• সিলেট, দুপুর ১:১৭, ৩০শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

অ হং কা র থেকে দূরে থাকতে হবে

admin
প্রকাশিত জানুয়ারি ২৬, ২০২৬
অ হং কা র থেকে দূরে থাকতে হবে

Manual3 Ad Code

অ হং কা র থেকে দূরে থাকতে হবে

এম এ মান্নান

 

অহংকার ইসলামে নিষিদ্ধ। আল্লাহ বলেন, তুমি পৃথিবীতে অহংকার করে চলো না। নিশ্চয়ই তুমি জমিনকে ধ্বংস করতে পারবে না এবং পাহাড়ের উচ্চতায়ও পৌঁছতে পারবে না (ইসরা-৩৭)।

আল্লাহ তায়ালা অন্যত্র বলেন, এটা নিঃসন্দেহে যে, আল্লাহ জানেন যা তারা গোপন করে এবং যা তারা প্রকাশ করে; তিনি অহংকারীকে পছন্দ করেন না (নাহল-২৩)।

আল্লাহ অন্যত্র বলেন, অহংকারবশত তুমি মানুষকে অবজ্ঞা করো না এবং পৃথিবীতে অহংকার করে বিচরণ করো না, কারণ আল্লাহ কোনো অহংকারীকে পছন্দ করেন না (লোকমান-১৮)।

Manual4 Ad Code

উপরোক্ত আয়াতে আল্লাহ দাম্ভিক ও অহংকারীকে অপছন্দ করেন বলে ঘোষণা করেছেন। মহান আল্লাহ তায়ালা মানুষকে সৃষ্টি করেছেন। মানুষের মধ্যে কেউ সাদা, কেউ কালো, কেউ ধনী, কেউ গরিব। মানুষের মাঝে এই ভেদাভেদ আল্লাহই সৃষ্টি করেছেন। আবার সবার রিজিকের ব্যবস্থাও তিনি করেন। মানুষ কেউই স্বয়ংসম্পূর্ণ নয়। কোনো না কোনো কাজে ও প্রয়োজনে তাকে অন্যের সাহায্য নিতে হয়। অপরের মুখাপেক্ষী হতে হয়। কাজেই অহংকার করা মানুষের সাজে না। অহংকারের পরিণতি সম্পর্কে রসুল (সা.) কঠিন হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন।

হজরত হারিছা ইবনে ওহাব (রা.) বলেন, রসুল (সা.) বলেছেন : আমি কি তোমাদের জান্নাতি লোকের কথা বলব না? তারা হলো সরলতার দরুন দুর্বল, যাদের লোকেরা হীন, তুচ্ছ ও দুর্বল মনে করে। আল্লাহ তাদের এত ভালোবাসেন, তারা কোনো বিষয়ে কসম করলে তাদের সত্যে পরিণত করেন। তারপর নবী করিম (সা.) বললেন, আমি তোমাদের কি জাহান্নামিদের কথা বলব না? তারা হলো, যারা অনর্থক কথা নিয়ে বিবাদ করে, আর যারা বদমেজাজি অহংকারী (মুসলিম ও মিশকাত)।

Manual6 Ad Code

হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) বলেন, রসুল (সা.) বলেছেন : যার অন্তরে বিন্দু পরিমাণ অহংকার থাকবে, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে না। তখন এক ব্যক্তি বলল, কেউ তো পছন্দ করে যে তার পোশাক ভালো হোক, তার জুতা সুন্দর হোক, এটাও কি অহংকার? তিনি বললেন, আল্লাহ নিজে সুন্দর এবং সুন্দরকে পছন্দ করেন।

অহংকার হলো- হককে অহংকার করে পরিত্যাগ করা এবং মানুষকে হীন ও তুচ্ছ মনে করা (মুসলিম, মিশকাত হা/৫১০৮)।

Manual4 Ad Code

হজরত আবু হুরায়রা (রা.) বলেন, রসুল (সা.) বলেছেন : আল্লাহ তায়ালা বলেন, অহংকার আমার চাদর আর আত্মম্ভরিতা আমার লুঙ্গি। এ দুটির কোনো একটি কেউ গ্রহণ করলে আমি তাকে জাহান্নামে দেব (মুসলিম ও মিশকাত)। সোজা কথায় আল্লাহ ছাড়া আর কারোর অহংকার করা বৈধ নয়। হজরত আমর ইবনে শুআইব (রা.) তাঁর পিতার মাধ্যমে তাঁর দাদা হতে বর্ণনা করেন, রসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন : কিয়ামতের দিন অহংকারীদের পিপীলিকার ন্যায় জড়ো করা হবে। অবশ্য আকৃতি-অবয়ব হবে মানুষের। অপমান তাদের চারদিক থেকে বেষ্টন করে রাখবে। বাওলাস নামক জাহান্নামের কারাগারের দিকে তাদের হাঁকিয়ে নেওয়া হবে। আগুনের অগ্নিশিখা তাদের ওপর ছেয়ে যাবে। আর তাদের পান করানো হবে জাহান্নামিদের দেহ নিংড়ানো ‘তিনাতুল খাবাল’ নামক কদর্য পুঁজ-রক্ত (তিরমিজি)।

হজরত আবু হুরাইরা (রা.) থেকে বর্ণিত, রসুল (সা.) বলেছেন : তিনটি জিনিস মুক্তিদানকারী এবং তিনটি জিনিস ধ্বংসসাধনকারী। মুক্তিদানকারী জিনিসগুলো হলো, প্রকাশ্যে ও গোপনে আল্লাহকে ভয় করা। খুশি ও অখুশি উভয় অবস্থায় সত্য কথা বলা ও ধনী এবং দরিদ্র উভয় অবস্থায় মধ্যপন্থা অবলম্বন করা।

আর ধ্বংসসাধনকারী জিনিসগুলো হলো, প্রবৃত্তির অনুসারী হওয়া, লোভ-লালসার দাস হওয়া বা কৃপণ হওয়া এবং কোনো ব্যক্তির আত্ম অহমিকায় লিপ্ত হওয়া এবং তা হলো সর্বাপেক্ষা জঘন্য (শুয়াবুল ইমান, মিশকাত হা/৫১২২, সনদ হাসান)।

হজরত আবদুল্লাহ মাসউদ (রা.) বলেন, রসুল (সা.) বলেছেন : যার অন্তরে সরিষা সমপরিমাণ ইমান আছে, সে জাহান্নামে যাবে না। আর যার অন্তরে সরিষা সমপরিমাণ অহংকার আছে সে জান্নাতে যাবে না (মুসলিম, মিশকাত)। হাদিস দ্বারা প্রতীয়মাণ, অহংকারী ব্যক্তি জান্নাতে যেতে পারবে না। উপরোক্ত হাদিসে দুটি বিষয় এমনভাবে সাংঘর্ষিক, ইমান থাকলে জাহান্নামে যাবে না। আর অহংকার থাকলে জান্নাতে যাবে না।

Manual7 Ad Code

তাই প্রত্যেক মুমিন যেন অহংকার হতে নিজের অন্তরকে সদা পবিত্র রাখে এবং এর কলুষ-কালিমা দ্বারা নিজের অন্তরকে নির্মল রাখে। আল্লাহ আমাদের সবাইকে অহংকারের গহ্বরে পতিত হওয়ার বিপদ থেকে রক্ষা করুন।

লেখক : ইসলামবিষয়ক গবেষক।

বিডি-প্রতিদিন

Latif Travels
Metropolitan University

আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন

📞 মোবাইল: +8801712540420

✉️ ইমেইল: pavel.syl@gmail.com