‘অ্যাচিভমেন্ট অব দ্য ইয়ার’ অর্জন শাবির সাবেক শিক্ষার্থী নাদিমুলের
শাবিপ্রবি প্রতিনিধি
ইউটাহ স্টেট ইউনিভার্সিটিতে পিএইচডি প্রোগ্রামে ‘অ্যাচিভমেন্ট অব দ্য ইয়ার’ অর্জন করেছেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) সাবেক শিক্ষার্থী মুফতি নাদিমুল কমর আহমদ। আমেরিকার অন্যতম স্বনামধন্য উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান ‘ইউটাহ স্টেট ইউনিভার্সিটিতে’ প্রথম বাংলাদেশী হিসেবে ‘অ্যাচিভমেন্ট অব দ্য ইয়ার ২০২৬’ সম্মানে ভূষিত হয়েছেন তিনি। গত ৩ এপ্রিল বিশ্ববিদ্যালয়ের এক জমকালো আয়োজনে তার হাতে এই পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। বিশ্ববিদ্যালয়টির ইতিহাসে এই প্রথম কোনো বাংলাদেশী শিক্ষার্থী এই বিরল সম্মাননা অর্জন করলেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহ্যবাহী রবিন্স অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠানে মুফতি নাদিমুলের হাতে পুরস্কারটি তুলে দেন ইউটাহ স্টেট ইউনিভার্সিটি স্টুডেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট ব্র্যান্ডন সরেনসেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন কলেজের ডিন, বিভাগীয় প্রধান, অধ্যাপক এবং বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী।
জানা যায়, মুফতি নাদিমুল বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়টিতে সমাজবিজ্ঞান বিভাগে পিএইচডি গবেষক হিসেবে কর্মরত। তার গবেষণার মূল বিষয় হচ্ছে জলবায়ু পরিবর্তন ও অভিবাসন। মূলত তার গবেষণা এবং ইউটাহ অঙ্গরাজ্যে বসবাসরত অভিবাসীদের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নয়নে বিভিন্ন এনজিও ও সংস্থার সঙ্গে সংযোগ স্থাপনে কার্যকরী ভূমিকা রাখার স্বীকৃতিস্বরূপ তাকে এই সম্মাননা দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন নাদিমুল। তার এই উদ্যোগ অভিবাসীদের জীবনমান উন্নয়নে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।
মুফতি নাদিমুল বর্তমানে সিলেটের নর্থ ইস্ট ইউনিভার্সিটির ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ বিভাগে প্রভাষক হিসেবে কর্মরত (বর্তমানে শিক্ষাছুটিতে রয়েছেন)। এর আগে তিনি শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের ২০তম ব্যাচের (২০১১-১২ সেশন) শিক্ষার্থী ছিলেন। তিনি শাবিপ্রবি থেকে অনার্স ও মাস্টার্স উভয় পরীক্ষায় প্রথম স্থান অধিকার করেন। বর্তমানে তার পিএইচডিতে সিজিপিএ ৪.০০ রয়েছে বলেও জানিয়েছেন নাদিমুল।
এটিই তার একমাত্র সাফল্য নয়। এর আগে ২০২৬ সালে তিনি সমাজবিজ্ঞান বিভাগ এবং কলেজ অব সোশ্যাল সায়েন্স অ্যান্ড আর্টস থেকে ‘সেরা পিএইচডি শিক্ষার্থী’ নির্বাচিত হন। গবেষণায় উন্নত প্রশিক্ষণের জন্য তিনি আইসিপিএসআর ম্যাককুইন স্কলারশিপ অর্জন করেছেন। এছাড়া ২০২৫ সালে ‘সেরা গ্র্যাজুয়েট প্রেজেন্টার’ এবং ‘স্টুডেন্ট সাসটেইনিবিলিটি অ্যাওয়ার্ড’ অর্জন করেন তিনি। হার্ভার্ড, কলম্বিয়া ও প্রিন্সটন ইউনিভার্সিটির মতো বিশ্বখ্যাত প্রতিষ্ঠানে তার গবেষণা প্রবন্ধ উপস্থাপিত হয়েছে।
পুরস্কার পাওয়ার অনুভূতি ব্যক্ত করতে গিয়ে মুফতি নাদিমুল কমর আহমদ বলেন, “এই পুরস্কার পেয়ে আমি অত্যন্ত আনন্দিত। এটি আমার দীর্ঘদিনের গবেষণা এবং অভিবাসীদের জীবনমান উন্নয়নে প্রচেষ্টার এক বড় স্বীকৃতি। আমি বিশ্বাস করি, এই অর্জন অন্যান্য আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী, বিশেষ করে বাংলাদেশী শিক্ষার্থীদের অনুপ্রাণিত করবে। আমরা যেন গবেষণার পাশাপাশি মানবসেবায় এগিয়ে আসি এবং অসহায় মানুষদের পাশে দাঁড়িয়ে একটি উন্নত বিশ্ব গড়তে পারি।”
কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তিনি আরও বলেন, “আমি আমার পিএইচডি সুপারভাইজার অধ্যাপক জেনিফার গিভেন্সের প্রতি কৃতজ্ঞ। এছাড়াও আমার গবেষণার হাতেখড়ি যার কাছে, শাবিপ্রবি সমাজবিজ্ঞান বিভাগের সেই প্রিয় শিক্ষক অধ্যাপক শাহ মুহাম্মদ আতিকুল হকের প্রতি বিশেষ কৃতজ্ঞতা। উনার অনুপ্রেরণা ছাড়া এ পর্যায়ে আসা সম্ভব ছিল না। আমার পরিবার, বিশেষ করে মা ও ভাই-বোনদের অকুন্ঠ সমর্থন আমাকে আজকের এই অবস্থানে নিয়ে এসেছে।”