• সিলেট, সন্ধ্যা ৭:৪৩, ১৭ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

যেসব খরচ বরকত বয়ে আনে

admin
প্রকাশিত নভেম্বর ২৩, ২০২৫
যেসব খরচ বরকত বয়ে আনে

Manual7 Ad Code

যেসব খরচ বরকত বয়ে আনে

মাইমুনা আক্তার

 

উপার্জন ও খরচ মানুষের জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। প্রতিটি মানুষকেই জীবনের তাগিদে অর্থ-সম্পদ উপার্জন করতে হয়, আবার খরচও করতে হয়। বাহ্যিকভাবে খরচ হওয়াকে কমে যাওয়া মনে হলেও কিছু খরচ এমন আছে, যেগুলো মানুষের রিজিকে বরকতের দরজা খুলে দেয়। তারা যত বেশি খরচ করে, আল্লাহর পক্ষ থেকে তাদের অর্থ-সম্পদ আরো বাড়িয়ে দেওয়া হয়।

আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘মহান আল্লাহ বলেন, তুমি ব্যয় করো, হে আদম সন্তান! আমিও তোমার প্রতি ব্যয় করব।’ (বুখারি, হাদিস : ৫৩৫২)

Manual5 Ad Code

কোরআন-হাদিসের বহু জায়গায় দান-সদকার উপকারিতা বর্ণনা করা হয়েছে। বিশেষ করে মহান আল্লাহ দান করা ও অভাবগ্রস্তকে সাহায্য করাকে তাঁর সৎকর্মপরায়ণ বান্দাদের বিশেষ গুণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেছেন, ‘ইতিপূর্বে এরাই ছিল সৎকর্মশীল।

তারা রাতের সামান্য অংশই অতিবাহিত করত নিদ্রায়, আর রাতের শেষ প্রহরে এরা ক্ষমা চাওয়ায় রত থাকত। আর তাদের ধন-সম্পদে রয়েছে অভাবগ্রস্ত ও বঞ্চিতের হক।’ (সুরা : জারিয়াত, আয়াত : ১৬-১৯)

Manual3 Ad Code

এই আয়াতে বোঝা যায়, মানুষের উপার্জিত সম্পদে কিছু মানুষের হক আছে। আল্লাহর যেসব বান্দা আল্লাহর আদেশ পালনকরত সেই হক আদায় করে, মহান আল্লাহ তাদের রিজিকে বরকত দিয়ে দেন।

তারা যতটুকু ব্যয় করে, ইহকাল ও পরকালে তারা এর চেয়ে বহুগুণে ফেরত পায়।

মহান আল্লাহ বলেন, ‘কে আছে যে আল্লাহকে উত্তম ঋণ দেবে, ফলে তিনি তার জন্য বহুগুণে বাড়িয়ে দেবেন? আর আল্লাহ সংকীর্ণ করেন ও প্রসারিত করেন এবং তাঁরই নিকট তোমাদেরকে ফেরানো হবে।’ (সুরা : বাকারাহ, আয়াত : ২৪৫)

অন্য আয়াতে মহান আল্লাহ বলেন, ‘নিশ্চয় আমার রব তাঁর বান্দাদের মধ্যে যার জন্য ইচ্ছা রিজিক প্রশস্ত করেন এবং সংকুচিত করেন। আর তোমরা যা কিছু আল্লাহর জন্য ব্যয় করো, তিনি তার বিনিময় দেবেন এবং তিনিই উত্তম রিজিকদাতা।’
(সুরা : সাবা, আয়াত : ৩৯)

শুধু তা-ই নয়, তাদের দৈনন্দিন কাজে আসমানি সাহায্য আসে।

কঠিন বিপদ-আপদ থেকে সহজে মুক্তি পায়। ইবনে উমার (রা.) বর্ণনা করেন, তার শব্দমালা এরূপ—‘আল্লাহর কাছে সর্বাধিক প্রিয় কাজ হলো আনন্দ দানের নিমিত্তে তোমার মুসলমান ভাইয়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ করা, অথবা তার বিপদ দূর করা, অথবা তার মনের দুশ্চিন্তা দূর করে দেওয়া অথবা তার ঋণ পরিশোধ করা।’ (আত-তারগিব ওয়াত তারহিব, হাদিস : ৪০০৬)

যারা আল্লাহকে খুশি করার আশায় অন্য মুসলমানের সুখ-দুঃখে নিঃস্বার্থভাবে এগিয়ে আসে, মহান আল্লাহর দরবারে তাদের মর্যাদাও বৃদ্ধি পায়। তাদের গুনাহমুক্ত হওয়ার জন্য সহায়ক হয়।

Manual7 Ad Code

হাদিসে এসেছে, ‘তোমরা এক টুকরা খেজুর দিয়ে হলেও জাহান্নামের আগুন থেকে বাঁচো।’ (বুখারি, হাদিস : ৬৫৪০)

এই হাদিস দ্বারা বোঝা যায়, ঈমানদারের দান-সদকা তাদের পরকালের সাজা প্রশমিত করে। দান-সদকা মানুষকে পাপমুক্ত হতে সাহায্য করে। আল্লাহর ফেরেশতারা দাতাদের জন্য কল্যাণের দোয়া করে।

Manual4 Ad Code

আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, মহানবী (সা.) বলেছেন, প্রতিদিন সকালে দুজন ফেরেশতা অবতরণ করেন। তাঁদের একজন বলেন, হে আল্লাহ! দাতাকে তার দানের উত্তম প্রতিদান দিন আর অন্যজন বলেন, হে আল্লাহ! কৃপণকে ধ্বংস করে দিন।
(বুখারি, হাদিস : ১৪৪২)

ফলে যারা নিয়মিত দান-সদকা করে, তারা তাদের রিজিকে ও জীবনে অন্যতম বরকত ও প্রশান্তি অনুভব করে। মহান আল্লাহ আমাদের সবাইকে বেশি বেশি দান-সদকা করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

বিডি-প্রতিদিন

Latif Travels
Metropolitan University

আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন

📞 মোবাইল: +8801712540420

✉️ ইমেইল: pavel.syl@gmail.com