• সিলেট, রাত ৮:০৬, ৬ই নভেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

ইসলাম ন্যায়বিচারে উৎসাহিত করে

admin
প্রকাশিত নভেম্বর ২৩, ২০২৫
ইসলাম ন্যায়বিচারে উৎসাহিত করে

Manual4 Ad Code

ইসলাম ন্যায়বিচারে উৎসাহিত করে

Manual5 Ad Code

মুফতি রফিকুল ইসলাম আল মাদানি

Manual4 Ad Code

 

Manual2 Ad Code

বিচার ও বিচার বিভাগ মানবসমাজের ন্যায় ও শৃঙ্খলার ভিত্তি। কোনো জাতি তখনই টিকে থাকে, যখন সেখানে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত থাকে। অন্যায় বা প্রহসনের বিচার সমাজে অবিচার, বিশৃঙ্খলা ও ধ্বংস ডেকে আনে। ইসলাম ন্যায়বিচারকে শুধু রাষ্ট্রব্যবস্থার অংশ নয়, বরং ইমানের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে ঘোষণা করেছে।

কোরআনের আলোকে বিচারব্যবস্থা : আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের নির্দেশ দেন যে তোমরা আমানতগুলো তাদের হকদারদের কাছে পৌঁছে দেবে এবং যখন মানুষের বিচার করবে তখন ন্যায়বিচার করবে।’ (সুরা আন-নিসা, আয়াত-৫৮) এই আয়াত বিচারকার্যকে এক বিশাল আমানত হিসেবে বর্ণনা করে। বিচারক বা শাসক কোনো অবস্থাতেই পক্ষপাত, ঘুষ-দুর্নীতি অথবা রাজনৈতিক, রাষ্ট্রীয় বা অন্য কোনো প্রভাবের কারণে অন্যায় সিদ্ধান্ত দিতে পারেন না। আরেক জায়গায় আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘হে ইমানদারগণ! তোমরা আল্লাহর জন্য দৃঢ়ভাবে ন্যায়বিচারের সাক্ষ্য প্রদানকারী হও এবং কোনো জাতির প্রতি বিদ্বেষ তোমাদের ন্যায়বিচার থেকে বিরত না রাখুক। ন্যায়বিচার কর; কারণ সেটাই তাকওয়া-খোদাভীতির কাছাকাছি।’ (সুরা আল-মায়িদাহ, আয়াত-৮) এই নির্দেশনা প্রমাণ করে যে ইসলাম এমন বিচারব্যবস্থা চায়, যা সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ ও আল্লাহ ভীতিপূর্ণ।

রসুলুল্লাহ (সা.)-এর দৃষ্টিতে বিচারকার্য : রসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘বিচারকদের মধ্যে তিন ধরনের মানুষ থাকবে : এক ধরনের বিচারক জান্নাতে, আর দুই ধরনের বিচারক যাবে জাহান্নামে। যে ব্যক্তি সত্য জেনে ন্যায়বিচার করে, সে জান্নাতে যাবে। যে অজ্ঞ হয়েও বিচারক হয়, সে জাহান্নামে যাবে। আর যে জেনেশুনে অন্যায়ভাবে বিচার করে, সে-ও যাবে জাহান্নামে।’ (সুনান আবু দাউদ, হাদিস : ৩৫৭৩) এ হাদিস থেকে বোঝা যায়, বিচারকার্য কেবল পেশাগত দায়িত্ব নয়, এটি আখিরাতের এক কঠিন পরীক্ষা। ন্যায়বিচারকারীরা জান্নাতে আশ্রয় পাবে, আর অন্যায় বিচারকারীরা আল্লাহর কঠিন শাস্তির মুখোমুখি হবে। রসুলুল্লাহ (সা.) ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে খুবই সতর্ক ছিলেন। ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার বিষয়ে তিনি প্রভাবিত হতেন না, তিনি কখনো আপস করতেন না। প্রভাবশালী বংশের জনৈক মহিলা চুরির অভিযোগে তার হাত কর্তনের রায় হলে তা ক্ষমা করার জন্য রসুলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে সুপারিশ করা হয়। এ পেক্ষাপটে রসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘আল্লাহর শপথ! মুহাম্মদের কন্যা ফাতিমা যদি চুরি করত, আমি অবশ্যই তার হাত কেটে দিতাম।’ (সহিহ বুখারি) রসুলুল্লাহ (সা.) তাঁর সাহাবিদের ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার প্রতি উৎসাহিত করতেন, ন্যায়পরায়ণতা প্রতিষ্ঠার জন্য সর্বাত্মক প্রচেষ্টার জন্য উদ্বুদ্ধ করতেন। সাহাবি আবু সাইদ খুদরি (রা.) থেকে বর্ণিত, রসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘স্বৈরাচারী শাসকের সামনে ন্যায়সংগত কথা বলাও উত্তম জিহাদ।’ (আবু দাউদ)

ন্যায়বিচারের সুফল : ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হলে সমাজে শান্তি, আস্থা ও নিরাপত্তা ফিরে আসে। রসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘ন্যায়পরায়ণ শাসকরা আল্লাহর আরশের ছায়ায় আশ্রয় পাবে। যেদিন কোনো ছায়া থাকবে না।’ (সহিহ মুসলিম)। ন্যায়বিচার রাষ্ট্রে বিশ্বাসযোগ্যতা ও ঐক্য প্রতিষ্ঠা করে। ন্যায়নিষ্ঠ শাসক বা সত্যপরায়ণ বিচারক আল্লাহর কাছে সম্মানিত ও প্রিয় ব্যক্তি।

প্রহসনের বিচারের কুফল : অন্যদিকে যখন বিচার প্রহসনে পরিণত হয়, তখন সমাজে অরাজকতা ও অন্যায় বেড়ে যায়। আস্থা বিশ্বাস হ্রাস পায় শাসকদের প্রতি। রসুলুল্লাহ (সা.) সতর্ক করে বলেছেন, ‘তোমাদের পূর্ববর্তী জাতিগুলো ধ্বংস হয়েছে এ কারণে যে তারা ধনীদের অপরাধে ছাড় দিত এবং গরিবদের শাস্তি দিত।’ (সহিহ বুখারি. হা. ৬৭৮৮)। এ ধরনের বিচারব্যবস্থা আল্লাহর গজব ও সামাজিক পতনের কারণ। কোরআনে বলা হয়েছে, যখন আমরা কোনো জনপদ ধ্বংস করতে চাই, তখন তার অহংকারী লোকদের আদেশ দিই (ন্যায়ের পথে চলতে), কিন্তু তারা সেখানে অবাধ্যতা করে; ফলে সেই জনপদের ওপর আমার শাস্তির আদেশ প্রযোজ্য হয় এবং আমি সেটিকে চূর্ণবিচূর্ণ করে দিই।’ (সুরা আল ইসরা, আয়াত- ১৬)

Manual2 Ad Code

ইহকাল ও পরকালের পরিণতি : ন্যায়বিচার রাষ্ট্রে শান্তি, উন্নয়ন ও নিরাপত্তা আনে। অন্যায় বিচার মানুষের আস্থা নষ্ট করে, অপরাধ ও দুর্নীতি বাড়ায়। পরকালের জন্য নির্ধারিত হয় ভয়াবহ শাস্তি। আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘সেদিন আল্লাহ ন্যায়বিচারের সঙ্গে বিচারকার্য সমাধা করবেন, এবং কারও প্রতি সামান্যতম অন্যায় করা হবে না।’ (সুরা আজ-যুমার, আয়াত-৬৯)। অতএব যে ব্যক্তি পৃথিবীতে ন্যায় প্রতিষ্ঠা করবে, সে পরকালে পুরস্কৃত হবে; আর যে অন্যায় করবে, সে জবাবদিহিতে ব্যর্থ হবে। ইসলাম এমন একটি বিচারব্যবস্থা চায়- যা আল্লাহভীতি, ন্যায় ও সত্যের ওপর প্রতিষ্ঠিত। বিচারক ও শাসকরা যদি এই দায়িত্ব আমানত হিসেবে গ্রহণ করেন, তবে সমাজে শান্তি, নিরাপত্তা ও উন্নয়ন আসবে। কিন্তু যদি বিচার প্রহসনে পরিণত হয়, তবে সমাজ ধ্বংস এবং পরকালে ভয়াবহ পরিণতি অবশ্যম্ভাবী। তাই ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা প্রতিটি মুসলমান ও রাষ্ট্রের অপরিহার্য দায়িত্ব।

বিডি প্রতিদিন

Latif Travels
Metropolitan University

আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন

📞 মোবাইল: +8801712540420

✉️ ইমেইল: pavel.syl@gmail.com