• সিলেট, ভোর ৫:০০, ২৬শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

সিলেটে শত কোটি টাকার ওয়াকওয়েতে তৎপর যেসব অ প রা ধী

admin
প্রকাশিত এপ্রিল ১৯, ২০২৬
সিলেটে শত কোটি টাকার ওয়াকওয়েতে তৎপর যেসব অ প রা ধী

Manual7 Ad Code

সিলেটে শত কোটি টাকার ওয়াকওয়েতে তৎপর যেসব অ প রা ধী

Manual1 Ad Code

নিজস্ব প্রতিবেদক

 

প্রায় শতকোটি টাকা ব্যয়ে সিলেট নগরীর ছয়টি ছড়া ও একটি দিঘীর পাশে নির্মাণ করা হয়েছিল দৃষ্টিনন্দন ওয়াকওয়ে। নগরবাসীর নির্মল বিনোদন ও হাঁটাচলার জন্য সিলেট সিটি করপোরেশন (সিসিক) নির্মাণ করেছিল ওয়াকওয়েগুলো। দৃষ্টিনন্দন ওয়াকওয়েগুলো এখন নগরবাসীর কাছে আতঙ্ক হয়ে দাঁড়িয়েছে। ওয়াকওয়েকেন্দ্রিক গড়ে ওঠেছে নানা অপরাধী চক্র।

 

বেড়াতে আসা লোকজনকে জিম্মি করে এরা ছিনতাই করে থাকে। বিশেষ করে তাদের টার্গেটে থাকা পরিবার ও বন্ধু-বান্ধবদের সাথে বেড়াতে আসা মেয়েরা। এছাড়া ওয়াকওয়েগুলোতে মাদক কেনাবেচারও অভিযোগ রয়েছে। গেল দুইদিনে ওয়াকওয়েতে বেড়াতে আসা নারীদের হেনস্তা ও ছিনতাইয়ের চেষ্টার অভিযোগে চারজনকে আটক করেছে পুলিশ।

Manual8 Ad Code

সিসিক সূত্র জানায়, সিলেট নগরীর সৌন্দর্য্যবর্ধনে ২০১৭ সালে ছড়ার পাশে দৃষ্টিনন্দন ওয়াকওয়ে নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। সর্বপ্রথম নগরীর প্রাণকেন্দ্র জিন্দাবাজারের পার্শ্ববর্তী জল্লারপাড়ে নির্মাণ করা হয় দৃষ্টিনন্দন ওয়াকওয়ে। এই ওয়াকওয়েতে সকালে ও বিকাল থেকে রাত ৮-৯টা পর্যন্ত নগরীর লোকজন নির্বিঘ্নে হাঁটাচলা করতে পারতেন।

Manual5 Ad Code

ওয়াকওয়ের নির্মাণশৈলী ও কার্যকারিতা নগরবাসীর কাছে প্রশংসিত হওয়ায় পরবর্তীতে কালিবাড়ি ছড়া, সাগরদিঘীরপাড়, বালুচর গোয়ালীছড়া, টিলাগড় হাতিম আলী স্কুলের পাশের ছড়া ও উপশহরে একটি ছড়ার উভয় পাশে ওয়াকওয়ে নির্মাণ করা হয়।

 

এছাড়া ভারতের অর্থায়নে নগরীর ধোপাদিঘীর চারপাশে নির্মাণ করা হয় দৃষ্টিনন্দন ওয়াকওয়ে। একসময় ওয়াকওয়েগুলো নগরবাসীর নির্মল আনন্দের উপলক্ষ্য থাকলেও এখন তা অপরাধীদের বিচরণকেন্দ্রে পরিণত হচ্ছে। ওয়াকওয়ে কেন্দ্রিক গড়ে ওঠেছে কিশোরগ্যাং, মাদক ব্যবসায় ও ছিনতাইকারী চক্র।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ধোপাদিঘীরপাড়, জল্লারপাড়, উপশহর ওয়াকওয়েতে ভ্রাম্যমান মাদক কারবারিরা বিচরণ করেন। নির্দিষ্ট সময়ে এরা ওয়াকওয়েতে ঘুরাফেরা করে এবং তাদের নির্ধারিত ক্রেতারা এসে সেখান থেকে ইয়াবা ও গাঁজার মতো মাদক সংগ্রহ করে থাকে। কালিবাড়ি ছড়া ও বালুচর গোয়ালীছড়া ওয়াকওয়েতে ভোরে ও সন্ধ্যার পর মাদক কেনাবেচা ও ছিনতাইকারীদের আড্ডা থাকে।

সাগরদিঘীরপাড় ওয়াকওয়ে কেন্দ্রিক গড়ে ওঠেছে কিশোরগ্যাং ও ছিনতাইকারী চক্র। গেল কয়েক দিন আগে সাগরদিঘীরপাড় এলাকায় শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রীকে ছিনতাইয়ের চেষ্টার ভিডিও ভাইরাল হয়েছিল। ছড়ার উভয় পাড়ে নির্মিত দৃষ্টিনন্দন ওয়াকওয়েতে হাঁটতে ও বসে গল্প করতে প্রতিদিন প্রচুর সংখ্যক লোকজন সেখানে যান।

 

Manual4 Ad Code

বিশেষ করে গরমের দিন সন্ধ্যার পর নানা বয়সী নারী-পুরুষ ওয়াকওয়েটিতে বসে আড্ড দেন। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে কিশোরগ্যাং ও ছিনতাইকারীরা ওয়াকওয়েতে আসা লোকজনকে সর্বস্বান্ত করার চেষ্টা করছে। বিশেষ করে কোন তরুণী পরিবার বা বন্ধু-বান্ধব ও সহপাঠীর সাথে সন্ধ্যার পর বেড়াতে আসলে ওই চক্রের সদস্যরা তাদেরকে আটকে অসামাজিক কার্যকলাপের অভিযোগ তুলে হেনস্থা করে। একপর্যায়ে তাদের কাছ থেকে টাকা ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয়।

সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের (এসএমপি) মিডিয়া অফিসার এডিসি মো. মনজুরুল আলম জানান, গত বৃহস্পতিবার রাতে এক দম্পতি সাগরদিঘীরপাড় ওয়াকওয়েতে বসে গল্প করার সময় একদল যুবক এসে তাদের স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক ভূয়া দাবি করে অসামাজিকতার অভিযোগ তুলে হেনস্থা করে।

 

একপর্যায়ে তাদের কাছ থেকে টাকা ও ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। এসময় টহল পুলিশের একটি দলের উপস্থিতি টের পেয়ে ছিনতাইকারীরা পালানোর চেষ্টা করলে তিনজনকে আটক করা সম্ভব হয়। এর আগে বুধবার রাতে ওসমানী মেডিকেল কলেজের এক ছাত্র ও এক ছাত্রীকে একইভাবে হেনস্থা করে টাকা দাবি করে এক কিশোর। এ ঘটনায়ও এক কিশোরকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

সিলেট কোতোয়ালী থানার ওসি খান মোহাম্মদ মাইনুল জাকির জানান, ওয়াকওয়েগুলোতে পুলিশের কড়া নজরদারি রয়েছে। মানুষ হাঁটতে বা বসে আড্ডা দিতে এসে যাতে কোন অপরাধীর শিকারে পরিণত না হন এ ব্যাপারে পুলিশ সর্তক রয়েছে।

সিলেটভিউ২৪ডটকম/

Latif Travels
Metropolitan University

আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন

📞 মোবাইল: +8801712540420

✉️ ইমেইল: pavel.syl@gmail.com