এক স্কুলেই চাকরী জীবনের ৪১ বছর শেষে অবসর
অনলাইন ডেস্ক
শিক্ষিকা স্মৃতিকা রাণী দেব ডলি। দীর্ঘ ৪১ বছর এক স্কুলে শিক্ষা দান করে শিক্ষকতা জীবন থেকে অবসরে গিয়েছেন তিনি। চাকরি জীবনে ৪১ বছর কাটিয়েছেন সিলেট জেলার গোলাপগঞ্জ উপজেলার শত বছরের প্রাচীন প্রতিষ্ঠান দত্তরাইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। গত ৩১ ডিসেম্বর ছিল তাঁর শিক্ষকতা জীবনের শেষ কর্মদিবস। দীর্ঘদিনের কর্মজীবন শেষে সহকর্মী, শিক্ষার্থীদের অশ্রুশিক্ত নয়নে বিদায় নিয়েছেন তিনি।
মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) তাঁর বিদায় সংবর্ধনা দিয়েছে এলাকাবাসী, শিক্ষকবৃন্দ ও বর্তমান-প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা। বিদ্যালয় প্রাঙ্গনে আয়োজিত শিক্ষকতা জীবনের অবসরমূলক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তাঁর সহকর্মীদের পাশাপাশি উপস্থিত হন বিদ্যালয়ের প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থীরা।
দত্তরাইল এলাকাবাসী, শিক্ষক -শিক্ষিকা ছাত্র -ছাত্রীর উদ্যোগে আয়োজিত অনুষ্ঠানে উদযাপন কমিটির সভাপতি কয়েছ উদ্দিন সুলতান এর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথির বক্তব্যে রাখেন, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা দেওয়ান নাজমুল আলম। বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা ফারহানা রহমান ও সংবর্ধনা অনুষ্ঠান কমিটির সদস্য রেজওয়ান হোসেন রাজুর পরিচালনায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে দেন, উপজেলা রিসোর্ট সেন্টারের ইনস্টাক্টর স্বদেশ চন্দ পাল, উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা মো. জোবায়ের আহমেদ, স্কাউটসের আঞ্চলিক উপ- কমিশনার ডা. সিরাজুল ইসলাম, ঢাকাদক্ষিণ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের অধ্যক্ষ ইসমাইল উদ্দিন খান, অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক মো. আব্দুল জলিল, ঢাকাদক্ষিণ বহুমূখী উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক বিধান পাল, সাংবাদিক ফয়সল আলম, সমাজসেবক গোলাম মোস্তফা খান, সরকারি এমসি একাডেমি স্কুল এন্ড কলেজের শিক্ষক জাকের আহমদ, ইউপি সদস্য রেজাউল করিম রাজু, সংবর্ধনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল আজাদ, শিক্ষক সামস উদ্দীন, শিক্ষিকা সুলতানা কামাল, উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক শাহজাহান আহমদ, প্রাক্তন শিক্ষার্থী প্রবাসী রুহুল আবেদ, শিক্ষার্থী মুহতাসিম অন্বয়।
অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কুরআন তেলাওয়াত করেন স্কুলের শিক্ষার্থী মাহবুবুর রহমান মারজান ও গীতা পাঠ করেন পূর্ণিমা মালাকার।
স্বাগত বক্তব্য রাখেন, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বুরহান উদ্দিন আহমদ এবং বিদায়ী শিক্ষকের উদ্দেশ্য মানপত্র পাঠ করেন সিনিয়র শিক্ষিকা সফওয়ানা রহমান । এসময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, বিশিষ্ট মুরব্বি জয়নাল আবেদিন খান, উদযাপন কমিটির সদস্য মুজিবুর রহমান জিতু, শিক্ষক নারগীস পারভীন, হানিফ আহমদ, উদযাপন কমিটির সদস্য বাবুল আহমদ, পল্লব দে, দুলাল সেন, নজমুল ইসলাম খান, ছালিম ছিদ্দিকি রনি, সাংবাদিক ফারহান মাসউদ আফছর, জাকির আহমদ, রেমল আহমদ, প্রাক্তন শিক্ষার্থী আদনান খান নবিন, মিনহাজ খান সোহাগ।
এছাড়াও সহকারী শিক্ষকরা, এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, অভিভাবক, প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে শিক্ষিকা ডলিকে পুষ্পমাল্য পড়িয়ে ফুল দিয়ে সাজানো গাড়িতে করে বাড়ি পৌঁছে দেন শিক্ষার্থীরা। স্মৃতিকা রাণী দেব ডলি ১৯৮৪ সালে শিক্ষকতা জীবন শুরু করেন। শুরু থেকে প্রথম ছয় মাস অন্য একটি বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেন। পরে তিনি বদলি হয়ে আসেন দত্তরাইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। এরপর শিক্ষকতা জীবনের ৪১ বছর দত্তরাইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় চাকুরী করে অবসরে যান।