কোম্পানি আইন যুগোপযোগী করার উদ্যোগ, ব্যবসায়ীদের সক্রিয় ভূমিকার আহ্বান শিল্পমন্ত্রীর
অনলাইন ডেস্ক
প্রায় তিন যুগের পুরোনো কোম্পানি আইন নতুন প্রজন্মের চাহিদা অনুযায়ী আধুনিক ও যুগোপযোগী করতে সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এই প্রক্রিয়ায় দেশের ব্যবসায়ীদের সক্রিয় ও গঠনমূলক ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়েছেন বাণিজ্য, শিল্প, বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
সোমবার রাজধানীর মতিঝিলে দ্য ফেডারেশন অব চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এফবিসিসিআই) আয়োজিত ‘কোম্পানি আইন-১৯৯৪ এর খসড়া সংশোধনী’ সংক্রান্ত মতবিনিময় সভায় তিনি এ আহ্বান জানান।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ১৯৯৪ সালের কোম্পানি আইনে আগে মাত্র দুটি ছোট সংশোধনী আনা হয়েছিল। কিন্তু বর্তমান বিশ্ব ও নতুন প্রজন্মের চাহিদার কথা বিবেচনায় রেখে একটি পূর্ণাঙ্গ ও যুগোপযোগী আইন প্রয়োজন।
বিশ্বের অন্যান্য সফল ও সচল অর্থনীতির দেশের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, সিঙ্গাপুরের মতো যেসব দেশে ব্যবসা-বাণিজ্য পরিচালনার প্রক্রিয়া সহজ, সেগুলোকে বেঞ্চমার্ক বা উদাহরণ হিসেবে রেখে আইনটি সহজীকরণের কাজ চলছে।
আইন বাস্তবায়নের সুফল ব্যবসায়ীরাই পাবেন উল্লেখ করে খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, সরকার তো নিজে প্রাইভেট কোম্পানি গঠন করে ব্যবসা করবে না। দিনশেষে অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি হলো বেসরকারি খাত। তাই ব্যবসায়ীরা যাতে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে সহজে, স্বাচ্ছন্দ্যে ও আধুনিক উপায়ে ব্যবসা পরিচালনা করতে পারেন, সেটিই এই আইনের মূল লক্ষ্য।
খসড়া প্রস্তাব পর্যালোচনার জন্য ব্যবসায়ীদের সময়ের দাবির প্রেক্ষাপটে তিনি বলেন, খসড়াটি ভালোভাবে বিচার-বিশ্লেষণ করতে ব্যবসায়ীরা ৩০ দিন, প্রয়োজনে ৬০ দিন পর্যন্ত সময় নিতে পারেন। ব্যবসায়ীদের সুনির্দিষ্ট ও আন্তর্জাতিক মানদণ্ডসম্পন্ন পরামর্শ পাওয়ার পরই কেবল সরকার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে।
অর্থনৈতিক রূপান্তরের প্রসঙ্গ টেনে খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, দেশ বর্তমানে একটি ট্রানজিশন পিরিয়ড বা পরিবর্তনকালীন সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। দায়িত্ব গ্রহণের পর সরকার যেমন কোনো বড় আর্থিক সারপ্লাস বা পর্যাপ্ত বাজেট বরাদ্দ পায়নি, তেমনি বেসরকারি খাতকেও প্রতিনিয়ত নানা প্রতিকূলতার সঙ্গে সংগ্রাম করতে হচ্ছে। তাই এই সময়ে সবাইকে মাথা ঠান্ডা রেখে দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই ভবিষ্যতের জন্য সমন্বিত পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে যেতে হবে।
এলডিসি গ্র্যাজুয়েশন বা স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উত্তরণের পরবর্তী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আগামী তিন বছরে বেশকিছু লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে জানিয়ে মন্ত্রী আশ্বস্ত করেন যে, বাণিজ্য সহজীকরণে গৃহীত প্রতিটি পদক্ষেপে ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদের মতামত প্রাধান্য দেওয়া হবে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন এফবিসিসিআইর প্রশাসক মো. ফজলুল হক। মতবিনিময় সভায় বাণিজ্য সংগঠনের প্রধান, আর্থিক প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রক সংস্থার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
বিডি প্রতিদিন