দেশজুড়ে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় মশার বংশবিস্তার রোধ, জমে থাকা পানি অপসারণ এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সচেতনতামূলক ও উদ্বুদ্ধকরণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
গত মঙ্গলবার বিকাল ৫টায় সিলেট জেলা শহরের হাউজিং এস্টেটের ৯নং লেনের ৩১ ঐক্যতানস্থ সংগঠনের বিভাগীয় কার্যালয়ে ‘দেশ যুব সংগঠন সিলেট’-এর উদ্যোগে এই সভার আয়োজন করা হয়।
সভায় প্রধান আলোচক হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য রাখেন সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি, সিলেটের জনপ্রিয় অভিনয় শিল্পী ও যুব সংগঠক মো. কামাল। তিনি বলেন, রোগ নিরাময়ের চেয়ে প্রতিরোধই উত্তম। একটি রোগ হয়ে গেলে তার চিকিৎসা যেমন কষ্টসাধ্য ও ব্যয়বহুল, তেমনি এতে জীবনের ঝুঁকিও থাকে। আমরা যদি রোগটি হওয়ার আগেই তা প্রতিরোধ করতে পারি, তবে ব্যক্তিগত ও সামাজিকভাবে আমাদের ভোগান্তি কমবে এবং অর্থনৈতিকভাবেও আমরা সাশ্রয়ী হতে পারব। বিশেষ করে ডেঙ্গুর মতো রোগের ক্ষেত্রে একবার আক্রান্ত হওয়ার পর যে শারীরিক জটিলতা তৈরি হয়, তা অনেক সময় দীর্ঘদিন স্থায়ী হয়।
ডেঙ্গু মশার উৎপত্তিস্থল সম্পর্কে সতর্ক করে মো. কামাল আরও বলেন, সাধারণত এপ্রিলের শুরু থেকে বর্ষার আগে ও পরে ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়ে। ডেঙ্গুর মশা মূলত বদ্ধ পানিতে জন্মায়; চলমান বা রানিং পানিতে লার্ভা হওয়ার সম্ভাবনা থাকে না। এই সচেতনতা আমাদের পরিবার থেকেই শুরু করতে হবে। আমরা যদি নিজ নিজ বাসার আশপাশ পরিষ্কার রাখি এবং কোথাও পানি জমতে না দেই, তবে আমাদের মূল উদ্দেশ্যের বড় একটি অংশ সফল হবে।
সিলেট সিটি কর্পোরেশনের উন্নয়ন ও জনগণের দায়িত্ব সম্পর্কে তিনি বলেন, আমাদের সচেতনতার অভাব আছে। আমরা প্রায়ই রাস্তাঘাট বা ড্রেনে ময়লা ফেলে দেই। কেবল মশা নিধনের জন্য নয়, সার্বিক সুস্বাস্থ্যের জন্যই পরিচ্ছন্নতা প্রয়োজন। সরকারি কর্মকর্তা থেকে শুরু করে ব্যবসায়ী প্রত্যেককে নিজ নিজ কর্মস্থল পরিষ্কার রাখতে হবে। প্লাস্টিকের একটি ডাস্টবিন ব্যবহার করার অভ্যাস গড়তে পারলেই আমাদের রাস্তাঘাট পরিচ্ছন্ন থাকবে।
উক্ত আলোচনা সভায় ডেঙ্গু প্রতিরোধে মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ‘দেশ যুব সংগঠন, সিলেট’-এর পক্ষ থেকে নতুন ২টি বিশেষ কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়।
সচেতনতামূলক এই সভায় সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বশীল ব্যক্তিবর্গ, স্থানীয় নেতৃবৃন্দ, সামাজিক কর্মী, সংগঠনের স্বেচ্ছাসেবক এবং সাধারণ সদস্যগণ উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা প্রত্যেকেই নিজ নিজ অবস্থান থেকে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।