ধানের শীষের পক্ষে খন্দকার মুক্তাদিরের ‘ডোর টু ডোর মিশন’
নিজস্ব প্রতিবেদক
শুরু করেছিলেন মতবিনিময় দিয়ে। এরপর উঠান বৈঠক, নারী সমাবেশ, ডিজিটাল মাধ্যমের পর এখন শুরু করেছেন ‘ডোর টু ডোর মিশন’। বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্ঠা ও সিলেট-১ আসনে বিনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের প্রচারণায় যেমন নতুনত্ব আছে, তেমনি আছে অভিনবত্বও। সন্দেহ নেই, প্রচারণার এমন কৌশল ভোটারদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছে।
খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির পিতা খন্দকার আব্দুল মালিক একসময় সিলেট-১ আসনের সংসদ সদস্য ছিলেন। এরপর ২০১৮ সালের নির্বাচনে তিনি পিতার আসন পুনরুদ্ধারের মিশনে নেমেছিলেন। কিন্তু নানা কারণে সমালোচিত সেই নির্বাচনে তিনি সফল হতে পারেন নি। আর ২৪ এর নির্বাচনতো বিএনপি বর্জন করেছে। এবার সুযোগ এসেছে পিতার সা¤্রাজ্য পুনরুদ্ধারের।
এ লক্ষ্যে তিনি কাজ শুরু করেছেন বেশ পরিকল্পিতভাবে। এ আসনে তার দলীয় মনোনয়ন নিশ্চিত হওয়ার (অঘোষিত) পরপরই তিনি হযরত শাহজালাল (র.) ও হযরত শাহপরাণ (র.) এর মাজার জিয়ারত করে আনুষ্ঠানিক প্রচারণা শুরু করেন। শুরুর প্রচারণা ছিল, বিভন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছে নিজের জন্য দোয়া চাওয়া।
এরপর তিনি সিলেট মহানগরী ও সিলেট সদর উপজেলাকে কেমন দেখতে চান- এমন কয়েকটি বিষয়ে প্রশ্ন নিয়ে ডিজিটাল প্রচারণা। এই প্রচারণাও ব্যাক সাড়া জাগিয়েছে। তার প্রচার সেল থেকে কর্মীরা এ আসনের উন্নয়ন সম্পর্কে বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরে ভোটারের মতামত নিয়েছেন।
এরসঙ্গে বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠনের নেতাকর্মীদের সাথে তিনি একের পর এক মতবিনিময় করেছেন। সবার সঙ্গে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে সিলেটের উন্নয়ন বিষয়ে তার চিন্তাভাবনার কথা তুলে ধরেছেন। পাশাপাশি পেশাজীবীদের বিভিন্ন সমস্যার পাশাপাশি নাগরিক সমস্যার আদ্যপান্তও জেনে নিয়েছেন সাগ্রহে।
এরপর শুরু করেন উঠান বৈঠক নারী সমাবেশ ইত্যাদি। তিনি বিভিন্ন বস্তীবাসী জনসাধারণের কাছে ছুটে গেছেন। ছুটে গিয়েছেন সদর উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে, চা জনগোষ্ঠীর উঠানে উঠানে। সবার সঙ্গে বসেছেন এবং তাদের সুখ দুঃখের কথা শুনেছেন গভীর মনোয়োগ সহকারে। তিনি তাদের আশ্বস্ত করেছেন। বিএনপি ক্ষমতায় গেলে তিনি সবার সব সমস্যার পর্যায়ক্রমে সমাধানের প্রতি জোর এবং আশ্বাসও দিয়েছেন।
এবার শুরু করেছেন ‘ডোর টু ডোর মিশন’। খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির এবার সরাসরি জনগনের ঘরে ঘরে দোকানে দোকানে এবং ব্যক্তিগত পর্যায়ে দেখা করছেন এবং নিজের ও দলের জন্য দোয়া এবং ভোট চাইছেন। বিএনপি বিজয়ী হলে একটি সন্ত্রাস, মাদক ও দুর্নীতিমুক্ত সিলেট উপহার দেওয়ার আশ্বাস দিচ্ছেন।
তারই ধারাবাহিকতায় তিনি বুধবার (১০ ডিসেম্বর) সিলেট মহানগরীর বন্দরবাজার, ব্রহ্মময়ী বাজার, হাসান মার্কেট, রেজিস্ট্রারি অফিসসহ বিভিন্ন পাড়া মহল্লায় গণসংযোগ করেছেন।
এসময় উপস্থিত ছিলেন মহানগর বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রেজাউল হাসান কয়েছ লোদী, সাধারণ সম্পাদক এমদাদ হোসেন চৌধুরী, সিলেট চেম্বার অব কমার্সের সাবেক প্রেসিডেন্ট জিয়াউল হক জিয়া, সিলেট মহানগর ব্যবসায়ী ঐক্য কল্যাণ পরিষদের সভাপতি আব্দুর রহমান রিপন,মহানগর শ্রমিক দলের সভাপতি আব্দুল আহাদ, হাসান মার্কেটের ব্যবসায়ী মো. সাহেদ বকস, সিরাজুল ইসলাম, মো. এরসাদ আলম, রাজীব আহমদ, মো. হানিফ প্রমুখ।
এদিকে মঙ্গলবার রাত ১০টায় মহানগরীর ১৯নং ওয়ার্ডের বিভিন্ন কলোনীতে গিয়ে গণসংযোগ করেন খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। এসময় উপস্থিত ছিলেন বিএনপি’র কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সহ ক্ষুদ্র ও ঋণ বিষয়ক সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রাজ্জাক, ১৯ নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি নাদির খান, ১৫নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি শোয়াইব আহমদ, ১৯নং ওয়ার্ড বিএনপির সহ সভাপতি জিহাদ আহমদ, সাধারণ সম্পাদক সুচিত্র চৌধুরী বাবলু, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তপু আহমদ, সাংগঠনিক সম্পাদক শফিকুর রহমান সুমন, মহানগর ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও ওয়ার্ড বিএনপির সদস্য ফাহিম রহমান মওসুম প্রমুখ।
উল্লেখ্য, এক সপ্তাহ থেকে বিএনপির প্রার্থী খন্দকার মুক্তাদির কখনো সিলেট শহরের দোকানে দোকানে আবার কখনো বিভিন্ন পাড়া মহল্লার ঘরে ঘরে ধানের শীষের পক্ষে প্রচারণা চালাচ্ছেন।