• সিলেট, রাত ১১:৪৬, ২৫শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

সব কাজে মহান আল্লাহর সন্তুষ্টিলাভের আগ্রহ

admin
প্রকাশিত মে ৫, ২০২৬
সব কাজে মহান আল্লাহর সন্তুষ্টিলাভের আগ্রহ

Manual8 Ad Code

সব কাজে মহান আল্লাহর সন্তুষ্টিলাভের আগ্রহ

মাওলানা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ

 

Manual8 Ad Code

মানুষ দুনিয়ায় নানা আবেদনে, নানা প্রণোদনায় কাজ করে থাকে। কখনো অর্থের মোহে, কখনো খ্যাতি ও যশের লোভে, কখনো ক্ষমতালাভকে সামনে রেখে তার কাজ সংঘটিত হয়। আবার কখনো নারীসঙ্গলোভ, যৌন আবেদনে সে উদ্বুদ্ধ হয়। কখনো প্রভুত্বপ্রিয়তা ও লোকরঞ্জনের লোভ তাকে পেয়ে বসে।
এমন আরো বহু ধরনের জাগতিক উদ্দেশ্যলাভই তার মুখ্য হয়। অনেক ধরনের নিয়তে সে ঘুরপাক খায়। ইসলামের দৃষ্টিতে এই সবকিছুই ‘গায়রুল্লাহ’ এবং এই ধরনের কাজ ও নিয়ত ‘রিয়া’ নামে বিবেচ্য হয়। রিয়াদুষ্ট কোনো কাজ, সে যত মহৎই হোক না কেন, আল্লাহর কাছে কখনো তা গ্রহণযোগ্য হয় না, কবুলিয়তের মহিমায় ধন্য হয় না।

Manual7 Ad Code

নবী (সা.) বলেছেন, কোনো মহৎ কাজে যদি বিন্দুমাত্র রিয়া ও লোকরঞ্জন অভিলাষ থাকে, তা আল্লাহর কাছে গৃহীতব্য হয় না। (ইমাম নাসায়ি, আস-সুনান, হাদিস : ৩১৪০)

নবীজি (সা.) বলেছেন, কিয়ামতের দিন তিনজন ব্যক্তিকে আল্লাহর সামনে হাজির করা হবে। একজন খ্যাতিমান আলেম, একজন মশহুর দানশীল, আরেকজন হলো শহীদ। আলেমজনকে জিজ্ঞাসা করা হবে, তুমি দুনিয়ায় কী করে এসেছ? সে বলবে, আমি দ্বিনের ইলম অর্জন করেছি, এর প্রচার-প্রসারে শ্রম ব্যয় করেছি।

আল্লাহ বলবেন, এই সবকিছু তুমি করেছ খ্যাতি অর্জনের জন্য, আমার জন্য নয়। নির্দেশ হবে, একে অধোমুখ করে জাহান্নামে নিক্ষেপ করো। অনন্তর সে জাহান্নামে নিক্ষিপ্ত হবে।এমনিভাবে দানশীল হিসেবে খ্যাত এবং শহীদরূপে বিখ্যাত ব্যক্তিকেও জিজ্ঞাসাবাদের পর নিয়তের বিশুদ্ধতার অভাবে, বৈকল্যের কারণে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে।(ইমাম মুসলিম, আস-সহিহ, হাদিস : ১৯০৫) পক্ষান্তরে আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে অল্প কাজ হলেও তা নাজাতের জন্য যথেষ্ট হবে বলে বিবেচ্য। নবীজি (সা.) বলেছেন, তোমরা দ্বিনকে খালিস ও নির্ভেজাল করো, অল্প আমলই তোমার জন্য যথেষ্ট বলে বিবেচ্য হবে। সৎ লোকদের প্রশংসায় আল্লাহ পাক ইরশাদ করেছেন, ‘তারা আল্লাহর জন্যই তাদের দ্বিন ও আমলকে নির্ভেজাল ও নিরেট করে।’ (সুরা : বায়্যিনাহ, আয়াত : ৫)
আল্লাহর কাছে খালিস ও বিশুদ্ধ আমলই একমাত্র গ্রহণযোগ্য। কোরআন মজিদে ইরশাদ হয়েছে, ‘শোনো, আল্লাহর জন্য হলো বিশুদ্ধ ও খালিস দ্বিন।’ (সুরা : জুমার, আয়াত : ৩)

নবীজি (সা.) সুস্পষ্ট ভাষায় বলেছেন, আমল তো নিয়ত অনুসারেই বিবেচ্য হয়ে থাকে। যে ব্যক্তি যে ধরনের নিয়ত করবে, তার জন্য সে ধরনের প্রতিদান হবে। (উদাহরণত) যার হিজরত হবে আল্লাহ ও রাসুলের জন্য তাঁরই পথে, তার হিজরত বিবেচ্য হবে আল্লাহর ও তাঁর রাসুলের জন্যই। আর যার হিজরত হবে দুনিয়া পাওয়ার জন্য বা কোনো নারীকে বিয়ের খাতিরে, তার হিজরত সে জন্য বলেই বিবেচিত হবে।’ (ইমাম বুখারি, আস-সহিহ, হাদিস : ১)

Manual3 Ad Code

এমনকি কাজের বিনিময় প্রাপ্তির দিকেও তার নজর থাকবে না। পাওয়া না-পাওয়ার ঊর্ধ্বে তাকে উঠতে হবে। অনেক আল্লাহঘনিষ্ঠ বান্দা এ কথাও ব্যক্ত করেছেন যে তার সব কাজের মাকসুদ হবে একমাত্র আল্লাহ। জাহান্নাম থেকে মুক্তি, জান্নাত অর্জন—এ বিষয়টিও তার কাছে গৌণ ও প্রচ্ছন্ন হয়ে যাবে। এগুলো হলো মুমিনের পুরস্কার। পুরস্কার হলো পুরস্কারদাতার অনুগ্রহ এবং তাঁরই আনুকূল্য। পুরস্কার কখনো মুখ্য লক্ষ্যস্থল হতে পারে না।

Manual2 Ad Code

সুতরাং মুমিনের প্রতিটি কাজই হতে হবে আল্লাহর সন্তুষ্টির তাড়নায় উদ্বুদ্ধ হয়ে, তাঁরই জন্য খালিস করে। একেই শরিয়তের পরিভাষায় ‘ইখলাস’ বা নিয়তের পরিশুদ্ধি ও বিশুদ্ধতা বলা হয়ে থাকে। সাহাবিরা ইসলামের এই অত্যুচ্চ মর্যাদায় অভিষিক্ত ছিলেন। তাই আল্লাহ পাক তাঁর সন্তুষ্টির খোশখবরিসহ তাঁদের কথা উল্লেখ করেছেন কোরআন মজিদে, ‘(এরা এমন যে) আল্লাহ তাদের ওপর সন্তুষ্ট, তারাও আল্লাহর ওপর সন্তুষ্ট।’ (সুরা : তাওবা, আয়াত : ১০০)

 

বিডি প্রতিদিন

Latif Travels
Metropolitan University

আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন

📞 মোবাইল: +8801712540420

✉️ ইমেইল: pavel.syl@gmail.com