সিলেট মহানগর বিএনপির সভাপতি পদ নিয়ে সৃষ্টি হয়েছে জ টি ল তা ও ধু ম্র জা ল
সিলেট মহানগর বিএনপির সভাপতি কে, নাসিম না লোদী?
অনলাইন ডেস্ক
সিলেট মহানগর বিএনপির সভাপতি পদ নিয়ে সৃষ্টি হয়েছে জটিলতা ও ধুম্রজাল। দলের একাধিক বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি আলোচনায় আসে। মূলত ২৬ ও ২৭ নভেম্বর পরপর দুটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ হওয়ায় তৃণমূল ও সাধারণ নেতাকর্মীদের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে বর্তমানে সিলেট মহানগর বিএনপির সভাপতি কে?
বুধবার (২৬ নভেম্বর) রাতে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভীর স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে সিলেট মহানগর বিএনপির সাবেক সভাপতি নাসিম হোসাইনের স্থগিতাদেশ প্রত্যাহারের কথা উল্লেখ করা হয়। এতে জানানো হয়, তার প্রাথমিক সদস্যসহ সকল পর্যায়ের পদের স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তির পর নাসিম হোসাইন বলেন, তিনি পূর্বে সভাপতি ছিলেন, কিন্তু দায়িত্বে ছিলেন না; স্থগিতাদেশ প্রত্যাহারের মাধ্যমে দায়িত্ব ফিরে পেলেন।
তবে পরদিন বৃহস্পতিবার (২৭ নভেম্বর) রুহুল কবির রিজভীর স্বাক্ষরে নতুন আরেকটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়। এতে বলা হয়, ‘ভুলবশত’ আগের দিন নাসিম হোসাইনের স্থগিতাদেশ প্রত্যাহারের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছিল। প্রকৃতপক্ষে তার কোনো দলীয় পদ স্থগিত ছিল না। অর্থাৎ, প্রথম বিজ্ঞপ্তির তথ্যই ভুল ছিল—এ কথা প্রেস বিজ্ঞপ্তিতেই স্পষ্ট করা হয়।
২০২৩ সালের ১০ মার্চ সম্মেলনে ভোটের মাধ্যমে মহানগর বিএনপির সভাপতি পদে নাসিম হোসাইন, সাধারণ সম্পাদক পদে ইমদাদ হোসেন চৌধুরী এবং সাংগঠনিক সম্পাদক পদে সৈয়দ সাফেক মাহবুব নির্বাচিত হন। তবে ২০২৪ সালের ১ আগস্ট সভাপতির পদ থেকে নাসিম হোসেইনকে সরিয়ে কেন্দ্রীয় বিএনপির সহসাংগঠনিক সম্পাদক মিফতাহ্ সিদ্দিকীকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। ওই সময় নাসিম হোসাইন দেশের বাহিরে ছিলেন। এরপর ৪ নভেম্বর ঘোষিত পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয় সিলেট সিটি কর্পোরেশনের সাবেক প্যানেল মেয়র রেজাউল হাসান কয়েস লোদীকে। ১৭০ সদস্যের ওই কমিটিতে সভাপতি হিসেবে নাসিম হোসাইনের নাম ছিল না।
বিষয়টি নিয়ে কমিটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রেজাউল হাসান কয়েস লোদী বলেন, ২৬ নভেম্বরের বিজ্ঞপ্তিতে নাসিম হোসাইনের নাম ভুলবশত যুক্ত হওয়ায় তৃণমূলে কিছু বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছিল, যা ২৭ নভেম্বরের বিজ্ঞপ্তিতে পরিষ্কার করা হয়েছে। তিনি জানান, পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে নাসিম হোসাইনের নাম ছিল না, তাই সভাপতি পদে নতুন কোনো পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত কেন্দ্র থেকে আসেনি।
তিনি বলেন, প্রথম চিঠিতে নাসিম হোসেনকে ‘সাবেক সভাপতি’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তাছাড়া গতবছরের ৪ নভেম্বর ঘোষিত পূর্ণাঙ্গ কমিটিতেও তার নাম নেই। মূলত সারাদেশে অনেকের আবেদনের প্রেক্ষিতে কেন্দ্র থেকে স্থগিতাদেশ বাতিল করা হচ্ছে। সেখানে নাসিম হোসেনের নাম ভুলবশত চলে আসে। এ নিয়ে তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়েছে।
অন্যদিকে নাসিম হোসাইন বলেন, তার পদ কখনো স্থগিত করা হয়নি এবং দ্বিতীয় বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি পরিষ্কার হয়েছে। তিনি দাবি করেন, গত বছরের পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে সভাপতি পদটি ‘শূন্য’ রেখে ১৭১ সদস্যের পরিবর্তে ১৭০ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়। ফলে তার মতে, তিনি সভাপতির দায়িত্ব পালন শুরু করতে পারেন।
কেন্দ্র থেকে এ সংক্রান্ত কোন নির্দেশনা পেয়েছেন কিনা জানতে চাইলে মৌখিকভাবে তাকে জানানো হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন নাসিম হোসাইন।
তবে বিএনপির বিভিন্ন কেন্দ্রীয় সূত্র ও বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী ২০২৪ সালের ৪ নভেম্বর অনুমোদিত পূর্ণাঙ্গ কমিটিতেই সিলেট মহানগর বিএনপির দায়িত্ব নির্ধারিত। সেই অনুযায়ী বর্তমান দায়িত্বে রয়েছেন ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রেজাউল হাসান কয়েস লোদী। কোন পরিবর্তন এলে সেটি দলীয় কেন্দ্রীয় দফতর থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হবে বলে জানিয়েছেন নেতারা।