এনইইউবি আইসিটি ফেস্টে মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীদের সাফল্য
সিল নিউজ বিডি ডেস্ক
নতুন আলোকবর্তিকা হয়ে মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটির মেধাবী শিক্ষার্থীরা এনইইউবি আইসিটি ফেস্ট ২০২৫-এ সম্মানজনক সাফল্য অর্জন করেছে। জলবায়ু পরিবর্তন ও টেকসই বিষয়ক সৃজনশীল সমাধান প্রদানে গবেষণা, সৃজনশীলতা ও প্রযুক্তিগত দক্ষতার মেলবন্ধনকে কেন্দ্র করে গত ৭ থেকে ৯ নভেম্বর পর্যন্ত এই প্রতিযোগিতা সিলেটের নর্থ ইস্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত হয়।
মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটির জিওগ্রাফি অ্যান্ড অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল সোসাইটি (মুগাস) জানিয়েছে, তাদের অন্তত ১৪ জন সদস্য প্রতিযোগিতায় অংশ নেন। তন্মধ্যে ৩ জন দারুণ সাফল্য অর্জন করেছেন।
এর মধ্যে আয়শা আক্তার তান্নি (সিএসই ৬১, টিম টেনাশিয়াস) অর্জন করেছেন ১ম রানার-আপ। প্রিতম পাল (সিএসই ৫৭) ও আর্চিতা রানি নাথ (সিএসই ৬৩), যাদের দলের নাম ছিল ‘টিম এমইউ মাইনাস ওয়ান’, তারা ২য় রানার-আপের সম্মান পেয়েছেন।
এই প্রতিযোগিতার মূল আকর্ষণ ছিল ৩ মিনিট প্রেজেন্টেশন চ্যালেঞ্জ , যা প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণ ও গবেষণার ওপর ভিত্তি করে শিক্ষার্থীদের নতুনত্ব প্রদর্শনের মঞ্চ তৈরি করেছিল। মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটির সিএসই ও ব্যবসা প্রশাসন বিভাগ থেকে ১৪ জন উদ্যমী শিক্ষার্থী তাদের প্রতিভা ও পরিবেশ সচেতন দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেছেন। এ পদক্ষেপ সবুজ ও স্মার্ট ভবিষ্যতের পথে একটি নতুন মাইলফলক স্থাপন করে।
দেশজুড়ে পাবলিক ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা এই প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করেছেন। প্রতিযোগিতায় মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটি ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় যৌথভাবে একটি দল গঠন করে অংশগ্রহণ করে এক অসাধারণ দৃষ্টান্ত স্থাপন করে।
এদিকে, মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটির বোর্ড অব ট্রাস্টিজ, ফ্যাকাল্টি এবং মুগাসের সদস্যবৃন্দ বিজয়ী দলের সাথে দেখা করেন এবং তাদের সকলকে আন্তরিক অভিনন্দন জানান।
এসময় অন্যান্যের মধ্যে মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটির প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান ইমেরিটাস ড. তৌফিক রহমান চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।
মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটির বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান তানভীর এমও রহমান চৌধুরী বলেন, ‘এই সাফল্য তরুণ প্রজন্মের মেধা ও নিষ্ঠার প্রতিফলন। তারা শুধু শিক্ষার্থী নয়, পরিবর্তনের দূত। জলবায়ু পরিবর্তনের মুখে টেকসই ও স্মার্ট সমাধানের জন্য তাদের দৃষ্টিভঙ্গি আমাদের দেশের উন্নয়ন ও বিশ্বদায়িত্ব পালনে অনুপ্রেরণা যোগাচ্ছে। এ ধরণের উদ্যোগ ভবিষ্যত প্রজন্মের জন্য সবুজ পৃথিবীর পথে পথপ্রদর্শক হবে।”
সিএসই ডিপার্টমেন্টের লেকচারার ইশরার নাজাহ চৌধুরী বলেন, ‘এই অর্জন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে চিন্তা ও প্রযুক্তির সম্মিলনে কার্যকর সমাধান আনার অনবদ্য উদাহরণ প্রতিষ্ঠিত করেছে। মুগাসের পক্ষ থেকে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের শুভকামনা জানাচ্ছি যাতে তাদের পথচলা আরও উজ্জ্বল ও সফল হয়।’
মুগাস’র ভাষ্য হচ্ছে, মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীরা প্রমাণ করেছে নতুন প্রজন্মের মধ্যে রয়েছে সাহস, উদ্দীপনা ও দূরদর্শিতা। তারা আমাদের গর্ব ও দেশের ভবিষ্যত গড়ার অন্যতম প্রধান শক্তি। তারা সমাজকে বদলে প্রযুক্তি ও টেকসইতার সংমিশ্রণে আলোকবর্তিকা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এই সাফল্যের পেছনে রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের কঠোর পরিশ্রম, শিক্ষক-পরামর্শদাতা এবং শিক্ষার্থীদের অদম্য ইচ্ছাশক্তির মিশ্রণ।
পরিবর্তনশীল বিশ্বে সব মিলিয়ে কাজ করলে একটি উন্নত, টেকসই ও নিরাপদ ভবিষ্যত গড়া সম্ভব হবে—এটাই মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীদের প্রত্যয়।