• সিলেট, দুপুর ২:০৩, ৮ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

তত্ত্বাবধায়ক সরকার, দ্বিকক্ষীয় সংসদসহ বিএনপির ইশতেহারে ৩৫ প্রস্তাবনা

admin
প্রকাশিত ফেব্রুয়ারি ৬, ২০২৬
তত্ত্বাবধায়ক সরকার, দ্বিকক্ষীয় সংসদসহ বিএনপির ইশতেহারে ৩৫ প্রস্তাবনা

Manual2 Ad Code

তত্ত্বাবধায়ক সরকার, দ্বিকক্ষীয় সংসদসহ বিএনপির ইশতেহারে ৩৫ প্রস্তাবনা

অনলাইন ডেস্ক

 

রাষ্ট্র কাঠামোর গণতান্ত্রিক রূপান্তর ও ঐতিহাসিক জুলাই ছাত্র-গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে সংবিধান সংস্কারের বিস্তারিত রূপরেখা তুলে ধরেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। দলটির নির্বাচনী ইশতেহারে নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনঃপ্রবর্তন, দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট আইনসভা গঠন, প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার মেয়াদ নির্দিষ্টকরণ এবং বিচার বিভাগের পূর্ণ স্বাধীনতাসহ ৩৫টি সুনির্দিষ্ট অঙ্গীকার করা হয়েছে।

প্রস্তাবনায় বলা হয়েছে, ১৭ অক্টোবর ২০২৫ তারিখে স্বাক্ষরিত ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ এবং বিএনপির ৩১ দফার ভিত্তিতে এই সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হবে। এতে সংবিধানে ‘সর্বশক্তিমান আল্লাহর প্রতি পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস’ পুনঃস্থাপনের পাশাপাশি ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে বাতিলকৃত তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

আজ শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান দলের ইশতেহার ঘোষণা করেন। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হবে।

সংবিধান সংস্কার বিষয়ে বিএনপির ইশতেহারে উল্লিখিত ৩৫টি পয়েন্ট তুলে ধরা হলো:

সাংবিধানিক সংস্কার প্রস্তাবনাসমূহ
১. সংবিধান সংস্কারের বিষয়ে বিগত ১৭ অক্টোবর ২০২৫ তারিখে জুলাই জাতীয় সনদ যে আঙ্গিকে ঐকমত্য ও স্বাক্ষরিত হয়েছে, সেগুলো সে মতে বাস্তবায়নে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।

২. ‘সর্বশক্তিমান আল্লাহর প্রতি পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস’ রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি হিসেবে সংবিধানে পুনঃস্থাপন করা হবে।

বিএনপি সব বিতর্কিত ও অগণতান্ত্রিক সাংবিধানিক সংশোধনী ও বিধানাবলী পর্যালোচনা ও পুনঃপরীক্ষা করে প্রয়োজনীয় সাংবিধানিক সংস্কার করবে। রাষ্ট্র কাঠামোর গণতান্ত্রিক সংস্কারের লক্ষ্যে ৩১ দফার ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় সাংবিধানিক সংস্কার সাধন করা হবে।
৩. বাংলাদেশে গণতন্ত্র ও ভোটাধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠায় এবং স্বচ্ছ গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে স্থায়ী সাংবিধানিক ও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার লক্ষ্যে একটি ‘নির্বাচনকালীন দল নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার’ ব্যবস্থা প্রবর্তন করা হবে। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের রূপরেখা কেমন হবে তা পরবর্তী সংসদে আলোচনা এবং স্বাক্ষরিত জুলাই জাতীয় সনদের ভিত্তিতে নির্ধারিত হবে।

তবে বিচার বিভাগ ও রাষ্ট্রপতিকে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার বাইরে রাখতে চায় বিএনপি। উল্লেখ্য, বিএনপি সরকারের সময়ই এদেশে প্রথম তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা প্রবর্তিত হয়েছিল যা ফ্যাসিস্ট হাসিনা আমলে বাতিল করা হয়।
৪. একজন উপ-রাষ্ট্রপতির পদ সৃজন করা হবে এবং তিনি রাষ্ট্রপতির মতই নির্বাচিত হবেন।

৫. একজন ব্যক্তি প্রধানমন্ত্রী পদে যত মেয়াদ বা যতবারই হোক, তিনি সর্বোচ্চ ১০ (দশ) বছর অধিষ্ঠিত থাকতে পারবেন। প্রধানমন্ত্রীর পদে আসীন ব্যক্তি একই সঙ্গে দলীয় প্রধানের পদেও অধিষ্ঠিত থাকতে পারবেন।

৬. রাষ্ট্রপতি এবং প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতায় ভারসাম্য আনয়ন করা হবে।

৭. বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা হবে।

৮. সংবিধানের এককেন্দ্রিক চরিত্র অক্ষুন্ন রেখে বিদ্যমান সংসদীয় ব্যবস্থার পাশাপাশি বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে রাষ্ট্র পরিচালনায় সহযোগিতার লক্ষ্যে দেশের বিশিষ্ট নাগরিক, প্রথিতযশা শিক্ষাবিদ, আইনজীবী, রাষ্ট্রবিজ্ঞানী, সমাজবিজ্ঞানী, প্রশাসনিক অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ব্যক্তি ও অন্যান্য পেশাজীবীদের সমন্বয়ে সংসদে ১০০ সদস্যবিশিষ্ট উচ্চকক্ষ প্রবর্তন করা হবে। রাজনৈতিক দলসমূহ নিম্নকক্ষের অর্জিত আসন সংখ্যার আনুপাতিক হারে উচ্চকক্ষে প্রতিনিধিত্ব করবে।

৯. আইনসভার উভয়কক্ষে দুইজন ডেপুটি স্পিকারের মধ্য থেকে একজন ডেপুটি স্পিকার সরকার দলীয় ব্যতীত অন্যান্য সদস্যদের মধ্য থেকে মনোনীত করা হবে।

১০. নিম্নকক্ষের সাধারণ নির্বাচনের চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশের সময় উচ্চকক্ষের প্রার্থী তালিকা প্রকাশের প্রয়োজন হবে না। উচ্চকক্ষে কমপক্ষে ১০% নারী সদস্য থাকবেন।

১১. আস্থাভোট, অর্থবিল, সংবিধান সংশোধনী বিল এবং রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার প্রশ্ন জড়িত (যেমন: যুদ্ধ পরিস্থিতি) এমন সব বিষয় ব্যতীত অন্যসব বিষয়ে সংসদ সদস্যদের স্বাধীনভাবে মতামত প্রদানের সুযোগ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ সংশোধন করা হবে।

১২. সংবিধান সংশোধনী, অর্থবিল, আস্থাভোট এবং জাতীয় নিরাপত্তা (যুদ্ধ পরিস্থিতি) ইত্যাদি ছাড়া অন্যসব বিল উচ্চকক্ষে প্রেরণ করা হবে। উচ্চকক্ষ কোনো বিল সর্বোচ্চ ১ (এক) মাসের বেশি আটকে রাখলে তা উচ্চকক্ষ কর্তৃক অনুমোদিত বলে বিবেচিত হবে।

১৩. আন্তর্জাতিক চুক্তি সম্পাদনকালে জাতীয় স্বার্থ ও রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তাকে সর্বাধিক অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। সম্পাদিত চুক্তি সম্পর্কে জাতীয় সংসদকে অবহিত রাখা হবে।

১৪. দক্ষ, নিরপেক্ষ, গ্রহণযোগ্য ও দৃঢ়চিত্ত ব্যক্তিদের সমন্বয়ে একটি কার্যকর নির্বাচন কমিশন গঠন করার লক্ষ্যে জুলাই জাতীয় সনদের ভিত্তিতে সংবিধানে প্রয়োজনীয় সংশোধনী আনয়ন করা হবে।

১৫. সরকারি কর্মকমিশন ও দুর্নীতি দমন কমিশন গঠনের জন্য এবং মহা হিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক পদে নিয়োগের জন্য প্রয়োজনীয় আইন প্রণয়ন করা হবে। পাবলিক সার্ভিস কমিশনকে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সাধারণ (অন্য সকল সেক্টরে) নিয়োগের জন্য যথোপযুক্ত শক্তিশালী কাঠামোতে রূপান্তর করা হবে।

১৬. বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর এবং বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের চেয়ারম্যান ও সদস্যগণ আইনানুসারে সরকার কর্তৃক নিয়োগ প্রাপ্ত হবেন।

১৭. সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের জ্যেষ্ঠতম দুই জন বিচারপতির মধ্য থেকে একজনকে প্রধান বিচারপতি হিসেবে রাষ্ট্রপতি কর্তৃক নিয়োগ প্রদানের সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা নিশ্চিত করা হবে।

১৮. রাজধানীতে সুপ্রিম কোর্টের স্থায়ী আসন থাকবে। তবে, প্রধান বিচারপতি প্রতিটি বিভাগে এক বা একাধিক স্থায়ী বেঞ্চ প্রতিষ্ঠা করতে পারবেন।

Manual3 Ad Code

১৯. সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলকে অধিকতর শক্তিশালী ও এর এখতিয়ার বৃদ্ধি করা হবে।

২০. অধঃস্তন আদালতের বিচারকদের চাকরির নিয়ন্ত্রণ সম্পূর্ণভাবে সুপ্রিম কোর্টের উপর ন্যস্ত করার জন্য সংবিধানের প্রয়োজনীয় সংশোধন করা হবে।

২১. আইনের মাধ্যমে পর্যায়ক্রমে জেলা পর্যায়ে স্থায়ী প্রসিকিউশন/অ্যাটর্নি সার্ভিস প্রতিষ্ঠা করা হবে।

২২. জাতীয় সংসদের সরকারি হিসাব কমিটি, প্রিভিলেজ কমিটি, অনুমিত হিসাব কমিটি ও সরকারি প্রতিষ্ঠান কমিটির সভাপতি পদে বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। এসব কমিটিসহ জাতীয় সংসদে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি পদ সংসদে প্রাপ্ত আসনের সংখ্যানুপাতে বিরোধীদলের মধ্য থেকে নিয়োগ নিশ্চিত করা হবে।

২৩. রাষ্ট্রপতির ক্ষমা প্রদর্শনের ক্ষেত্রে সংবিধানে এরূপ বিধান যুক্ত করা হবে যে, কোনো আদালত, ট্রাইব্যুনাল বা অন্য কোনো কর্তৃপক্ষ কর্তৃক প্রদত্ত যেকোনো দণ্ডের মার্জনা, বিলম্বন ও বিরাম মঞ্জুর করার এবং যেকোনো দণ্ড মওকুফ, স্থগিত বা হ্রাস করার ক্ষমতা রাষ্ট্রপতির থাকবে এবং আইনের দ্বারা নির্ধারিত মানদণ্ড, নীতি ও পদ্ধতি অনুসরণক্রমে তিনি ওই ক্ষমতা প্রয়োগ করবেন।

২৪. নির্বাচন কমিশনের সরাসরি তত্ত্বাবধানে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানসমূহের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এজন্য প্রয়োজনীয় আইন প্রণয়ন করা হবে।

২৫. স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের কার্যকর স্বায়ত্তশাসন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এরূপ প্রতিষ্ঠানের আর্থিক ও তহবিল ব্যবস্থাপনার জন্য যথাযথ আইন প্রণয়ন করা হবে।

২৬. স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের কাজে নিয়োজিত সরকারি কর্মকর্তা/কর্মচারীদের সাথে এরূপ প্রতিষ্ঠানের সম্পর্ক যথাযথ আইন দ্বারা নির্ধারিত হবে।

২৭. পুলিশ বাহিনীর পেশাদারিত্ব ও দায়বদ্ধতা নিশ্চিতকরণ এবং পুলিশি সেবাকে জনবান্ধব হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার লক্ষ্যে একটি পুলিশ কমিশন গঠন করা হবে। এতদসংক্রান্ত অধ্যাদেশটি প্রয়োজনীয় সংস্কার/পর্যালোচনার মাধ্যমে যথাযথ আইন প্রণয়ন করা হবে।

২৮. একটি স্বতন্ত্র ফৌজদারি তদন্ত সার্ভিস গঠন করার বিষয়টি সংসদে পর্যালোচনা করে দেখা হবে।

Manual2 Ad Code

২৯. জুলাই অভ্যুত্থানকালে রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস ও নিপীড়নের সঙ্গে জড়িত এবং ভোট জালিয়াতি ও দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের চিহ্নিতকরণ এবং তাদের বিরুদ্ধে উপযুক্ত পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য স্বাধীন তদন্ত কমিশন গঠন করা হবে।

৩০. ঐতিহাসিক জুলাই ছাত্র-গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণের কারণে গণঅভ্যুত্থানকারীদের আইনি ও সাংবিধানিক সুরক্ষা নিশ্চিত করা হবে।

৩১. ‘ন্যায়পাল’ নিয়োগ করা হবে। এ প্রসঙ্গে উল্লেখ্য যে, বিএনপি আমলে সৃষ্ট ‘কর ন্যায়পাল’ পদটি বেশ কার্যকর বলে বিবেচিত হয়েছিল।

৩২. বেসরকারি খাতের দুর্নীতির তদন্ত ও বিচারের ক্ষেত্রে বিদ্যমান আইনের যথাযথ প্রয়োেগ নিশ্চিত করা হবে।

৩৩. জাতীয় সংসদের অনুমোদন সাপেক্ষে বাংলাদেশকে রাষ্ট্রীয়ভাবে ‘ওপেন গভর্নমেন্ট পার্টনারশিপ’র পক্ষভুক্ত করা হবে।

Manual3 Ad Code

৩৪. আয়কর রিটার্ন প্রাইভেট ডকুমেন্ট হলেও দুর্নীতি দমন কমিশন অথবা অন্য কোনো কর্তৃপক্ষ যেন আদালতের মাধ্যমে তা তলব করতে পারবে, তার নিশ্চয়তা বিধান করা হবে।

Manual1 Ad Code

৩৫. রাজনৈতিক দলের সঙ্গে বিজ্ঞ আইনজীবীদের সংগঠনের সংশ্লিষ্টতা তাদের রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক অধিকার – এ নীতিকে সমুন্নত রাখা হবে।

বিডি প্রতিদিন/

Latif Travels
Metropolitan University

আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন

📞 মোবাইল: +8801712540420

✉️ ইমেইল: pavel.syl@gmail.com