• সিলেট, রাত ২:৪৯, ২৬শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

গরু রাখাল থেকে মা ফি য়া ড ন সিলেটের আজিজ

admin
প্রকাশিত এপ্রিল ১, ২০২৬
গরু রাখাল থেকে মা ফি য়া ড ন সিলেটের আজিজ

Manual7 Ad Code

গরু রাখাল থেকে মা ফি য়া ড ন সিলেটের আজিজ

নিজস্ব প্রতিবেদক

 

Manual7 Ad Code

গরীব পরিবারের ছেলে ছিলো মাফিয়া ডন আজিজ উল্লাহ্। নুন আনতে পান্তা ফুরানো সংসার ছিলো তাদের। মানুষের বাড়ি বাড়ি গৃহস্থ কাজ করতেন। অভাবের তাড়নায় আজিজ কৃষিকাজের পাশাপাশি গরু ও হাস-মোরগের রাখালি করতেন। রাখালি করলেও যুবক বয়সে আজিজের ছিলো টাকা কামানোর নেশা। দার-দেনা করে প্রায় ১০ বছর পূর্বে সুনামগঞ্জের আরেক দালালের মাধ্যমে লিবিয়া পাড়ি জমায় আজিজ। এরপর নিজেই গড়ে তুলেন মাফিয়া চক্র। তার গড়া মাফিয়া চক্রের কবলে পড়ে অনেক পরিবার নি:স্ব হওয়ার পাশাপাশি ভূমধ্যসাগরে জীবন দিতে হয়েছে।

Manual1 Ad Code

ভূমধ্যসাগরে সুনামগঞ্জের ১২ যুবকসহ ২২ জনের মৃত্যুর ঘটনায় ঘুরে ফিরে আজিজ উল্লাহ্ নামের ওই মাফিয়ার নাম আসছে। তাকে কেউ বলেন আজিজ উল্লাহ্ আবার কেউ বলেন আব্দুল আজিজ। তবে লিবিয়ার এই দালাল আজিজ নামেই পরিচিত। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক সয়লাব আজিজের ছবিতে। শাস্তির দাবি উঠেছে তার। বলা হচ্ছে তার মাধ্যমেই লিবিয়ায় গিয়ে ভূমধ্যসাগরে সলিল সমাধি হয়েছে ১২ জনের। কে এই আজিজ এনিয়ে চলছে সমালোচনা। মাঝে মধ্যে দেশে আসলেও পরিবারের সাথে অন্যত্র কয়েকমাস সময় কাটিয়ে আবার দেশ ছাড়েন আজিজ। তবে ভয়ে সুনামগঞ্জে যান না। সুনামগঞ্জ জেলার জগন্নাথপুর উপজেলার ইছগাঁও গ্রামের মন্তাজ মিয়ার পুত্র আজিজ উল্লাহ্।

জানা যায়, আজিজ আহমদ। বয়স চল্লিশের কাছাকাছি। সুনামগঞ্জের রানীগঞ্জ ইউনিয়নের ইছগাঁও গ্রামের বাসিন্দা। তাকে স্থানীয় রানীগঞ্জের কেউেই চিনেন না। তবে তার নাম শুনেছেন। রানীগঞ্জের ৮নং ওয়ার্ডেই তার বাড়ি। তার নিজের বাড়িঘরের কোনো অস্তিত্ব নেই। আজিজ খুব বেশি শিক্ষিত নয়। যুবক বয়স পর্যন্ত বাড়িতেই থেকেছে। পরিবারও খুব বেশি সচ্ছল ছিল না। নিম্নআয়ের মানুষ হিসেবেই তার পরিবার ছিল। প্রায় ১০ বছর আগে আজিজ দেশ ছেড়ে বিদেশে পাড়ি জমায়। কোথায় গেছে প্রথমদিকে কেউ জানতো না। পরে অবশ্য এলাকার মানুষের কাছে জানাজানি হয় সে লিবিয়ায় গেছে।

বাড়িতে আজিজের ভাই, চাচারা রয়েছেন। বিদেশ যাওয়ার পর থেকে আজিজের সঙ্গে কারও কোনো যোগাযোগ নেই। ৪-৫ বছর আগের ঘটনা। হঠাৎ একদিন তার বউ বাচ্চাকে বাড়ি থেকে অন্য কোথাও নিয়ে যায়। তারা জেনেছেন আজিজ তার পরিবারকে সিলেট শহরে নিয়ে আসে। পরে কেউ কেউ অবশ্য জানান- তার স্ত্রী-সন্তানদেরও লিবিয়া নিয়ে গেছে। এখন বাড়িতে আজিজের ভিটে থাকলেও কোনো ঘর নেই। বাড়িতে থাকা স্বজনদের সঙ্গেও তার যোগাযোগ নেই। স্বজনরা তার সম্পর্কে বেশি কিছু জানেন না।

 

সূত্র জানায়, জগন্নাথপুর ও পার্শ¦বর্তী দিরাই থানায় আজিজের মানব পাচার নেটওয়ার্ক। এতে কয়েকজন কাজ করে। তাদের মাধ্যমে আজিজ গেমের মাধ্যমে ইউরোপ পাঠানোর নামে লোক খুঁজে। টাকা নিয়ে ওদের পাঠায়। এবার যারা ভূমধ্যসাগরে ডুবে মারা গেছেন তাদের রমজানের আগে দেশ থেকে সৌদি আরব, মিশর হয়ে লিবিয়া নেয়া হয়। মেম্বার নুরুল হক জানিয়েছেন- আজিজসহ যারা এই চক্রের সঙ্গে জড়িত তারা গোপনেই কাজ করে। কারণ হলো এক বছরে তার গ্রামসহ আশপাশ গ্রামের ১০-১২ জন যুবক সাগরপথে গ্রিসে গেছে। এর আগে এলাকার দালালদের সম্পর্কে তার তেমন কোনো ধারণা ছিল না।

Manual2 Ad Code

এদিকে- সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর ও দিরাইয়ের ১২ যুবক সাগরে ডুবে মৃত্যুর ঘটনায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে তালিকা তৈরির কাজ শুরু করেছে প্রশাসন। এরইমধ্যে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নিহত তরুণদের পরিবারকে সহযোগিতা করছে পুলিশ।

এদিকে- লিবিয়ার মানব পাচার নিয়ে সরকারের উচ্চ পর্যায় থেকে প্রায় সময়ই কাজ করা হয়। তদন্ত সংস্থা সিআইডি একাধিকবার মানব পাচারকারীদের তালিকা প্রস্তুত করে। মামলা হয়েছে। তবে লিবিয়া রুটে মানব পাচার বন্ধ করা যাচ্ছে না। বাংলাদেশের কাছ থেকে তথ্য পেয়ে গত বছরের ১৭ই সেপ্টেম্বর লিবিয়ার মিসরাতা প্রদেশের দাফনিয়া এলাকায় একটি মানব পাচার চক্রের ঘাঁটিতে অভিযান চালিয়ে ২৫ বাংলাদেশিকে আটক করেছিল দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিশেষ টাস্ক ফোর্স। ঘাঁটিতে অবৈধ অভিবাসনের জন্য নৌকা তৈরি করা হচ্ছিল। রাজধানী ত্রিপোলি থেকে প্রায় ২০০ কিলোমিটার পূর্বে এ ঘাঁটির অবস্থান।

 

জগন্নাথপুর থানার ওসি মো. শফিকুল ইসলাম বললেন, ভূমধ্যসাগরে নির্মম মৃত্যুর শিকার চারজনের পরিবারই জানিয়েছে আজিজ উল্লাহ্ নামের এক লিবিয়া প্রবাসী দালালের মাধ্যমে ফোনে কথা বলে তারা গিয়েছিল।

Manual5 Ad Code

সিলেটভিউ২৪ডটকম

Latif Travels
Metropolitan University

আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন

📞 মোবাইল: +8801712540420

✉️ ইমেইল: pavel.syl@gmail.com