• সিলেট, বিকাল ৩:২৬, ২৩শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

এনবিআরের সঙ্গে বিভিন্ন সংগঠনের প্রাক-বাজেট আলোচনা

admin
প্রকাশিত এপ্রিল ২৩, ২০২৬
এনবিআরের সঙ্গে বিভিন্ন সংগঠনের প্রাক-বাজেট আলোচনা

Manual2 Ad Code

এনবিআরের সঙ্গে বিভিন্ন সংগঠনের প্রাক-বাজেট আলোচনা
ক্ষতির পরও ন্যূনতম কর দেওয়া ব্যবসায়ীদের জন্য বোঝা
♦ দু-তিন মাসের মধ্যে দেশ জ্বালানিশূন্য হবে—এমন আশঙ্কায় বাংলাদেশ ছেড়ে ক্রয়াদেশ ভারতসহ অন্য দেশে চলে যাচ্ছে : বিসিআই সভাপতি ♦ বাজেটে শুল্কহার হ্রাসের চেয়ে নন-ট্যারিফ প্রতিবন্ধকতা নিরসনে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হবে : এনবিআর চেয়ারম্যান

অনলাইন ডেস্ক

Manual3 Ad Code

 

বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিজের (বিসিআই) সভাপতি আনোয়ার-উল-আলম চৌধুরী পারভেজ বলেছেন, ব্যবসায় ক্ষতি হওয়ার পরও ১ শতাংশ হারে ন্যূনতম টার্নওভার কর দিতে হয়। এ বিষয়টিকে ব্যবসার জন্য ‘বোঝা’ বলে উল্লেখ করেন তিনি। এ ছাড়া আগামী দুই থেকে তিন মাসের মধ্যে দেশ জ্বালানিশূন্য হবে—এমন আশঙ্কায় অনেক বিদেশি ক্রেতা ক্রয়াদেশ স্থগিত করছেন বলেও জানান তিনি।

গতকাল বুধবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে এনবিআরের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রাক-বাজেট আলোচনায় তিনি এসব কথা বলেন। সভায় এনবিআর চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান, সংস্থাটির শীর্ষ কর্মকর্তাদের পাশাপাশি বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

বিদেশি ক্রেতারা আশঙ্কা করছেন, আগামী দুই থেকে তিন মাসের মধ্যে দেশ জ্বালানিশূন্য হবে। তাই বাংলাদেশ ছেড়ে এসব ক্রয়াদেশ ভারতসহ অন্য দেশে চলে যাচ্ছে। এতে দেশের অর্থনীতি ও বৈদেশিক মুদ্রার প্রধান উৎস তৈরি পোশাক খাত গভীর সংকটের মুখে পড়তে যাচ্ছে বলেও উল্লেখ করেন আনোয়ার-উল-আলম চৌধুরী পারভেজ।

তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে দেশে জ্বালানিসংকটের শঙ্কায় তৈরি পোশাকের বিদেশি ক্রেতারা মুখ ফিরিয়ে ভারতসহ অন্যান্য দেশে চলে যাচ্ছে। আগামী জুলাই ও আগস্ট মাসের জন্য যে পরিমাণ অর্ডার আসার কথা ছিল, তা অত্যন্ত ধীর হয়ে গেছে। অনেক বড় ক্রেতা এরই মধ্যে নেতিবাচক বার্তা দেওয়া শুরু করেছে। ঢাকা অফিসগুলো ক্রেতাদের পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করলেও তাদের টপ ম্যানেজমেন্ট বর্তমানে বাংলাদেশে নতুন অর্ডার দেওয়ার ক্ষেত্রে পিছু হটছে।

বিসিআই সভাপতি বলেন, বিশ্ববাজারে অস্থিরতা এবং বিদ্যুৎসংকটসহ অভ্যন্তরীণ কিছু সীমাবদ্ধতার কারণে জুলাই-আগস্টের সম্ভাব্য অনেক ক্রয়াদেশ থমকে গেছে। একই সঙ্গে ছোট উদ্যোক্তাদের জন্য বিদ্যমান কর কাঠামো বড় বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ব্যবসায়িক মন্দার মধ্যেও বর্তমান করব্যবস্থাকে অবাস্তব অভিহিত করে বিসিআই সভাপতি বলেন, লাভ-ক্ষতি যা-ই হোক ১ শতাংশ হারে ন্যূনতম কর পরিশোধ করা অনেক প্রতিষ্ঠানের জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে ছোট উদ্যোক্তাদের জন্য এটা অনেক বড় অঙ্ক। ছোট উদ্যোক্তাদের যদি করের স্ল্যাবে নিয়ে আসা যায়, তাহলে তারা রক্ষা পাবে। কারণ অনেক সময় মুনাফা না থাকলেও তাদের কর দিতে হয়, যা তাদের অস্তিত্বসংকটে ফেলছে।

Manual3 Ad Code

এসব বিবেচনায় রপ্তানি আয়ের বিপরীতে ১ শতাংশ উৎস কর কমিয়ে ০.৫ শতাংশ করার দাবি জানান তিনি। তবে উৎস কর কমানোর আবদার নাকচ করে দেন এনবিআর চেয়ারম্যান।

এদিকে মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) করের অবদান বাড়াতে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে রাজস্ব কাঠমোর পূর্ণাঙ্গ অটোমেশন প্রস্তাব করেছে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই)। একই সঙ্গে অতালিকাভুক্ত কম্পানির করহার ২৭.৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২৫ শতাংশ নির্ধারণ, ব্যক্তি খাতে করমুক্ত আয়ের ন্যূনতম সীমা পাঁচ লাখ টাকা করা, বাণিজ্যিক আমদানিতে আগাম কর ৭.৫ শতাংশ থেকে হ্রাস করে ৫ শতাংশ নির্ধারণ এবং কাস্টমস রিফান্ড ব্যবস্থার পূর্ণাঙ্গ অটোমেশনের প্রস্তাব করেছে সংগঠনটি।

গতকাল এনবিআরের সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত প্রাক-বাজেট আলোচনা অনুষ্ঠানে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে অন্তর্ভুক্তির জন্য আয়কর, মূল্য সংযোজন কর (মূসক) ও আমদানি শুল্ক খাতে ঢাকা চেম্বারের ৫৪টি প্রস্তাবের সারসংক্ষেপ জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খানের কাছে পেশ করেন ডিসিসিআইয়ের মহাসচিব (ভারপ্রাপ্ত) ড. এ কে এম আসাদুজ্জামান পাটোয়ারী।

প্রস্তাব উপস্থাপনের শুরুতে ঢাকা চেম্বারের কাস্টমস ভ্যাট স্ট্যান্ডিং কমিটির আহ্বায়ক এম বি এম লুত্ফুল হাদি বলেন, করজাল সম্প্রসারণ ও রাজস্ব আদায়ের সক্ষমতা বৃদ্ধি, ব্যবসা সহায়ক পরিবেশ ও করের বোঝা হ্রাস, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি ও উৎপাদনশীল খাতে বিনিয়োগে নীতি সহায়তা প্রদানের বিষয়গুলোতে এ বছর ডিসিসিআই জোর দিয়েছে, যার মাধ্যমে উদ্যোক্তাদের ব্যবসা পরিচালনার ব্যয় হ্রাসের পাশাপাশি সরকারের রাজস্ব আহরণের হার বৃদ্ধি পাবে এবং দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব আসবে।

আলোচনায় ডিসিসিআইয়ের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব করজাল সম্প্রসারণ ও রাজস্ব ঘাটতি কমাতে সরকারি সব সেবা প্রদানকারী সংস্থার ডেটা সমন্বয়ের মাধ্যমে সেন্ট্রাল এপিআই ইন্টিগ্রেশন ব্যবস্থার প্রবর্তন, কম্পানির আমানতের উৎস সুদহার ২০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশ করা, কম্পানির নিট সম্পদের ওপর আরোপিত সারচার্জ ধাপে ধাপে বিলোপকরণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। সেই সঙ্গে ব্যবসায়িক কার্যক্রমে গতি আনার পাশাপাশি দীর্ঘ মেয়াদে পরোক্ষ রাজস্ব আয় বাড়াতে ভ্যাট রিফান্ডের ঊর্ধ্বসীমা বাতিল এবং ভ্যাট সংগ্রহ বৃদ্ধিতে মোবাইল অ্যাপ প্রবর্তনসহ সামগ্রিক মূসক কার্যক্রমে অটোমেশনের প্রস্তাব করেন তিনি।

ঢাকা চেম্বারের প্রস্তাব প্রসঙ্গে এনবিআর চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান বলেন, এ বছরের বাজেটে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড শুল্কের হার হ্রাসের চেয়ে নন-ট্যারিফ প্রতিবন্ধকতা নিরসনের ওপর বেশি গুরুত্ব দেবে, যার মাধ্যমে ব্যবসা পরিচালনার ব্যয় কমবে, উদ্যোক্তাদের স্বস্তি আসবে, পাশাপাশি দেশের ম্যাক্রো অর্থনীতিতে প্রাণ ফিরে আসবে।

তিনি আরো বলেন, সত্যিকারের কমপ্লায়েন্স করদাতাদের ওপর করের বোঝা ও হয়রানি হ্রাসের লক্ষ্যে যারা কর ফাঁকি দিচ্ছে, তাদের চিহ্নিত করে করের আওতায় নিয়ে আসার ক্ষেত্রে কোনো শৈথিল্য গ্রহণ করা হবে না।

এনবিআর চেয়ারম্যান জানান, ভ্যাটের আওতা বাড়ানোর বিষয়ে এনবিআর বদ্ধপরিকর। আবদুর রহমান খান বলেন, দেশের স্বার্থে আমাদের রাজস্ব বাড়াতে হবে। এখানে করপোরেট করহার কমানোর কোনো সুযোগ নেই। বরং আমাদের এখন এটি বাড়ানোর চিন্তা করতে হবে।

প্রাক-বাজেট আলোচনায় ঢাকা চেম্বারের পক্ষ থেকে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত নয় এমন কম্পানির করপোরেট কর ২৫ শতাংশ এবং তালিকাভুক্ত কম্পানির ক্ষেত্রে (টিডিএস) ৫ শতাংশ করার দাবি জানানো হয়েছে। এ ছাড়া ব্যক্তি খাতে করমুক্ত আয়ের ন্যূনতম সীমা পাঁচ লাখ টাকা করা, জিডিপিতে করের অবদান বাড়াতে অটোমেশন, বাণিজ্যিক আমদানিতে আগাম কর কমিয়ে ৫ শতাংশ, ই-করপোরেট কর রিটার্ন ব্যবস্থা চালু, আমানতের সুদে উৎস কর কমানো, সারচার্জ ব্যবস্থা ধাপে ধাপে বিলোপ ও কাস্টমস রিফান্ড ব্যবস্থার পূর্ণাঙ্গ অটোমেশনের দাবি জানিয়েছে ঢাকা চেম্বার।

অন্যদিকে তালিকাভুক্ত নয় এমন কম্পানির করহার ২৫ শতাংশ করার প্রস্তাব করেছে গাজীপুর মেট্রোপলিটন চেম্বার।

Manual4 Ad Code

আলোচনায় নিজেদের প্রস্তাব তুলে ধরেছে বাংলাদেশ এলপিজি অটোগ্যাস স্টেশন অ্যান্ড কনভার্সন ওয়ার্কশপ ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন। আমদানি না করে উৎপাদনের প্রয়োজনীয় কাঁচামাল আমদানিতে শুল্ক কমানো, সিএনজির সঙ্গে এলপিজির মূল্য সমন্বয়, ট্যাক্স হলিডে সুবিধা, এলপিজিতে ভ্যাট অব্যাহতি, আমদানিপ্রক্রিয়া সহজ করা এবং প্রণোদনা দেওয়ার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।

Manual3 Ad Code

বাংলাদেশ ফার্নিচার শিল্প সমিতি তাদের দাবিতে কাঁচামাল ক্রয়ের ক্ষেত্রে উৎস কর ৩ শতাংশের পরিবর্তে ০.৫০ শতাংশ করা, আমদানি পর্যায়ে উৎস কর ৫ শতাংশ থেকে ২ শতাংশ করার কথা জানিয়েছে।

 

বিডি প্রতিদিন

Latif Travels
Metropolitan University

আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন

📞 মোবাইল: +8801712540420

✉️ ইমেইল: pavel.syl@gmail.com