• সিলেট, রাত ১২:০৩, ১২ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

মুমিন যখন লজ্জিত হয়

admin
প্রকাশিত নভেম্বর ২৪, ২০২৫
মুমিন যখন লজ্জিত হয়

Manual6 Ad Code

মুমিন যখন লজ্জিত হয়

মুফতি মুহাম্মদ শফি (রহ.)

 

Manual1 Ad Code

লজ্জা ও শালীনতা এমন অনন্য বৈশিষ্ট্য, যা আদম (আ.) থেকে আজ পর্যন্ত সব নবী-রাসুল (আ.) ও আল্লাহর প্রিয় বান্দাদের মধ্যে বিদ্যমান। ইসলাম ও পূর্ববর্তী সব শরিয়তে লজ্জা ও শালীনতার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। হাদিসে লজ্জাকে ঈমানের অংশ বলা হয়েছে। রাসুুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, পূর্ববর্তী নবুয়তের কিছু কথা রয়ে গেছে।

তার একটি হলো, ‘যখন তোমার লজ্জা নেই, তখন তুমি যা ইচ্ছা তা-ই কোরো।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৩৪৮৪)
মুমিনের লজ্জা ছয় প্রকার

মুমিনের লজ্জা ছয় প্রকার। তা হলো—

১. গুনাহ করলে : গুনাহ হলে মুমিন লজ্জিত হয়। এটা ঈমানেরও দাবি।

যেমন—আদম (আ.) যখন অনাকাঙ্ক্ষিত কাজটি করে ফেললেন, তখন তিনি লজ্জায় লুকিয়ে ফিরছিলেন। আল্লাহ তাঁকে জিজ্ঞেস করলেন, আমার থেকে তুমি কোথায় পালাচ্ছ? তিনি বললেন, আমি পালাচ্ছি না, লজ্জা করছি।

Manual7 Ad Code

২. কথা-কাজে ত্রুটি হলে : কোনো কথা ও কাজে ত্রুটি হলে লজ্জা করা উচিত। কাজ যেভাবে করার কথা ছিল সেভাবে করতে না পারলে এবং কথা যেভাবে বলা উচিত ছিল সেভাবে না বললে লজ্জা করা উচিত।

Manual4 Ad Code

যেমন— তুমি কারো সঙ্গে সাক্ষাতের সময় নিলে কিন্তু সময়মতো উপস্থিত হলে না, অন্যদিকে ব্যক্তি অপেক্ষা করল। তোমার লজ্জা করা উচিত। কোনো কাজের ওয়াদা করলে তা পূরণ করবে, না পারলে লজ্জিত হবে। অন্যথায় তোমার মধ্যে ঈমান ও মনুষ্যত্ব কোনোটাই থাকবে না।

৩. ব্যক্তিত্বের কারণে : মুমিন ব্যক্তি তাঁর ব্যক্তিত্বের কারণেও লজ্জিত হয়।

কোনো প্রকার ভুলত্রুটি ছাড়াই স্বভাবজাত লজ্জার কারণে সেটা হয়। যেমন—রাসুলুুল্লাহ (সা.)-এর সঙ্গে জয়নব (রা.)-এর বিয়ে হলো। ওলিমার খাবার খাওয়ার পর কিছু লোক কথাবার্তা দীর্ঘ করল। সেখানেই বসে রইল। নবীজি (সা.) লজ্জায় তাদের কিছু বলতে পারলেন না। তখন আসমান থেকে বলা হলো, ‘যখন তোমরা খাবার খেয়েছ, তখন তোমরা সরে যাও।’ (সুরা : আহজাব, আয়াত : ৫৩)

৪. সহজাত লজ্জা : এটা হলো এমন লজ্জা, যা সহজাতভাবে সবার মধ্যে থাকে। যেমন— স্বামী ও স্ত্রী নিজেদের ব্যক্তিগত জীবনের কথা অন্যকে বলতে লজ্জা বোধ করে। দাম্পত্য জীবনবিষয়ক কথাগুলো সামনে চলে এলে মানুষের ভেতর স্বভাবজাত কারণে লজ্জা ও সংকোচ চলে আসে। এই কারণে আলী (রা.) তাঁর অধিক পরিমাণ মজি নির্গত হওয়ার বিষয়টি রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সামনে উপস্থাপন করতে লজ্জা বোধ করেছিলেন। তিনি বিধানটি অন্য সাহাবির মাধ্যমে জেনে নিয়েছিলেন।

৫. সমীহের কারণে : কাউকে বড় মনে করলে মুমিনের ভেতর লজ্জা তৈরি হয়। এই লজ্জা বিনয় ও নম্রতার মাধ্যমে প্রকাশ পায়। শিক্ষকের সামনে ছাত্র এমন লজ্জা অনুভব করে। ইসরাফিল (আ.) সিঙা নিয়ে আল্লাহর হুকুমের অপেক্ষায় জড়সড় হয়ে অপেক্ষা করছেন। তাঁর ওপর আল্লাহর বড়ত্বের প্রাবল্য আছে।

৬. ছোট মনে করে : কোনো কাউকে ছোট মনে করলে তাকে কিছু বলতে অথবা কোনো কিছুকে ছোট মনে করলে তা চাইতে লজ্জা হয়। যেমন—মুসা (আ.)-এর কাছে এক লোক বলল, আল্লাহ তাঁর কাছে সব কিছু চাইতে বলেছেন। কিন্তু সামান্য পরিমাণ লবণ চাইতে আমার লজ্জা হয়। ইসলামের শিক্ষা হলো আল্লাহর কাছে সব চাইতে হবে। এমনকি ছাগলের ঘাস পর্যন্ত। ছোট ছোট জিনিসকে জীবন যাপনের জন্য অপরিহার্য করে রাখার একটি হিকমত এটাও যে বান্দা বারবার আল্লাহর কাছে চাইবে এবং তাঁর সঙ্গে মহব্বতের সম্পর্ক তৈরি হবে।

তাহরিকে ঈমান থেকে

মো. আবদুল মজিদ মোল্লার অনুবাদ
বিডি প্রতিদিন

Manual3 Ad Code

Latif Travels
Metropolitan University

আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন

📞 মোবাইল: +8801712540420

✉️ ইমেইল: pavel.syl@gmail.com