ২০২০

‘বিতর্ক সৃষ্টি করে ভারতীয় সেনাদের মনোবল ভাঙার চেষ্টা চলছে’

অনলাইন ডেস্ক :; বিরোধী দলগুলো অহেতুক বিতর্ক সৃষ্টি করে ভারতীয় সেনাদের মনোবল ভাঙার চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ করেছে দেশটির ক্ষমতাসীন সরকার। শুক্রবার অনুষ্ঠিতব্য সর্বদলীয় বৈঠকে নরেন্দ্র মোদির বক্তব্যকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে অপব্যাখ্যা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করে বিবৃতি দিয়েছে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়।

শনিবার প্রধানমন্ত্রী কার্যালয় থেকে দেয়া বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, এটা খুবই দুর্ভাগ্যজনক যে আমাদের সাহসী সৈন্যরা যখন আমাদের সীমান্ত রক্ষা করছে, সেই সময় অহেতুক বিতর্ক সৃষ্টি করে তাদের মনোবল ভাঙার চেষ্টা হচ্ছে। যদিও সর্বদলীয় বৈঠকে জাতীয় এই সঙ্কটের সময়ে সরকার ও সশস্ত্র বাহিনীর প্রতি দ্ব্যর্থহীন ভাষায় বেশিরভাগ দলই সমর্থন জানিয়েছে। উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রচারের ফলে ভারতের জনগণের ঐক্যে চিড় ধরবে না সেই বিশ্বাস আমাদের রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী (নরেন্দ্র মোদি) গতকাল সর্বদলীয় বৈঠকে যে বক্তব্য পেশ করেছেন, কোন কোন মহল উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তার অপব্যাখ্যা করছে। প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, নিয়ন্ত্রণরেখা বরাবর সীমালংঘন করা হলে ভারত তার কড়া জবাব দেবে। তিনি নির্দিষ্ট করে জানিয়েছেন, এই ধরণের চ্যালেঞ্জকে অতীতে অবহেলা করা হলেও বর্তমানে নিয়ন্ত্রণরেখাকে না মানলে ভারতীয় বাহিনী তা যথাযথভাবে প্রতিহত করবে। (“উনহে রোখতে হ্যায়, উনহে রোখতে হ্যায়”) সর্বদলীয় বৈঠকে এটিও জানানো হয়েছে, চীনা বাহিনী এবার অনেক বেশি সংখ্যায় নিয়ন্ত্রণরেখা লংঘন করতে এসেছিল, ভারতও তার যোগ্য জবাব দিয়েছে।

শনিবার সকালে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে টুইটবার্তায় রাহুল গান্ধী বলেন, চীন এ দেশে না ঢুকলে ভারতীয় সেনার মৃত্যু হল কেন? কোন এলাকায় মৃত্যু হল তাঁদের? চীনা আগ্রাসন নিয়ে সর্বদল বৈঠকের পর, বেলা গড়াতেই তার উত্তর এল কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর তরফে। টুইটে আহত জওয়ানের বাবার বক্তব্যের ভিডিও জুড়ে অমিত শাহ পাল্টা আক্রমণ করেছেন— রাহুল গান্ধীর উচিত দেশের সংহতির স্বার্থে ক্ষুদ্র রাজনৈতিক গণ্ডির ঊর্ধ্বে উঠে আসা।

লাদাখ সীমান্তে চীনা আগ্রাসনের প্রেক্ষিতে শুক্রবার সর্বদলীয় বৈঠকের ডাক দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। বৈঠকে তিনি দাবি করেন, চীন থেকে লাদাখে কেউ ভারতের ভূখণ্ডে ঢোকেনি। কেউ ভারতের এলাকায় ঢুকে বসেও নেই।

এর প্রেক্ষিতেই এ দিন সকালে প্রধানমন্ত্রীকে বিঁধে টুইট করেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী। তিনি প্রশ্ন তোলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী ভারতীয় ভূখণ্ড চীনের আগ্রাসনের সামনে সমর্পণ করে দিয়েছেন। যদি ওই ভূখণ্ড চীনেরই হয়, তা হলে আমাদের সেনার মৃত্যু হল কেন? সেনাদের মৃত্যু হল কোন জায়গায়?’

এর কিছুক্ষণের মধ্যেই রাহুলকে নিশানা করে পাল্টা টুইট করেন অমিত শাহ। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লেখেন, ‘‘একজন সাহসী সেনার বাবা বলছেন এবং রাহুল গান্ধীকে তিনি স্পষ্ট বার্তা দিচ্ছেন।’

এর পরেই অমিত শাহ যোগ করেছেন, ‘যখন গোটা দেশ এক, তখন রাহুল গান্ধীর উচিত ক্ষুদ্র রাজনৈতিক গণ্ডি থেকে বেরিয়ে আসা এবং দেশের স্বার্থে পাশে দাঁড়ানো।’

টুইটে গলওয়ান উপত্যকায় চীনা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে আহত সেনাকর্মীর বাবার বক্তব্যের ভিডিও জুড়ে দিয়েছেন অমিত শাহ। ওই ব্যক্তিকে বলতে শোনা গিয়েছে, ‘ভারতীয় সেনা শক্তিশালী এবং তারা চীনা বাহিনীকেও হারাতে পারে। রাহুল গান্ধী, আপনি রাজনীতিকে প্রশ্রয় দেবেন না। সেনাবাহিনীতে আমার ছেলে লড়াই করেছে এবং লড়াই চালিয়ে যাবেও।’

শুক্রবার সর্বদলীয় বৈঠকে কংগ্রেস ও বিভিন্ন দলে প্রশ্নবানে জর্জরিত হন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তাদের প্রশ্ন ছিল প্রধামন্ত্রী যদি বলেন যে, আমাদের সীমান্তে চীনা সেনাবাহিনী ঢুকেনি, তাহলে সেখানে আমাদের সেনারা কেন মারা গেল?

রাহুল গান্ধী আরও বলেন, ‘‘এটা স্পষ্ট যে গালওয়ানে চীন যে হামলা চালিয়েছে, তা পূর্ব পরিকল্পিত। কেন্দ্রীয় সরকার প্রথমে ঘুমোচ্ছিল এবং পরে তা অস্বীকার করে। এর মূল্য চোকাতে হয় আমাদের শহীদ জওয়ানদের।’’