চট্টগ্রামে নির্বাচনী ছুটিতে ‘ঈদের আমেজ’ যানজটের নগরীতে পিনপতন নীরবতা
অনলাইন ডেস্ক
চট্টগ্রাম নগরের নিউ মার্কেট কিংবা কোতোয়ালি মোড়, সাধারণ দিনে এসব এলাকায় থাকে তীব্র যানজট, পথচারীর ভিড় আর কোলাহল। দিন-রাত সমান ব্যস্ততা, লোকে লোকারণ্য পরিবেশ। কোথাও দাঁড়ানোর ফুরসত মেলে না। অথচ এখন সেখানে পিনপতন নীরবতা। নেই যানবাহনের চাপ, নেই মানুষের ভিড়। হাতেগোনা কিছু যান চলাচল করছে, তাও সীমিত। পুরো নগরজুড়েই যেন ছুটির আমেজ।
বৃহস্পতিবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। নির্বাচন উপলক্ষে বুধবার থেকে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। ছুটি থাকবে শনিবার পর্যন্ত। দীর্ঘ ছুটির সুযোগে অনেকেই শহর ছেড়ে গ্রামের বাড়িতে গেছেন। ফলে চট্টগ্রাম নগর অনেকটাই ফাঁকা হয়ে পড়েছে। অনেকটা ঈদের ছুটির সময়ের মতো চিত্র।
বুধবার সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত নগরের প্রধান সড়কগুলো প্রায় জনশূন্য দেখা গেছে। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া সাধারণ মানুষ রাস্তায় বের হচ্ছেন না। গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও মোড়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের টহল দিতে দেখা গেছে। বিভিন্ন স্থানে অবস্থান নিয়ে নিরাপত্তা তদারকি করছেন তারা।
কোতোয়ালি আসনের বাসিন্দা মাশরাফি হাসান বলেন, শহরের অধিকাংশ মানুষই এখন গ্রামে চলে গেছেন। ফলে পুরো নগর এখন অনেক ফাঁকা। সীমিত পরিসরে চলছে যানবাহন। কিন্তু গাড়িগুলো অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করছে। আমাদেরও বাধ্য হয়ে বর্ধিত ভাড়া যেতে হচ্ছে।
চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে পুরো চট্টগ্রাম জেলাকে নিরাপত্তার বলয়ে আনা হয়েছে। এবার নির্বাচনের লক্ষ্য কেবল ভোটগ্রহণ ও ফলাফল ঘোষণায় সীমাবদ্ধ নয়। বরং প্রত্যেক ভোটার যেন উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে তাদের সুচিন্তিত মতামত প্রকাশ এবং নিরাপদে বাড়ি ফিরতে পারেন- সেই নিশ্চয়তা প্রদানই প্রশাসনের প্রধান অগ্রাধিকার।
চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের উপ কমিশনার হোসাইন মোহাম্মদ কবির ভুঁইয়া বলেন, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে চারদিনের বিশেষ নিরাপত্তা পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। স্ট্রাইকিং ফোর্স ও মোবাইল টিম আগে থেকেই মাঠে কাজ শুরু করেছে। রিজার্ভ ফোর্স প্রস্তুত রাখা হয়েছে। ভোটারদের নিরাপদে আসা যাওয়া নিশ্চিত করতে সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
সরেজমিন দেখা যায়, নগরের আগ্রাবাদ, বহদ্দারহাট, মুরাদপুর, ২ নম্বর গেট, জিইসি মোড়, চকবাজার, জামাল খান, আন্দরকিল্লা, গণি বেকারি মোড়, কাজীর দেউড়ি, লাভলেইন, কোতোয়ালীর মোড় ও নিউ মার্কেটসহ বিভিন্ন এলাকার সড়কে যানবাহনের সংখ্যা একেবারেই কম। নেই গণপরিবহন। সবাইকে চলতে হচ্ছে রিকশা ও সিএনজিচালিত অটোরিকশায়। এবার চট্টগ্রামে মোট ভোটার ৬৬ লাখ ৮২ হাজার ৫১৭ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৩৪ লাখ ৮৩ হাজার ৮৭৭ জন, নারী ভোটার ৩১ লাখ ৯৮ হাজার ৫৭০ জন ও তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ৭০ জন। মোট ভোট কেন্দ্র ১ হাজার ৯৬৫টি।
বিডি-প্রতিদিন