• সিলেট, বিকাল ৪:২৮, ২৪শে আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

সময়ের আবর্তন মুমিনকে সচেতন করে তোলে

admin
প্রকাশিত জুন ২৫, ২০২৬
সময়ের আবর্তন মুমিনকে সচেতন করে তোলে

Manual5 Ad Code

সময়ের আবর্তন মুমিনকে সচেতন করে তোলে
অনলাইন ডেস্ক

 

মানুষের জীবনে সবচেয়ে মূল্যবান জিনিস ধন-সম্পদ, ক্ষমতা, সৌন্দর্য কিংবা খ্যাতি নয়; বরং মানুষের সবচেয়ে বড় সম্পদ হলো সময়। কারণ হারিয়ে যাওয়া সম্পদ ফিরে পাওয়া যায়, কিন্তু চলে যাওয়া একটি মুহূর্তও কখনো ফিরে আসে না।

দিন ও রাতের অবিরাম আবর্তন, মাস ও বছরের পরিবর্তন, শৈশব থেকে যৌবন এবং যৌবন থেকে বার্ধক্যের দিকে ধাবিত হওয়া—এসব আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় যে আমরা এই পৃথিবীতে স্থায়ী নই; বরং একটি নির্ধারিত গন্তব্যের দিকে দ্রুত এগিয়ে চলেছি।

Manual4 Ad Code

প্রতিটি সূর্যোদয় যেন আমাদের জীবনের একটি নতুন পৃষ্ঠা খুলে দেয় এবং প্রতিটি সূর্যাস্ত সেই পৃষ্ঠার হিসাব বন্ধ করে দেয়। তাই একজন সচেতন মুমিনের জন্য সময়ের প্রবাহ শুধু ক্যালেন্ডারের পরিবর্তন নয়; বরং এটি আত্মসমালোচনা, আত্মশুদ্ধি এবং আল্লাহর দিকে ফিরে আসার এক গুরুত্বপূর্ণ আহবান। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘হে মুমিনরা! তোমরা আল্লাহকে ভয় করো, আর প্রত্যেক ব্যক্তি যেন লক্ষ করে যে আগামীকালের জন্য সে কী প্রেরণ করেছে। ’ (সুরা : হাশর, আয়াত : ১৮)

Manual5 Ad Code

সময়ের আবর্তনে মানুষের জন্য শিক্ষা

আল্লাহ তাআলা এই পৃথিবীকে পরিবর্তনের ওপর প্রতিষ্ঠিত করেছেন। সুখের পর দুঃখ, দুঃখের পর সুখ, শক্তির পর দুর্বলতা, যৌবনের পর বার্ধক্য এবং জীবনের পর মৃত্যু—এসবই আল্লাহর নির্ধারিত বিধান। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ বলেন, ‘তোমরা অবশ্যই এক অবস্থা থেকে অন্য অবস্থায় উত্তীর্ণ হবে।’ (সুরা : ইনশিকাক, আয়াত : ১৯)

Manual1 Ad Code

একটি ঋতু আসে, মানুষ তার জন্য প্রস্তুতি নেয়; একটি ঈদ আসে, মানুষ আনন্দে মেতে ওঠে; কিন্তু অল্প সময়ের মধ্যেই সবকিছু অতীত হয়ে যায়।

যারা একদিন একত্র ছিল, তারা বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। যে ঘর একদিন মানুষের কোলাহলে মুখর ছিল, তা একদিন নীরব হয়ে যায়। এভাবেই জীবন আমাদের শিক্ষা দেয় যে এই পৃথিবী চিরস্থায়ী আবাস নয়; বরং এটি পরীক্ষার ক্ষেত্র।

দিন-রাতের পরিবর্তনে আল্লাহর নিদর্শন

যারা চিন্তাশীল, তারা দিন ও রাতের পরিবর্তনের মধ্যে আল্লাহর অসংখ্য নিদর্শন দেখতে পায়। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘নিশ্চয়ই আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর সৃষ্টিতে এবং দিন ও রাতের পরিবর্তনে বোধসম্পন্ন লোকদের জন্য নিদর্শন রয়েছে। ’ (সুরা : আলে ইমরান, আয়াত : ১৯০)

এরপর আল্লাহ তাঁদের বৈশিষ্ট্য উল্লেখ করেছেন, ‘যারা দাঁড়িয়ে, বসে এবং শুয়ে আল্লাহকে স্মরণ করে।’ (সুরা : আলে ইমরান, আয়াত : ১৯১)
সুতরাং প্রকৃত মুমিন সময়ের পরিবর্তন থেকে শিক্ষা গ্রহণ করে এবং নিজের আমল পর্যালোচনা করে।

নতুন হিজরি বছর আত্মসমালোচনার সময়

একটি বছর চলে গেছে, আরেকটি বছর শুরু হয়েছে। এ সময়টি শুধু নতুন ক্যালেন্ডারের সূচনা নয়; বরং নতুন জীবন গড়ার একটি সুবর্ণ সুযোগ। এই সময়ে একজন মুমিন নিজেকে প্রশ্ন করতে পারে—গত বছরে আমি কী অর্জন করেছি? আমার সালাত, তিলাওয়াত ও ইবাদতের অবস্থা কেমন ছিল? আমি কত মানুষের উপকার করেছি? কত পাপ থেকে তাওবা করেছি? যদি আজ আমার মৃত্যু হয়, আমি কি প্রস্তুত? আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘যেদিন প্রত্যেক ব্যক্তি তার কৃত ভালো ও মন্দ কাজ সামনে উপস্থিত পাবে।’ (সুরা : আলে ইমরান, আয়াত : ৩০)

তাই নতুন বছরের সূচনা হওয়া উচিত আন্তরিক তাওবা, ইস্তিগফার এবং নেক আমলের দৃঢ় সংকল্পের মাধ্যমে।

ডিজিটাল যুগে সময় অপচয়ের ভয়াবহতা

বর্তমান যুগে মানুষের সবচেয়ে বড় সংকটগুলোর একটি হলো সময়ের অপচয়। হাতে থাকা স্মার্টফোন ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম মানুষের অজান্তেই তার জীবনের অমূল্য মুহূর্তগুলো গ্রাস করছে। দিন-রাত স্ক্রিনের সামনে কাটতে কাটতে অনেকেই ভুলে যাচ্ছে—কোরআন তিলাওয়াত, জ্ঞানার্জন, পরিবারকে সময় দেওয়া, আত্মউন্নয়ন, সমাজ ও উম্মাহর জন্য কাজ করা ইত্যাদি। একটি নোটিফিকেশন থেকে আরেকটি ভিডিও, একটি সংবাদ থেকে আরেকটি বিতর্ক—এভাবেই মূল্যবান জীবন ক্ষয় হয়ে যাচ্ছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘দুটি নিয়ামতের ব্যাপারে বেশির ভাগ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত্ত—সুস্বাস্থ্য ও অবসর সময়।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৬৪১২)

অতএব, আসুন আমরা আমাদের অতীত ভুলত্রুটির জন্য আন্তরিকভাবে তাওবা করি, মহররম ও আশুরার ফজিলতপূর্ণ আমলগুলো পালন করি, সময়ের সঠিক ব্যবহার করি এবং ডিজিটাল বিভ্রান্তি থেকে নিজেদের রক্ষা করি। আমরা যেন প্রতিটি দিনকে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের একটি নতুন সুযোগ হিসেবে গ্রহণ করি। আল্লাহ তাআলা আমাদের সময়ের মূল্য উপলব্ধি করার, নেক আমলে জীবনকে সমৃদ্ধ করার এবং উত্তম পরিণতি লাভের তাওফিক দান করুন। আমিন।

বিডি-প্রতিদিন

Manual7 Ad Code

Latif Travels
Metropolitan University

আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন

📞 মোবাইল: +8801712540420

✉️ ইমেইল: pavel.syl@gmail.com