তারেক রহমান: দেশে ফেরার প্রশ্নে ষ ড় য ন্ত্রে র ঘূ র্ণি পা ক ও সত্য বি কৃ তি র রাজনীতি
মোহাম্মদ মোস্তফা
বাংলাদেশের রাজনীতিতে তারেক রহমান এমন একটি নাম, যা উচ্চারিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ক্ষমতাকেন্দ্র, বিদেশি লবি, রাষ্ট্রযন্ত্র এবং বিরোধী শক্তির ভেতর অসাধারণ একটি অস্থিরতা সৃষ্টি হয়। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে—কেন?
কেন একজন মানুষকে নিয়ে এত ভয়, এত ষড়যন্ত্র, এত অপপ্রচার?
বাংলাদেশের রাজনীতিতে আজ সবচেয়ে বড় বিতর্ক—তারেক রহমান দেশে ফিরছেন কি না?
মায়ের মৃত্যুশয্যায়ও দেশে আসতে না পারা—এ কি রাজনৈতিক বাস্তবতার নির্মম চিত্র নয়?
এ প্রশ্ন সাধারণ মানুষের মনেও আজ জ্বলন্ত।
একজন ছেলে তার মায়ের শেষ মুহূর্তে পাশে থাকবে না—এটা মানবিকভাবে অকল্পনীয়।
তাহলে কেন তিনি আসতে পারলেন না?
কারণ দেশের পরিস্থিতি এমনভাবে নিয়ন্ত্রিত, এমনভাবে সাজানো–গোছানো, এমনভাবে তত্ত্বাবধানে রাখা হয়েছে—যেখানে তারেক রহমানের একটি পদক্ষেপও পরিকল্পিত ফাঁদে ফেলার অজুহাত হয়ে দাঁড়াতে পারে।
যারা ১/১১ সৃষ্টি করেছিল…
যারা সেই পরিস্থিতি থেকে লাভবান হয়েছিল…
যারা সেই সময়ে তারেক রহমানকে নির্মূল করার পরিকল্পনা করেছিল…
তারা কি আজ থেমে গেছে?
এটাই মূল প্রশ্ন।
রাষ্ট্রযন্ত্র সংস্কারের প্রতিশ্রুতি—কথায় আছে, কাজে নেই
বাংলাদেশের রাজনীতিতে সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার হওয়ার কথা ছিল—
পুলিশ
প্রশাসন
এই প্রতিষ্ঠানগুলো যেন দলের নয়, রাষ্ট্রের হোক—এ স্বপ্ন বহুবার দেখানো হয়েছে।
কিন্তু আজও বাস্তবতা হলো—রাষ্ট্রযন্ত্র রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হচ্ছে।
এমন পরিস্থিতিতে তারেক রহমানের দেশে ফেরার প্রশ্ন শুধু মানবিক নয়—বরং অস্তিত্বমূলক।
একজন নেতাকে ফাঁদে ফেলার জন্য রাষ্ট্রযন্ত্র ব্যবহার করা হলে তার সিদ্ধান্তে ঝুঁকি থাকাই স্বাভাবিক।
গুজব–মিথ্যাচার: তারেক রহমানকে থামানোর নোংরা হাতিয়ার
২০০৬ সালে বিদ্যুৎ খাতের বাজেট ছিল ১২ হাজার কোটি টাকা—এটি ছিল দেশের উন্নয়ন পরিকল্পনার একটি সরকারি অংশ।
কিন্তু গুজব ছড়িয়ে দেওয়া হলো—
“তারেক রহমান নাকি ২০ হাজার কোটি টাকা খেয়ে ফেলেছেন!”
এটা কি যুক্তির কথা?
যেখানে বাজেটই ১২ হাজার কোটি—
কেউ কি তার চেয়ে বেশি টাকা খেয়ে ফেলতে পারে?
এমন হাস্যকর গুজব যখন হাজার হাজার মানুষ বিশ্বাস করে ফেলে—
তখন বোঝা যায়, অপপ্রচার মেশিন কতটা শক্তিশালী এবং কত পরিকল্পিতভাবে সেটি ব্যবহার করা হয়েছে।
এই মিথ্যাচার শুধু তারেক রহমানকে নয়—পুরো গণতন্ত্রকে আঘাত করেছে।
১৭ বছরের লড়াই—তাকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে কেন?
গত ১৭ বছর তারেক রহমানের বিরুদ্ধে যে দমন–পীড়ন, মামলা, অপপ্রচার, নির্বাসনের রাজনীতি চালানো হয়েছে—এটা শুধু একজন ব্যক্তির বিরুদ্ধে নয়;
এটা এমন এক নেতৃত্বকে থামানোর চেষ্টা
যিনি সত্যিকারের পরিবর্তন আনতে পারতেন।
অনেকে আজ সমালোচনা করেন—
কিন্তু তারা কি ভাবেন
গত ১৭ বছর তারা নিজে দেশের জন্য কী করেছেন?
তারেক রহমান যখন বিদেশে থেকেও দলের আন্দোলন, সংগঠন, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক সব বজায় রেখেছেন—
তখন অনেকে শুধুই কথা বলেছেন, অপবাদ ছড়িয়েছেন।
এটাই আমাদের সমাজের বাস্তবতা।
তারেক রহমানের কিছু হলে—বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ অন্ধকারে ঠেলে যাবে
এটা রাজনৈতিক কথা নয়—
এটা বাস্তবতা।
বাংলাদেশের একটি বড় অংশ তারেক রহমানকে বিশ্বাস করে, তার নেতৃত্বে আস্থা রাখে।
এমন একজন নেতাকে যদি পরিকল্পিতভাবে নিশানা করা হয়—
তাহলে দেশের রাজনৈতিক ভারসাম্য ভেঙে পড়বে, অস্থিতিশীলতা তৈরি হবে, জাতীয় ঐক্য ভেঙে যাবে।
যারা ষড়যন্ত্র করছে—তাদের উদ্দেশ্যই সেটাই।
শেষ কথা: সত্য লুকানো যায়, নষ্ট করা যায়, কিন্তু পরাজিত করা যায় না
তারেক রহমান দেশে ফিরছেন কি না—এটা শুধুই রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নয়।
এটা একটি দেশের রাজনৈতিক পরিবেশ, নিরাপত্তা, ন্যায়বিচারব্যবস্থা, রাষ্ট্রযন্ত্র আর ষড়যন্ত্র–রাজনীতির বহুমাত্রিক পরিণতি।
আমরা ভুলে গেলে চলবে না—
যারা বারবার তারেক রহমানকে মিথ্যা অপবাদ দিয়ে দমন করতে চায়—
তারা বাংলাদেশকে দুর্বল রাখতে চায়।
দেশের ভবিষ্যৎ নেতৃত্বকে নিরাপদ রাখা শুধু একটি দলের স্বার্থ নয়—
এটি জাতির স্বার্থ।
M mostafa Leemon
30/11/2025
Birmingham, Uk