সিলেটে বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনা
প্রেস বিজ্ঞপ্তি
সিলেটকে পরিচ্ছন্ন, আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব নগর হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে চীনের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে সিলেট সিটি কর্পোরেশনের সৌজন্য সাক্ষাৎ ও কারিগরি আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৈঠকে বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ (ওয়াটার ট এনার্জি), নবায়নযোগ্য জ্বালানি, সমন্বিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, কার্বন নিঃসরণ হ্রাস এবং স্মার্ট সিটি উন্নয়নের সম্ভাব্য সহযোগিতা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন- সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক ক্বাইয়ুম চৌধুরী, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) রাজাইয়ে রাফিন সরকার, প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা একলেম আবেদীন, প্রধান বিদ্যুৎ কর্মকর্তা জয় দেব, চীনের গবেষক ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বিশেষজ্ঞ প্রফেসর চেন ডিংডিং, ইকো সলিউশনস ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মেহরাব মোমিন এবং বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ নির্মাণ প্রতিষ্ঠান চায়না স্টেট কনস্ট্রাকশন ইঞ্জিনিয়ারিং করপোরেশন (সিএসসিইসি)-এর বাংলাদেশ কান্ট্রি ডিরেক্টর ড্যানি।
আলোচনায় সিলেট মহানগরের দীর্ঘমেয়াদি টেকসই উন্নয়নের অংশ হিসেবে আধুনিক Waste-to-Energy প্রযুক্তি ব্যবহার করে বর্জ্যকে সম্পদে রূপান্তর, বিদ্যুৎ উৎপাদন, পরিবেশ দূষণ কমানো এবং সবুজ অবকাঠামো উন্নয়নের সম্ভাবনা পর্যালোচনা করা হয়। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি ও বিনিয়োগের সুযোগ এবং এ ধরনের প্রকল্প বাস্তবায়নের আগে কারিগরি ও অর্থনৈতিক সম্ভাব্যতা সমীক্ষা পরিচালনার গুরুত্ব তুলে ধরা হয়।
বৈঠকে চীনের “স্মল এন্ড বিউটিফুল” আন্তর্জাতিক সহযোগিতা উদ্যোগের আওতায় সিলেটে একটি সম্ভাব্য গ্রীণ এন্ড লাইবলিহুড পাইলট প্রজেক্ট বাস্তবায়নের ধারণাও উপস্থাপন করা হয়। প্রস্তাবিত প্রকল্পে কমিউনিটি সৌরবিদ্যুৎ, ক্ষুদ্র পরিসরের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, পানি ও স্যানিটেশন এবং সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে বিভিন্ন কার্যক্রম অন্তর্ভুক্ত করার সম্ভাবনা নিয়ে প্রাথমিক আলোচনা হয়।
সিলেট সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি, জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে নগর উন্নয়নে সহযোগিতা বাড়ানোর আগ্রহ প্রকাশ করা হয়। একই সঙ্গে পরিবেশবান্ধব অবকাঠামো, সবুজ জ্বালানি, দক্ষ বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং নাগরিক সেবার মানোন্নয়নে ভবিষ্যৎ যৌথ উদ্যোগের বিভিন্ন দিক নিয়ে মতবিনিময় হয়।
বৈঠকে প্রশাসক ক্বাইয়ুম চৌধুরী বলেন, “সিলেটের উন্নয়নে প্রবাসী বাংলাদেশিদের (এনআরবি) সম্পৃক্ততা, চীনের উন্নত প্রযুক্তি ও আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা এবং সিলেট সিটি কর্পোরেশনের সমন্বয়ে একটি টেকসই উন্নয়ন প্ল্যাটফর্ম গড়ে তোলার সম্ভাবনা অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক। এই ধরনের অংশীদারিত্ব সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে এটি বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগিতা ও নগর ব্যবস্থাপনার একটি নতুন মানদণ্ড স্থাপন করবে এবং অন্যান্য সিটি কর্পোরেশনের জন্যও অনুসরণযোগ্য মডেল হয়ে উঠতে পারে।”
বৈঠক শেষে উভয় পক্ষ ভবিষ্যতে কারিগরি পর্যায়ে আরও আলোচনা, তথ্য বিনিময় এবং সম্ভাব্য যৌথ উদ্যোগ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে নিয়মিত যোগাযোগ অব্যাহত রাখার বিষয়ে সম্মত হয়।