• সিলেট, রাত ১১:৪৩, ১৯শে অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

সিলেটের যে এলাকায় গ্যাস সিলিন্ডারের দাম দ্বিগুণ, বিপাকে নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবার

admin
প্রকাশিত অক্টোবর ১৯, ২০২৬
সিলেটের যে এলাকায় গ্যাস সিলিন্ডারের দাম দ্বিগুণ, বিপাকে নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবার

Manual7 Ad Code

ছবি: এআই।

 

সিলেটের যে এলাকায় গ্যাস সিলিন্ডারের দাম দ্বিগুণ, বিপাকে নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবার ‎

Manual2 Ad Code

বিয়ানীবাজার প্রতিনিধি

 

 

Manual2 Ad Code

 

‎একসময় রান্নাঘরে জ্বলত মাটির চুলা, ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন থাকত চারপাশ। সময়ের সঙ্গে সেই চিত্র বদলেছে। মাটির চুলার জায়গা দখল করেছে এলপিজি গ্যাসের সিলিন্ডার। সহজ ও ঝামেলাহীন রান্নার সুবিধায় গ্রামীণ জনপদেও বেড়েছে এর ব্যবহার। তবে একসময় স্বস্তি এনে দেওয়া সেই গ্যাস এখন অনেক পরিবারের কাছে বাড়তি দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সিলিন্ডারের দাম বেড়ে যাওয়ায় সংসারের ব্যয় সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন বিয়ানীবাজারের নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের মানুষ।
‎
‎
‎খোঁজ নিয়ে জানা যায়, প্রায় এক দশক আগে বিয়ানীবাজারের গ্রামাঞ্চলে ধীরে ধীরে এলপিজি গ্যাসের ব্যবহার বাড়তে শুরু করে। সহজলভ্যতা, তুলনামূলক সাশ্রয়ী দাম ও ধোঁয়ামুক্ত পরিবেশে রান্নার সুবিধার কারণে অনেক পরিবার মাটির চুলা ছেড়ে সিলিন্ডার গ্যাসের দিকে ঝুঁকে পড়ে। একপর্যায়ে গ্রামীণ রান্নাবান্নায় এটি হয়ে ওঠে অন্যতম প্রধান জ্বালানি। কিন্তু সময়ের ব্যবধানে বেড়েছে দাম। এতে রান্নার সহজ ব্যবস্থা এখন অনেক পরিবারের জন্য বাড়তি আর্থিক চাপ তৈরি করছে।
‎
‎
‎চারখাই বাজারের গ্যাস সিলিন্ডারের খুচরা বিক্রেতা এখলাছুর রহমান বলেন, আজ থেকে ১০ বছর আগে যখন ব্যবসা শুরু করি, তখন অনেকেই গ্যাসে রান্না করতে ভয় পেতেন। মনে করতেন, এই বুঝি বিস্ফোরণ হলো! পরে যখন এর ব্যবহার শিখলেন, তখন সবাই মাটির চুলা বাদ দিয়ে গ্যাসের সিলিন্ডার কিনতে শুরু করেন।
‎
‎
‎তিনি জানান, শুরুর দিকে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে থাকা সিলিন্ডার এখন কিনতে গিয়ে অনেকেই হিমশিম খাচ্ছেন। একসময় যে সিলিন্ডার প্রায় এক হাজার টাকায় কেনা যেত, বর্তমানে তা কিনতে গুনতে হচ্ছে এক হাজার ৯০০ থেকে এক হাজার ৯৫০ টাকা। প্রায় দ্বিগুণ দামে সিলিন্ডার কিনতে গিয়ে চাপে পড়েছেন সাধারণ ভোক্তারা।
‎
‎
‎দুবাগ ইউনিয়নের মেওয়া গ্রামের গৃহিণী লিজা বেগম বলেন, আগে তো জ্বালানির জন্য লাকড়ি পাওয়া যেত, তা দিয়েই চুলায় রান্না হতো। এখন সবকিছু গ্যাসে রান্না হয়। খড়ি কিনে আনা, প্রস্তুত করা এসবের নানা ঝামেলা ছিল। একটি সিলিন্ডার আনলেই এক নিমিষে সব ঝামেলা এড়ানো যেত। দামেও খড়ির চেয়ে সাশ্রয়ী হতো। কিন্তু বর্তমানে আর সেটি স্বাভাবিক দামে নেই, দাম এখন দ্বিগুণ হয়ে গেছে। আগের মতো খড়িও পাওয়া যাচ্ছে না।
‎
‎
‎ভোক্তারা বলেন, দাম বাড়লেও এলপিজি গ্যাসের ব্যবহার কমিয়ে দেওয়ার সুযোগ নেই অনেক পরিবারের। রান্নার জন্য বিকল্প জ্বালানি হিসেবে খড়ি বা লাকড়ি সংগ্রহ করাও আগের মতো সহজ নয়। ফলে একদিকে বাড়তি দামে গ্যাস কিনতে হচ্ছে, অন্যদিকে বিকল্প জ্বালানির সংকটও ভোগাচ্ছে। এতে সংসারের নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচ মেটাতে বাড়তি চাপের মুখে পড়ছেন গ্রামীণ পরিবারের সদস্যরা।
‎
‎
‎বিয়ানীবাজার পৌরশহরের কসবা গ্রামের গৃহিণী বুশরা ইসলাম বলেন, এখন গ্যাসে রান্না করি, কোনো ভোগান্তি পোহাতে হয় না। গ্যাসে রান্না করতে ভালোই লাগে। কিন্তু সেই গ্যাসের দাম যদি আমাদের ক্ষমতার বাইরে চলে যায়, তবে আমাদের জন্য খুব কষ্টকর হয়ে যায়। সরকারের উচিত আমাদের দিকটি বিবেচনা করে গ্যাসের দাম কমানো।
‎

‎ভোক্তা অধিদপ্তরের সিলেটের সহকারী পরিচালক দেবানন্দ সিনহা বলেন, নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে এলপিজি সিলিন্ডার বিক্রি করা হলে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনে অভিযোগ করার সুযোগ রয়েছে। আমরা মাঠপর্যায়ে নিয়মিত তদারকি করছি এবং অনিয়ম পেলে জরিমানাও করা হচ্ছে।

Manual4 Ad Code

 

 

Manual4 Ad Code

সিলেটভিউ২৪ডটকম

Latif Travels
Metropolitan University

আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন

📞 মোবাইল: +8801712540420

✉️ ইমেইল: pavel.syl@gmail.com