• সিলেট, রাত ১২:৫০, ১৭ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

রিজিকের সন্ধানে প্রচেষ্টা প্রশংসনীয়

admin
প্রকাশিত নভেম্বর ২৫, ২০২৫
রিজিকের সন্ধানে প্রচেষ্টা প্রশংসনীয়

Manual2 Ad Code

রিজিকের সন্ধানে প্রচেষ্টা প্রশংসনীয়

Manual1 Ad Code

মুফতি ওমর ফারুক

 

মানুষের জীবনে রিজিক একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কেউ মনে করে রিজিক শুধু উপার্জনের মাধ্যমের ওপর নির্ভর করে, কেউ আবার মনে করে ভাগ্যই সবকিছু ঠিক করে দেয়। কিন্তু ইসলাম আমাদের রিজিক সম্পর্কে এমন পরিপূর্ণ ও ভারসাম্যপূর্ণ দৃষ্টিভঙ্গি শিখিয়েছে, যা একই সঙ্গে ঈমান, আমল, নীতি-নৈতিকতা ও মানুষের প্রতি দায়িত্বকে সমান গুরুত্ব দেয়। নবী করিম (সা.)-এর বিভিন্ন হাদিসে রিজিক সম্পর্কে এমন সব নির্দেশনা এসেছে, যা মানুষের দুশ্চিন্তা দূর করে, আশা বৃদ্ধি করে এবং সৎপথে উপার্জনে শক্তি জোগায়।

১. রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘রিজিক পাওয়ার বিষয়ে অধৈর্য ও অস্থির হইয়ো না। কোনো বান্দা তার নির্ধারিত রিজিক সম্পূর্ণ পাওয়ার আগ পর্যন্ত মৃত্যুবরণ করবে না। তাই আল্লাহকে ভয় করো এবং উপার্জনে সংযমী ও সৎপথ অবলম্বন করো। হালালটুকু গ্রহণ করো আর হারাম থেকে বেঁচে থাকো।’ (ইবনে মাজাহ, হাদিস : ২১৪৪)
২. রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন : আল্লাহ গর্ভে একজন ফেরেশতা নিয়োগ করেন। সে বলে—‘হে শুক্রবিন্দুর প্রতিপালক, হে জমাট রক্তের প্রতিপালক, হে মাংসপিণ্ডের রব!’ এরপর আল্লাহ যখন ইচ্ছা করেন, তিনি ভ্রূণের অবস্থা নির্ধারণ করে দেন—‘এটি কি পুরুষ হবে, না নারী? এটি সৌভাগ্যবান হবে, না হতভাগ্য? এর রিজিক কত হবে? এর আয়ু কত হবে?’ এসবই মাতৃগর্ভে থাকা অবস্থায় লিপিবদ্ধ করা হয়।

(সহিহ বুখারি, হাদিস : ৬৫৯৫)

৩. রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘নিশ্চয়ই রিজিক মানুষকে খুঁজে বের করে, এমনকি তার নিজের জীবনের ললাটলিখন থেকেও দ্রুত।’

Manual2 Ad Code

(মুসনাদে ইবনে হিব্বান : ৩২৩৮)

৪. আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রা.) বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) একটি পড়ে থাকা খেজুর দেখে তা তুলে একজন ভিক্ষুককে দিলেন এবং বলেন, ‘তুমি যদি এখানে না থাকতে, তবু এটি তোমার কাছে পৌঁছে যেত।’
(সহিহুত তারগিব, হাদিস : ১৭০৫)

হাদিসের আলোকে রিজিক বৃদ্ধি

Manual7 Ad Code

রিজিক মানুষের জীবনের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। প্রত্যেক মানুষই চায় তার জীবনে প্রশস্ত রিজিক, স্বস্তি, বরকত ও শান্তি। কেউ কঠোর পরিশ্রম করে, কেউ পরিকল্পনা করে, আবার কেউ আল্লাহর ওপর ভরসা করে। কিন্তু কত মানুষই বা জানে—রিজিক বৃদ্ধির কিছু আধ্যাত্মিক রহস্য রয়েছে, যা রাসুলুল্লাহ (সা.) আমাদের শিখিয়ে দিয়েছেন? সহিহ হাদিসে নবী করিম (সা.) মাত্র দুটি আমলের মধ্যে এমন এক আশ্চর্য শক্তি তুলে ধরেছেন, যা মানুষের রিজিককে বিস্তৃত করে, জীবনকে দীর্ঘ ও বরকতময় করে এবং পরিবার-সমাজের সম্পর্ককে গভীর করে। দুটি হাদিস—

১. রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি তার রিজিকের প্রসারতা এবং আয়ু বৃদ্ধির আশা করে, সে যেন আত্মীয়তার সম্পর্ক দৃঢ়ভাবে বজায় রাখে।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৫৯৫৬)
২. রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি দীর্ঘায়ু ও রিজিকের বৃদ্ধি কামনা করে, সে যেন তার পিতা-মাতার প্রতি সদাচরণ করে এবং আত্মীয়তার সম্পর্ক অটুট রাখে।’

(সহিহ মুসলিম, হাদিস : ২৫৫৭)

রিজিকের জন্য প্রচেষ্টা প্রশংসনীয়

নবী করিম (সা.) মুসলমানদের রিজিকের অন্বেষণ ও উপার্জনের জন্য উৎসাহী করেছেন। বহু সহিহ হাদিসে পরিশ্রম, চেষ্টা এবং হালাল জীবিকার প্রশংসা করা হয়েছে। তার মধ্যে কিছু হলো—

Manual4 Ad Code

১. রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমাদের কেউ কাঠ সংগ্রহ করে নিজের পিঠে বহন করে বিক্রি করা—এটাই উত্তম, অন্যথায় মানুষের কাছে হাত পেতে চাওয়া, তারা দিক বা না দিক—তা সম্মানের নয়।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ২৩৭৪)

২. তিনি আরো বলেছেন, ‘মানুষ নিজের হাতের উপার্জনের চেয়ে উত্তম খাবার কখনো খায়নি। আর আল্লাহর নবী দাউদ (আ.) নিজ হাতে উপার্জন করেই জীবিকা নির্বাহ করতেন।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ২০৭২)

বিডি-প্রতিদিন/

Latif Travels
Metropolitan University

আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন

📞 মোবাইল: +8801712540420

✉️ ইমেইল: pavel.syl@gmail.com