• সিলেট, দুপুর ১২:১৪, ১৮ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

ইসলামে আলো যেভাবে ছড়িয়েছে বিশ্বজুড়ে

admin
প্রকাশিত মে ১২, ২০২৬
ইসলামে আলো যেভাবে ছড়িয়েছে বিশ্বজুড়ে

Manual6 Ad Code

ইসলামে আলো যেভাবে ছড়িয়েছে বিশ্বজুড়ে

Manual4 Ad Code

এম. এ মান্নান

 

রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নবুয়ত পান ৪০ বছর বয়সে। নবুয়ত পাওয়ার পর আল্লাহর দীন প্রচারে মনোনিবেশ করেন। তিনি প্রথমে তাঁর বংশ কুরাইশদের কাছে দীনের দাওয়াত দেওয়ার পথ বেছে নেন। সে সময়ের মক্কায় নিয়ম ছিল, বিপদসূচক কোনো খবর থাকলে পাহাড়ের চূড়ায় উঠে চিৎকার দিয়ে আহ্বান করতে হতো। আসন্ন কোনো বিপদের আশঙ্কা করে তখন সবাই সেখানে ছুটে আসত। রসুলুল্লাহ (সা.) সেমতে একদিন ছাফা পাহাড়ের চূড়ায় উঠে চিৎকার দিয়ে ডাক দিলেন- প্রত্যুষে সবাই সমবেত হও।

Manual8 Ad Code

কুরাইশ বংশের সব গোত্রের লোক দ্রুত সেখানে সমবেত হয়। অতঃপর তিনি কুরাইশদের উদ্দেশে তাওহিদ, রিসালাত ও আখেরাতের ওপর ইমান আনার আহ্বান জানালেন। অতঃপর বললেন, হে কুরাইশগণ! যদি আমি বলি যে এই পাহাড়ের অপর পাশে একদল পরাক্রান্ত শত্রু সৈন্য তোমাদের ওপর হামলার জন্য অপেক্ষা করছে, তাহলে তোমরা কি বিশ্বাস করবে? সবাই সমস্বরে বলে উঠল, অবশ্যই করব। কেননা আমরা এ যাবৎ আপনার কাছ থেকে সত্য ব্যতীত অসত্য কিছুই পাইনি। তখন রসুল বললেন, ‘আমি কিয়ামতের কঠিন আজাব সম্পর্কে তোমাদের কাছে ভয় প্রদর্শনকারীরূপে আগমন করেছি।’

অতঃপর তিনি আবেগভরে একেকটি গোত্রের নাম ধরে ডেকে বলতে থাকলেন, ‘হে কুরাইশগণ, তোমরা নিজেদের জাহান্নামের আগুন থেকে বাঁচাও! হে বনু কাব বিন লুওয়াই! হে বনু আবদে মানাফ! হে বনু আবদে শামস! …হে বনু হাশেম! হে বনু আবদুল মুত্তালিব! তোমরা নিজেদের জাহান্নামের আগুন থেকে বাঁচাও।’ অতঃপর ব্যক্তির নাম ধরে ধরে বলেন, ‘হে আব্বাস বিন আবদুল মুত্তালিব! আপনি নিজেকে জাহান্নামের আগুন থেকে বাঁচান! হে ছাফিয়াহ, রসুলুল্লাহর ফুফু! আপনি নিজেকে জাহান্নামের আগুন থেকে বাঁচান। হে মুহাম্মদের কন্যা ফাতেমা! তুমি নিজেকে জাহান্নামের আগুন থেকে বাঁচাও!’

রসুল (সা.)-এর হৃদয়কাড়া আবেদন আবু লাহাবের অন্তরে দাগ কাটতে পারেনি। সে মুখের ওপর বলে দিল- ‘তোমার ওপরে ধ্বংস আপতিত হোক! এজন্য তুমি আমাদের জমা করেছ?’ অতঃপর সুরা লাহাব নাজিল হয় ‘আবু লাহাবের দুই হাত ধ্বংস হোক এবং সে ধ্বংস হয়েছে।’ তিনি নিজ সম্প্রদায়কে উদ্দেশ করে বাজারে-ঘাটে সর্বত্র বিশেষ করে হজের মৌসুমে সবার উদ্দেশে বলেন, ‘তোমরা বল আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই, তাহলে তোমরা সফলকাম হবে।

মূলত প্রকাশ্য দাওয়াতের পরই মুশরিকদের সঙ্গে মহানবী (সা.)-এর প্রকাশ্যে বিরোধ শুরু হলো। মুশরিকরা রসুল (সা.)-এর বিরুদ্ধে অপপ্রচার শুরু করল। মুশরিকরা যেসব অপপ্রচার শুরু করল তা হলো (ক) এ ব্যক্তি একজন কবি; (খ) মুহাম্মদ (সা.) একজন বাগ্মী; (গ) এ ব্যক্তির প্রচারিত ধর্ম প্রাচীন বিশ্বাস কাহিনি; (ঘ) এ ব্যক্তিকে জিনে ধরেছে; (ঙ) মুহাম্মদ নির্বংশ। রসুল (সা.)-এর বিরুদ্ধে ব্যঙ্গবিদ্রুপ, ঠাট্টা-উপহাস, গালিগালাজ ও অশালীন উপাধি প্রদানের সঙ্গে সঙ্গে মুশরিকরা কটুতর্ক শুরু করে দিল। বলা হলো- (ক) তুমি যদি নবী হয়ে থাক তাহলে এর স্বপক্ষে যুক্তি দেখাও; (খ) আকাশ থেকে সরাসরি একদল ফেরেশতা নামিয়ে আন; (গ) তুমি কীভাবে একজন নবী হলে, তুমি তো আমাদের মতোই রক্ত-মাংসে তৈরি একজন মানুষ; (ঘ) তোমার জন্য আকাশ থেকে ধনরত্ন তৈরি হয় না কেন? (ঙ) তুমি আমাদের ভয় দেখিয়ে নেতা হতে চাইছ, তা না হলে কোথায় তোমার সেই আজাব তা নিয়ে আস না কেন? (চ) কেয়ামত সম্পর্কে তারা বলত, সেদিন কবে ঘটবে বল।

রসুল (সা.)-এর বিরুদ্ধে ব্যঙ্গবিদ্রুপ, কুৎসা রটনা ও কটুতর্কের সঙ্গে কখনো কখনো কুরাইশ নেতারা দু’একটা যুক্তি প্রদর্শন করত। যেমন (ক) আমরা তো দেবতাগুলোকে কখনো আল্লাহর চেয়ে বড় মনে করি না। আমরা শুধু বলি, এ মূর্তিগুলো যেসব ব্যক্তির আত্মা, তারা আল্লাহর দরবারে আমাদের জন্য সুপারিশ করতে পারে; (খ) মুহাম্মদের দাওয়াত মেনে নিলে আমাদের নেতৃত্ব ও প্রাধান্য থাকবে না। ব্যঙ্গবিদ্রুপ, গালিগালাজ ও অপপ্রচারের সঙ্গে সঙ্গে কুরাইশদের বিরোধিতা ক্রমশ গুন্ডামি, সন্ত্রাসী ও হিংস্রতায় রূপ নিতে থাকে। যেমন (ক) রসুল (সা.)-এর যাতায়াতের রাস্তায় নিয়মিত কাঁটা বিছিয়ে দিত; (খ) নামাজ পড়ার সময় ঠাট্টা ও হইচই করত; (গ) সেজদার সময় তার পিঠের ওপর পশুর নাড়িভুঁড়ি নিক্ষেপ করত। কোরআন তিলাওয়াতের সময় তাকে আহাম্মক বলে গালি দিত।

মক্কাবাসী যখন কোনোভাবেই রসুল (সা.)-এর দাওয়াত কবুল করল না তখন তিনি মনের মধ্যে একবুক বেদনা নিয়ে দাওয়াতের নতুন মিশন নিয়ে তায়েফ গমন করলেন। কিন্তু সেখানেও তিনি হতাশ হলেন। নির্মম নির্যাতনের শিকার হলেন। আল্লাহর পক্ষ থেকে হিজরতের অনুমতি পেলে রসুল (সা.) সাহাবিদের পর্যায়ক্রমে মদিনায় হিজরতের অনুমতি দিলেন। হিজরতের মাধ্যমে রসুলুল্লাহ (সা.)-এর পবিত্র মাদানি জীবনের শুভসূচনা হয় এবং ইসলাম পৃথিবীর বুকে বিজয়ী রূপে আত্মপ্রকাশ করে। তারপর থেকে ১৪০০ বছর ধরে চলছে ইসলামের উত্থানের যুগ। কোটি কোটি মানুষ আশ্রয় নিয়েছে রসুল (সা.) প্রবর্তিত দীনের ছায়াতলে। ইসলাম এখন বিশ্বের সবচেয়ে প্রভাবশালী ধর্মমত।

♦ লেখক : ইসলামি গবেষক

 

Manual5 Ad Code

বিডি-প্রতিদিন

Manual5 Ad Code

Latif Travels
Metropolitan University

আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন

📞 মোবাইল: +8801712540420

✉️ ইমেইল: pavel.syl@gmail.com