• সিলেট, সকাল ৬:৫২, ১৭ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

জাহান্নামে সবার শাস্তি সমান হবে না

admin
প্রকাশিত এপ্রিল ৮, ২০২৬
জাহান্নামে সবার শাস্তি সমান হবে না

Manual4 Ad Code

জাহান্নামে সবার শাস্তি সমান হবে না

আহমাদ রাইদ

 

জাহান্নামের অধিবাসীরা বিভিন্ন স্তরের শাস্তি ভোগ করবে। তাদের কর্মের ভিন্নতা অনুসারে শাস্তি ভিন্ন ভিন্ন হবে। যেমন- অবিশ্বাস, কপটতা, মানুষকে আল্লাহ তাআলার দ্বিন থেকে বাধা দেওয়া এবং মুমিনদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করা ইত্যাদির ভিন্নতা ও ভয়াবহতার আলোকে শাস্তি দেওয়া হবে। মন্দ কাজ যত বেশি ও যত ধরনের হবে, শাস্তিও তত কঠোর হবে।

Manual3 Ad Code

অন্যদিকে শাস্তি তাদের চেয়ে হালকা হবে। যেমন আল্লাহ তাআলা বলেছেন : ‘তাদের আগে যে জিন ও মানবজাতি গত হয়ে গেছে, তাদের মতো এদের প্রতিও আল্লাহর বাণী সত্য হয়েছে। নিশ্চয়ই এরা ছিল ক্ষতিগ্রস্ত। আর সবার জন্যই তাদের আমল অনুসারে মর্যাদা আছে। আর আল্লাহ যেন তাদেরকে তাদের কর্মের পূর্ণ প্রতিফল দিতে পারেন। আর তাদের প্রতি কোনো জুলুম করা হবে না।’ (সুরা : আহকাফ, আয়াত : ১৮-১৯)।

প্রত্যেকের কৃতকর্ম অনুসারে জাহান্নামে পৃথক স্তর থাকবে এবং সে অনুযায়ী জাহান্নামে শাস্তি দেওয়া হবে। পবিত্র কোরআনে এসেছে : ‘যারা আল্লাহকে অস্বীকার করে আর আল্লাহর পথে বাধা সৃষ্টি করে, আমি তাদের শাস্তির ওপর শাস্তি বৃদ্ধি করব, কারণ তারা ফ্যাসাদ সৃষ্টি করত। ’ (সুরা : নাহল, আয়াত : ৮৮)।

পাপীদের আজাবের পার্থক্যের ইঙ্গিত সামুরাহ ইবনে জুনদুব (রা.)-এর হাদিসে পাওয়া যায়। তিনি আল্লাহর নবী (সা.)-কে বলতে শুনেছেন, ‘জাহান্নামিদের মধ্যে এমন কিছু লোক আছে, যাদের আগুন তাদের গোড়ালি পর্যন্ত ধরবে; এমন কিছু লোক আছে, যাদের তাদের কোমর পর্যন্ত ধরবে এবং এমন কিছু লোক আছে, যাদের তাদের গলা পর্যন্ত ধরবে।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ৭০৬১)।

নুমান ইবনু বাশির (রা.) বলেন, ‘আমি নবী (সা.)-কে বলতে শুনেছি যে কিয়ামতের দিন ওই ব্যক্তির সর্বাপেক্ষা লঘু আজাব হবে, যার দুই পায়ের তলায় দুটি প্রজ্বলিত অঙ্গার রাখা হবে। এতে তার মগজ টগবগ করে ফুটতে থাকবে। যেমন-ডেক বা কলসি ফুটতে থাকে। ’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৬৫৬২)।

Manual4 Ad Code

এতে বোঝা যায়, জাহান্নামে সবার শাস্তি সমান হবে না। আর যদি কোনো কাফির এই দুনিয়ায় কোনো ভালো কাজ করে, যেমন- আত্মীয়তা সম্পর্ক বজায় রাখা, পিতা-মাতাকে সম্মান করা, এতিমদের প্রতিপালন করা, বিধবা ও দরিদ্রদের জন্য চেষ্টা করা, অসুস্থদের চিকিৎসা করা ইত্যাদি- তাহলেও পরকালে এগুলোর সুফল পাওয়া যাবে না। কারণ পরকালে ভালো কাজের সুফল পেতে ঈমান নিয়ে কবরে যেতে হবে।

আল্লাহ তাআলা বলেছেন, ‘নিশ্চয়ই যারা কুফরি করেছে এবং কাফির অবস্থায় মারা গেছে, তাদের কারো কাছ থেকে জমিন ভরা স্বর্ণ বিনিময়স্বরূপ প্রদান করলেও গ্রহণ করা হবে না, তাদের জন্যই আছে বেদনাদায়ক আজাব, আর তাদের জন্য কোনো সাহায্যকারী নেই।’ (সুরা : আলে ইমরান, আয়াত : ৯১)।

Manual6 Ad Code

অন্য আয়াতে আল্লাহ বলেন, ‘কেউ ঈমান অমান্য করলে, তার (ভালো) কর্ম নিষ্ফল হবে। আর সে আখিরাতে ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হবে।’ (সুরা : মায়িদা, আয়াত : ৫)

আরেক আয়াতে এসেছে, ‘মুশরিকদের জন্য আল্লাহর মসজিদগুলোর রক্ষণাবেক্ষণ করা শোভা পায় না, যখন তারা নিজেদের কুফরের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেয়। তাদের আমল মূল্যহীন হয়ে গেছে এবং তারা জাহান্নামে থাকবে। তারা সেখানে চিরকাল থাকবে।’ (সুরা : তাওবা, আয়াত : ১৭)।

মহান আল্লাহ আরো বলেছেন, ‘যারা তাদের রবকে অস্বীকার করে, তাদের জন্য উদাহরণ হলো এই যে তাদের আমল ঝোড়ো দিনে বাতাসে উড়ে যাওয়া ছাইয়ের মতো। তারা যা উপার্জন করেছে, তা থেকে কিছুই অর্জন করতে পারবে না। এটাই চরম পথভ্রষ্টতা।’ (সুরা : ইবরাহিম, আয়াত : ১৮)।

কাফিরদের সৎকর্মের বিপরীতে এই দুনিয়ায়ই প্রচুর জীবিকা, সৎ সন্তান, প্রেমময়ী স্ত্রী, সুস্বাস্থ্য, প্রশংসা এবং এজাতীয় অন্যান্য বস্তু দিয়ে পুরস্কৃত করা হবে। আনাস ইবনে মালিক (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘একটি নেকির ক্ষেত্রেও আল্লাহ তাআলা কোনো মুমিন বান্দার প্রতি অত্যাচার করবেন না; বরং তিনি এর ফলাফল দুনিয়ায় দান করবেন এবং আখিরাতেও দান করবেন। আর কাফির লোক পার্থিব জগতে আল্লাহর উদ্দেশে যে সৎ আমল করে এর প্রতিদানস্বরূপ তিনি তাকে জীবিকা নির্বাহ করেন। পরিশেষে আখিরাতে প্রতিফল দেওয়ার মতো তার কাছে কোনো সৎ আমলই থাকবে না।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ৬৯৮২)।

Manual7 Ad Code

বিডি-প্রতিদিন/

Latif Travels
Metropolitan University

আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন

📞 মোবাইল: +8801712540420

✉️ ইমেইল: pavel.syl@gmail.com