• সিলেট, দুপুর ২:৩৩, ২০শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

বগুড়ায় ধানের শীষের জয়জয়কার, ইতিহাস গড়লেন তারেক রহমান

admin
প্রকাশিত ফেব্রুয়ারি ১৩, ২০২৬
বগুড়ায় ধানের শীষের জয়জয়কার, ইতিহাস গড়লেন তারেক রহমান

Manual7 Ad Code

বগুড়ায় ধানের শীষের জয়জয়কার, ইতিহাস গড়লেন তারেক রহমান

Manual4 Ad Code

 

অনলাইন ডেস্ক

বিএনপি প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের জন্মভূমি বগুড়া। এজন্য বগুড়াকে বিএনপির ঘাঁটি বলা হয়। সেই ঘাঁটিতে ওৎপেতে বসেছিল শকুন। সকল বাধা ডিঙিয়ে বিএনপির প্রার্থীরা বিশাল ব্যবধানে বিজয়ী হয়েছেন ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বগুড়ার সংসদীয় ৭টি আসনে ধানের শীষের জয়জয়কার হয়েছে। বিগত নির্বাচনগুলোতে বগুড়া থেকে বারবার বিপুল ভোটে এমপি নির্বাচিত হয়েছেন বিএনপির সাবেক চেয়ারপার্সন প্রয়াত বেগম খালেদা জিয়া। বাবা-মা ও ছেলের জেলা বগুড়ায় এবার জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রথমবার অংশ নিয়ে ইতিহাস গড়লেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তার এই বিজয়ে উচ্ছ্বসিত জেলাবাসী।

এদিকে এই বিজয় ঘিরে বিএনপি ও বগুড়াবাসীর মধ্যে চলছে আনন্দ-উল্লাস। বৃহস্পতিবার মধ্য রাতে নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর নেতাকর্মীরা জেলা শহরের নবাববাড়ীতে বিএনপির কার্যালয়ে জড়ো হন। সেখানে তারা মহান আল্লাহর নিকট শুকরিয়া আদায় করেন। একের পর এক নেতাকর্মীরা তাদের প্রিয় সন্তান বগুড়া-৬ সদর আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য ও আগামীর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাথে মোবাইল ফোনে কথা বলেন। সেসময় ঢাকা থেকে তারেক রহমান নেতাকর্মীদেরকে জানান, বিজয়ীদের কাছে পরাজিতরা নিরাপদ থাকলে সেই বিজয় হয় প্রকৃত বিজয়। তাই তিনি সকলকে শান্ত থাকতে বলেন। তারেক রহমান এর সাথে নেতাকর্মীরা ফোনে কথা বলায় বগুড়া জেলা জুড়ে শুরু হয় তারেক বসন্তের জোয়ার।

Manual7 Ad Code

জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক ও নবনির্বাচিত এমপি আলহাজ্ব মোশারফ হোসেন বাংলাদেশ প্রতিদিন এর এই প্রতিবেদককে জানান, আমরা মানুষের ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য লড়াই করেছি। সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত ভোট প্রদানের মাধ্যমে তাদের অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়েছে। বগুড়া-৬ আসনসহ ৭ টি সংসদীয় আসন আমাদের চেয়ারম্যানকে আমরা উপহার দিয়েছি। এজন্য মহান আল্লাহর নিকট শুকরিয়া আদায় করেছেন নেতাকর্মীরা। বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান ফলাফল ঘোষণার পরপরেই বগুড়ার নেতাকর্মীদেরকে মোবাইল ফোনে ধন্যবাদ এবং শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। তিনি সকলকে শান্ত থাকতে বলেছেন।

জানা যায়, উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বগুড়ার ৭টি সংসদীয় আসনের সব কটিতেই বিএনপি‘র প্রার্থীরা বিশাল ব্যবধানে বিজয়ী হয়েছেন। বিএনপির ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত বগুড়ার আসনগুলোতে কাঙ্ক্ষিত জয় পেয়েছে বিএনপির প্রার্থীরা। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন হেভিওয়েট প্রার্থী বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন জামায়াতের প্রার্থী বগুড়া শহর জামায়াতের আমির আবিদুর রহমান সোহেল।

বগুড়া-৬ (সদর) আসনে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান ধানের শীষের প্রার্থী হয়ে বাবা-মায়ের পর এমপি নির্বাচিত হয়েছেন। জেলাবাসী বলছেন, বগুড়ায় তারেক বসন্ত চলছে। এ বিজয় তারেক রহমানের হ্যাট্রিক বিজয় হয়েছে। তিনি এই আসনে ২ লাখ ১৬ হাজার ২৮৪ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী জামায়াতের মো. আবিদুর রহমান সোহেল পেয়েছেন ৯৭ হাজার ৬২৬ ভোট।

অন্য প্রার্থীদের মধ্যে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আবু নুমান মো. মামুনুর রশিদ (হাতপাখা) পেয়েছেন ২ হাজার ৫০৮ ভোট, জেএসডি‘র আবদুল্লাহ আল ওয়াকি (তারা) পেয়েছেন ২৭৬ ভোট এবং বাসদের দিলরুবা পেয়েছেন ৭৯৫ ভোট। এই আসনে মোট ভোটার ৪ লাখ ৫৪ হাজার ৪৩ জন। এর মধ্যে ৩ লাখ ২২ হাজার ৪৮৫ জন ভোটার তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন। প্রদত্ত ভোটের মধ্যে ৩ লাখ ১৭ হাজার ৪৮৯টি ভোট বৈধ এবং ৪ হাজার ৯৯৬টি ভোট বাতিল বলে গণ্য হয়েছে। এই আসনে ভোট প্রদানের হার ৭১ দশমিক শূন্য ৩ শতাংশ।

Manual4 Ad Code

স্বাধীনতার পর ১৬টি জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও উপনির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী ১০ বার এই আসন থেকে নির্বাচিত হয়েছেন। ২০০৮ সাল পর্যন্ত সব জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বগুড়া-৬ আসন বিএনপির দখলে ছিল। এর মধ্যে ১৯৯১ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত চারবার সংসদ সদস্য হন বিএনপির চেয়ারপার্সন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী প্রয়াত বেগম খালেদা জিয়া। ২০১৮ সালের নির্বাচনে বিজয়ী হন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তবে তিনি শপথ না নেওয়ায় উপনির্বাচনে বিএনপির প্রবীণ রাজনৈতিক নেতা গোলাম মো. সিরাজ অংশ নিয়ে বিজয়ী হয়েছিলেন।

বগুড়া-১ (সারিয়াকান্দি-সোনাতলা) আসনে বিএনপির প্রার্থী কাজী রফিকুল ইসলাম ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে ১ লাখ ৭১ হাজার ৪৪০ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী জামায়াতের অধ্যক্ষ শাহাবুদ্দিন পেয়েছেন ৫৭ হাজার ৯৫৯ ভোট।

বগুড়া-২ (শিবগঞ্জ) আসনে বিএনপির প্রার্থী মীর শাহে আলম ১ লাখ ৪৫ হাজার ২৪ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী জামায়াতের আবুল আজাদ মোহাম্মাদ শাহাদুজ্জামান পেয়েছেন ৯৩ হাজার ৫৪৮ ভোট। অন্য প্রার্থীদের মধ্যে নাগরিক ঐক্য’র মাহমুদুর রহমান মান্না (কেটলি) পেয়েছেন ৩ হাজার ৪২৬ ভোট।

বগুড়া-৩ (দুপচাঁচিয়া-আদমদীঘি) আসনে বিএনপির প্রার্থী আব্দুল মহিত তালুকদার ১ লাখ ২৭ হাজার ৪০৬ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী জামায়াতের নূর মোহাম্মাদ পেয়েছেন ১ লাখ ১১ হাজার ২৬ ভোট।

বগুড়া-৪ (কাহালু-নন্দীগ্রাম) আসনে বিএনপির প্রার্থী আলহাজ্ব মোশারফ হোসেন ১ লাখ ৫৪ হাজার ৬৯৭ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী জামায়াতের মো. মোস্তফা ফয়সাল পেয়েছেন ১ লাখ ৮ হাজার ১৯১ ভোট।

Manual5 Ad Code

বগুড়া-৫ শেরপুর-ধুনট) আসনে বিএনপির প্রার্থী গোলাম মোহাম্মাদ সিরাজ ২ লাখ ৪৭ হাজার ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী জামায়াতের মো. দবিবুর রহমান পেয়েছেন ১ লাখ ৪২ হাজার ৯১ ভোট।

বগুড়া-৭ (গাবতলী-শাজাহানপুর) আসনে বিএনপির প্রার্থী মোরশেদ মিলটন ২ লাখ ৬২ হাজার ৫০১ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী জামায়াতের মো. গোলাম রব্বানী পেয়েছেন ১ লাখ ১৫ হাজার ১৮৪ ভোট।

বৃহস্পতিবার রাত দেড়টার দিকে বগুড়া জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. তৌফিকুর রহমান গণনা শেষে এই ফলাফল ঘোষণা করেন। দীর্ঘ দেড় দশক পর একটি বড় অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনে বগুড়ার সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা গেছে। বৃহস্পতিবার সকাল ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত উৎসবমুখর পরিবেশে সবগুলো আসনের কেন্দ্রগুলোতে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়।

বগুড়া জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও সিনিয়র আইনজীবী একেএম মাহবুবর রহমান জানান, বগুড়ায় রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়ে গত ১৮ বছর দৃশ্যত কোন উন্নয়ন হয়নি। শিক্ষা জীবন শেষ করেও চাকরি পায়নি অনেকেই। থেকেছে বেকার। অন্য জেলার বাসিন্দারা চাকরি পেলেও বগুড়ার বাসিন্দারা চাকরি পাননি। করা হয়নি দৃশ্যমূলক কোন উন্নয়ন। বগুড়া নাম শুনেই বাদ পড়েছে অনেক কিছু। এবার বঞ্চিত বগুড়ার উন্নয়নে হাল ধরতে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বিজয়কে স্বাগত জানিয়েছেন জেলাবাসী।

তিনি বলেন, রাজনীতিতে তারেক রহমানের অভিষেক হয় বাবা শহীদ রাষ্ট্রপতি বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের জন্মস্থান বগুড়ার নিভূত পল্লী গাবতলী উপজেলা থেকে। ১৯৯১ সালে সংসদ নির্বাচনে প্রথমবার প্রার্থী হয়েছিলেন মা বিএনপি সাবেক চেয়ারপার্সন মরহুম বেগম খালেদা জিয়া। ওই নির্বাচনী প্রচারই ছিল তারেক রহমানের দলীয় কার্যক্রম। তখন গাবতলী থানা বিএনপির একজন সদস্য থাকলেও পরে তাকে জেলা কমিটির সদস্য করা হয়। দলে গোপন ব্যালটে নেতৃত্ব নির্বাচন পদ্ধতি ফিরিয়ে এনে তারেক রহমান বগুড়াকে সাংগঠনিক মডেল জেলায় রুপান্তর করেন। দলকে গুছিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি দেশের জন্যও কাজ শুরু করেন। ২০০৭ সালে এসে দেশে অস্থিতিশীল পরিবেশ হয়ে উঠায় নানা ঘটনার জন্ম হয়। এরপর তিনি দীর্ঘসময় নির্বাসনে জীবন কাটান। বাবা ও মায়ের পর ছেলে তারেক রহমানের এই বিজয় ইতিহাস হয়ে থাকবে।

বিডি-প্রতিদিন

Latif Travels
Metropolitan University

আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন

📞 মোবাইল: +8801712540420

✉️ ইমেইল: pavel.syl@gmail.com