সিলেটে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন করতে চাই: বাণিজ্যমন্ত্রী
প্রেস বিজ্ঞপ্তি
শিল্প, বাণিজ্য, বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, আগামীর উন্নত বাংলাদেশ গড়তে হলে মেধার কোনো বিকল্প নেই। বিশ্বের যেসব দেশ উন্নতি করেছে, তারা শিক্ষা, গবেষণা ও নতুন নতুন উদ্ভাবনে বিনিয়োগ করেছে। এসব ক্ষেত্রে বিনিয়োগ শুধু দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি করে না, বরং দেশের সামগ্রিক উন্নতির শক্ত ভিত্তি তৈরি করে। আমরা এসব বিষয়ে গুরুত্ব দিচ্ছি।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) বিকেলে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অডিটোরিয়ামে সিলেট সিটি কর্পোরেশন ও সিলেট সদর উপজেলা প্রশাসন আয়োজিত এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় জিপিএ-৫ প্রাপ্ত কৃতী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে অনেক মেধাবী ফ্রিল্যান্সার রয়েছেন, যারা প্রতি মাসে ৫০ থেকে ৬০ হাজার ডলার পর্যন্ত আয় করছেন। আমরা সিলেটে একটি এআই (কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা) প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন করতে চাই। এর মাধ্যমে মেধাবী শিক্ষার্থীরা তাদের সুপ্ত প্রতিভাকে কাজে লাগানোর সুযোগ পাবে। তারা নিজেদের উন্নতির পাশাপাশি জ্ঞান-বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে বাংলাদেশকে আরও এগিয়ে নিতে ভূমিকা রাখতে পারবে।
তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের মেধা ও দক্ষতাকে কাজে লাগানোর জন্য প্রয়োজনীয় সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে। তাদের সামনে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিতে হবে, যাতে তারা নিজেদের প্রস্তুত করতে পারে।
শিক্ষার্থীদের মাদক থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানিয়ে খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় অনেক সময় ব্যয় করতে হয়। তাই মাদকের পেছনে সময় ব্যয় করার সুযোগ নেই। তবু সতর্ক থাকতে হবে যাতে কেউ মাদকে জড়িয়ে না পড়ে। নিজেদের মাদক থেকে দূরে রাখতে হবে এবং অন্যদেরও মাদক থেকে দূরে থাকার বিষয়ে সচেতন করতে হবে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, অতীতে সিলেটের অনেক মেধাবী মানুষ দেশ ও সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে নেতৃত্ব দিয়েছেন। কিন্তু নানা কারণে বর্তমানে আমরা পিছিয়ে পড়েছি। এই অবস্থার পরিবর্তন করতে হলে শিক্ষাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে।
তিনি বলেন, সিলেটের শিক্ষাক্ষেত্রকে আরও এগিয়ে নিতে আমরা নানা উদ্যোগ গ্রহণ করছি। দেশের বিভিন্ন পেশা ও গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে সিলেটের মানুষের অংশগ্রহণ বাড়াতে হবে। কারণ বিভিন্ন পেশায় আমাদের যোগ্য ও দক্ষ প্রতিনিধিত্ব না থাকলে আঞ্চলিক উন্নয়ন ও বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়নে বাধা সৃষ্টি হয়। সিলেটকে এগিয়ে নিতে সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে এগিয়ে আসতে হবে।
সিলেটের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন সিলেট সদর উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা অভিজিত কুমার পাল।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. খায়রুল ইসলাম, সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রেজাই রাফিন সরকার, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর সিলেট অঞ্চলের পরিচালক প্রফেসর ড. দিদার চৌধুরী, সিলেট ক্যাডেট কলেজের অধ্যক্ষ আ ফ ম মোরতাহিন বিল্লাহ এবং সিলেট সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খোশনূর রুবাইয়াত।
এবার সিলেট সিটি কর্পোরেশন ও সিলেট সদর উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে মোট ১ হাজার ৬৭৭ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে। এর মধ্যে এসএসসিতে ১ হাজার ৫৫৫ জন, মাদ্রাসায় ৯১ জন এবং ভোকেশনালে ৯ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ অর্জন করেছে।
অনুষ্ঠানে কৃতী শিক্ষার্থীদের পক্ষে অনুভূতি প্রকাশ করেন রেজওয়ানা হালিম তাহিয়া ও আহমেদ ওয়াকিল।
এ সময় সিলেট মহানগর বিএনপির সভাপতি নাসিম হোসাইন, সাধারণ সম্পাদক ইমদাদ হোসেন চৌধুরীসহ বিভিন্ন পর্যায়ের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে কৃতী শিক্ষার্থীদের হাতে ক্রেস্ট তুলে দেন প্রধান অতিথি, বিশেষ অতিথি ও অন্যান্য অতিথিরা।