• সিলেট, সকাল ৯:১১, ২রা অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত হ ত্যা চেষ্টা মামলার যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শুরু

admin
প্রকাশিত এপ্রিল ২২, ২০২৬
সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত হ ত্যা চেষ্টা মামলার যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শুরু

Manual5 Ad Code

সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত হ ত্যা চেষ্টা মামলার যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শুরু
কিবরিয়া হত্যা মামলার সাক্ষী অনুপস্থিত

নিজস্ব প্রতিবেদক

Manual3 Ad Code

 

সাবেক মন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ নেতা সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত হত্যাচেষ্টা মামলার যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শুরু হয়েছে। তবে অভিযুক্ত ১০ জনের মধ্যে জেলহাজতে থাকা ৬ জন ছাড়া অন্যরা উপস্থিত ছিলেন না। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) দুপুরে সিলেটের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক স্বপন কুমার সরকারের আদালতে আসামিপক্ষ এবং রাষ্ট্রপক্ষ যুক্তিতর্ক উপস্থাপনে অংশ নেন। আদালত পরবর্তী যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের তারিখ ২৭ এপ্রিল নির্ধারণ করেছেন।

 

এর আগে ৭ এপ্রিল একই আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধি ৩৪২ ধারায় আসামিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পর্কে বক্তব্য জানতে চান বিচারক। শুনানিতে অংশ নিয়ে অভিযুক্তদের মধ্যে শ্রম, প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, হবিগঞ্জ পৌরসভার সাবেক মেয়র ও সরকারদলীয় হুইপ জি কে গউছ এবং সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর নিজেদের নির্দোষ দাবি করেছিলেন।

মামলার যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের বিষয়টি নিশ্চিত করে সিলেট দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) আবুল হোসেন বলেন, মামলার যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শুরু হয়েছে। প্রথম দিনের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে আদালত পরবর্তী তারিখ নির্ধারণ করেছেন।

আরিফুল হক চৌধুরীর আইনজীবী এমদুল্লাহ শহীদুল ইসলাম বলেন, আরিফুল হক চৌধুরী ঘটনার সঙ্গে কোনোভাবে সম্পৃক্ত নন বলে তার বক্তব্য আদালতে উপস্থাপন করেছেন। তিনি আরিফুল হকের পক্ষে যুক্তিতর্কে অংশ নেন।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, মামলায় অভিযুক্ত ১০ আসামির মধ্যে ৬ জন জেলহাজতে আছেন। তিনজন জামিনে আছেন এবং একজন পলাতক আছেন। আজ অনুষ্ঠিত শুনানিতে জামিনে থাকা প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, হবিগঞ্জ পৌরসভার সাবেক মেয়র ও সরকারদলীয় হুইপ জি কে গউছ এবং সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর উপস্থিত ছিলেন না।

 

২০০৪ সালের ২১ জুন সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের নির্বাচনী এলাকা সুনামগঞ্জের দিরাই বাজারে একটি রাজনৈতিক সমাবেশে গ্রেনেড হামলার ঘটনা ঘটে। সেদিন সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য দিচ্ছিলেন সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত। গ্রেনেড বিস্ফোরণে যুবলীগের এক কর্মী ঘটনাস্থলে নিহত ও ২৯ জন আহত হন। হামলায় অল্পের জন্য রক্ষা পান সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত।

ওই ঘটনায় দিরাই থানার এসআই হেলাল উদ্দিন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে মামলা করেন। ২০২০ সালের ২২ অক্টোবর লুৎফুজ্জামান বাবর, আরিফুল হক চৌধুরীসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচারকার্য শুরু হয়।

অপরদিকে, সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এ এম এস কিবরিয়া হত্যা মামলায় আজ সাক্ষী অনুপস্থিত থাকায় সাক্ষ্য গ্রহণ হয়নি। সিলেটের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক স্বপন কুমার সরকার সাক্ষ্য গ্রহণের পরবর্তী তারিখ ১৯ মে নির্ধারণ করেছেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সিলেট দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) আবুল হোসেন। তিনি বলেন, মামলার সাক্ষী না আসায় মঙ্গলবার সাক্ষ্য গ্রহণ হয়নি।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার মামলার তদন্ত কর্মকর্তা তৎকালীন পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) মেহেরুন নেছা পারুলের সাক্ষ্য দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তিনি আদালতে উপস্থিত হননি।

Manual3 Ad Code

 

Manual7 Ad Code

২০০৫ সালের ২৭ জানুয়ারি হবিগঞ্জ সদর উপজেলার বৈদ্যের বাজারে একটি জনসভা শেষে বের হওয়ার পথে গ্রেনেড হামলায় গুরুতর আহত হন শাহ এ এম এস কিবরিয়া। চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়ার পথে তিনি মারা যান। ওই হামলায় তাঁর ভাতিজা শাহ মঞ্জুরুল হুদা, আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতা আবদুর রহিম, আবুল হোসেন ও সিদ্দিক আলী নিহত এবং আহত হন অন্তত ৭০ জন।

Manual8 Ad Code

ঘটনার পরদিন হত্যা ও বিস্ফোরকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে দুটি মামলা হয়। পরে মামলা দুটি পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগে (সিআইডি) হস্তান্তর করা হয়। তদন্ত শেষে ২০০৫ সালের ১৮ মার্চ শহীদ জিয়া স্মৃতি ও গবেষণা পরিষদের কেন্দ্রীয় সভাপতি আবদুল কাইউমসহ ১০ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দেয় সিআইডি। ওই অভিযোগপত্রের বিষয়ে আদালতে নারাজি আবেদন করে বাদীপক্ষ। পরে মামলা পুনঃতদন্তের পর ২০১১ সালের ২০ জুন আসামির সংখ্যা ১৬ থেকে বাড়িয়ে ২৬ জনের নামে দ্বিতীয় দফা অভিযোগপত্র দেয় সিআইডি। এটি নিয়েও আপত্তি জানায় নিহত কিবরিয়ার পরিবার।

সর্বশেষ ২০১৪ সালের ১৩ নভেম্বর হবিগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালতে সম্পূরক অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হয়। এতে নতুন করে সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, বিএনপির নেতা ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরী, মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীসহ ৩৫ জনকে আসামি করা হয়। পরে ২০১৫ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর সিলেট দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে মামলার আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়। মামলায় ১৭১ জন সাক্ষী রয়েছেন।

 

সিলেটভিউ২৪ডটকম

Latif Travels
Metropolitan University

আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন

📞 মোবাইল: +8801712540420

✉️ ইমেইল: pavel.syl@gmail.com