উল্টোপথে হাটছে বর্তমান সরকার: নাহিদ ইসলাম
নিজস্ব প্রতিবেদক
জুলাই বিপ্লবের পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন দেশের সরকার যেখানে ছাত্র-জনতার প্রতি সতর্ক ও শ্রদ্ধাশীল হচ্ছে। সেখানে বাংলাদেশের সরকার তার উল্টো পথে হাঁটছে। গণভোটে বাংলাদেশের ৭০ শতাংশ মানুষ সংস্কারের পক্ষে রায় দিলেও সরকার সেই রায়কে অবজ্ঞা করছে। এই সরকার যদি জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না করে, গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন না করে, তাহলে আগামী পাঁচ বছরের মেয়াদ তারা সম্পূর্ণ করে যেতে পারবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম।
শনিবার (২৫ জুলাই) গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, সংবিধান সংস্কার এবং আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার সহযোগীদের বিচারের দাবিতে সিলেট বিভাগীয় সমাবেশে এই কথাগুলো বলেন।
নাহিদ ইসলাম বলেন, জুলাই বিপ্লবের পর বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সরকারগুলো ছাত্র-জনতার প্রতি আরও সতর্ক ও শ্রদ্ধাশীল আচরণ করছে। ভারতের সাম্প্রতিক ছাত্র আন্দোলনের উদাহরণ তুলে ধরে তিনি বলেন, সেখানে আন্দোলনের মুখে একজন শিক্ষামন্ত্রী পদত্যাগ করেছেন। অথচ বাংলাদেশে সরকার উল্টো পথে হাঁটছে।
তিনি দাবি করেন, গণভোটে দেশের ৭০ শতাংশ মানুষ সংস্কারের পক্ষে রায় দিলেও সরকার সেই গণরায়কে উপেক্ষা করছে। তাঁর ভাষায়, সরকার যদি জুলাই সনদ ও গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না করে, তবে আগামী পাঁচ বছরের মেয়াদ পূর্ণ করতে পারবে না।
বিএনপির সমালোচনা করে এনসিপি আহ্বায়ক বলেন, দেশের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক দলটি নিজেদের অভ্যন্তরীণ কোনো সংস্কার করেনি এবং রাষ্ট্রীয় সংস্কারের ন্যূনতম ঐকমত্যও গ্রহণ করেনি। তিনি বলেন, বিএনপি যদি জুলাই বিপ্লব, ছাত্র-তরুণদের আন্দোলন এবং হাজারো মানুষের আত্মত্যাগ ভুলে যায়, তাহলে এর পরিণতি বিএনপি ও তারেক রহমানের সরকারকেই ভোগ করতে হবে।
সরকারের প্রতি সবচেয়ে কড়া হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে নাহিদ ইসলাম বলেন, এই সরকার যদি জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না করে, গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন না করে, আগামী পাঁচ বছরের মেয়াদ তারা সম্পূর্ণ করে যেতে পারবে না। তারেক রহমানের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘তিনি কি পাঁচ বছর নির্বাচিতভাবে ক্ষমতায় থাকতে চান, নাকি শেখ হাসিনাসহ পৃথিবীর অন্যান্য জায়গায় জনগণের রায়কে উপেক্ষা করার যে করুণ পরিণতি হচ্ছে, সেই পরিণতি তিনি ভোগ করতে চান সিদ্ধান্ত তারেক রহমানকেই নিতে হবে।’
সংবিধান সংস্কার বনাম সংশোধন বিতর্কের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ঐকমত্য কমিশনে আগেই সিদ্ধান্ত হয়েছিল যে সংশোধনের মাধ্যমে সংবিধানের মৌলিক কাঠামোর পরিবর্তন সম্ভব নয়, এ জন্য সংস্কার পরিষদ বা গণপরিষদ প্রয়োজন। তিনি অভিযোগ করেন, নির্বাচিত হওয়ার পর বিএনপি সংস্কারের প্রশ্ন ভুলে শুধু সংশোধনের কথা বলছে। তিনি আরও বলেন, বিএনপি ৩১ দফার মুলা ঝুলিয়ে জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করেছে।
অর্থনৈতিক পরিস্থিতির সমালোচনা করে নাহিদ ইসলাম বলেন, রাজধানী ঢাকায় গ্যাস সংকট, জ্বালানি, বিদ্যুৎ ও এলপিজি সিলিন্ডারের মূল্যবৃদ্ধিতে সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তিতে রয়েছে। সাম্প্রতিক বাজেটে মধ্যবিত্তের ওপর করের অতিরিক্ত বোঝা চাপানো হয়েছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন। তাঁর দাবি, সরকার প্রয়োজনীয় সংস্কার না করায় অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতাও যথাযথভাবে পাওয়া যাচ্ছে না।
এ সময় তিনি আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচনের আগে নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন অথবা বর্তমান নির্বাচন কমিশনারদের পদত্যাগের দাবি জানান। তিনি অভিযোগ করেন, সরকার নির্বাচন কমিশনসহ বিভিন্ন সাংবিধানিক ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানকে দলীয়করণ করছে, যার ফলে দেশের নির্বাচন ব্যবস্থা কাঙ্ক্ষিত উন্নতি অর্জন করতে পারছে না।
সিলেটভিউ২৪ডটকম