সিলেটে আলোচনায় ‘ব্যাকআপ’ প্রার্থী
এনামুল কবীর
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সিলেটে এখন আলোচনায় ‘ব্যাকআপ’ প্রার্থী। এই মহুর্তে দেশের বৃহত্তম রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল- বিএনপি সিলেট ও সুনামগঞ্জের অন্তত তিনটি আসনে দলীয় ব্যানারে ‘ব্যাকআপ’ প্রার্থী রেখেছে। অবশ্য প্রার্থীদের উদ্যোগেও এমন প্রার্থী রাখার খবর পাওয়া যাচ্ছে।
বিএনপির দলীয় ব্যানারে ‘ব্যাকআপ’ প্রার্থী রাখা হয়েছে সিলেটের ১টি আসনে। আর সুনামগঞ্জে রাখা হয়েছে দুটি আসনে।
সিলেট-৬ (গোলাপগঞ্জ-বিয়ানীবাজার) আসনে বিএনপি দলীয় প্রার্থী হিসাবে প্রথম দফায় নাম ঘোষণা করেছিল সিলেট জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট এমরান আহমদ চৌধরীর। তবে শেষ সময়ে এসে ২০১৮ সালের নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন পাওয়া জেলা বিএনপির উপদেষ্টা ফয়সল আহমদ চৌধুরীকেও মনোনয়ন দিয়েছে দলটি। আর এ দুই প্রার্থীই সোমবার নিজেদর মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন।
এদিকে সুনামগঞ্জ-২ (দিরাই-শাল্লা) আসনে বিএনপির প্রার্থী হিসাবে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে সাবেক সাংসদ ও বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য নাছির উদ্দিন চৌধুরীকে। এ আসনে প্রবাসী বিএনপি নেতা ও সুনামগঞ্জ জেলা বিএনপির সাবেক উপদেষ্টা তাহির রায়হান চৌধুরী পাবেলকেও মনোনয়নপত্র দাখিল করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ দুই প্রার্থীই নিজেদের মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন সোমবার।
সুনামগঞ্জ-১ (ধর্মপাশা-জামালগঞ্জ-তাহিরপুর-মধ্যনগর) আসনেও একই ব্যবস্থা রেখেছে বিএনপি। শুরুর দিকে এখানে দলীয় প্রার্থী হিসাবে নাম ঘোষণা করা হয়েছিল জেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি ও সাবেক উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আনিসুল হকের। আর রবিবার মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে সুনামগঞ্জ জেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক, সাবেক উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান কামরুলকে।
সিলেটজুড়ে এখন আলোচনায় তিন আসনের এই তিন ‘ব্যাকআপ’ প্রার্থী। এ সম্পর্কে বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক (সিলেটের দায়িত্বপ্রাপ্ত) জিকে গৌছ গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, দলের সিদ্ধান্ত অনুযায়ীই মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া হয়েছে। ২১ জানুয়ারি প্রতীক বরাদ্দের সময় দলীয় নির্দেশনা অনুযায়ী একজন মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করবেন।
এদিকে রাজনীতি সচেতন মহলে বিষয়টির ব্যাখ্যা দেওয়া হচ্ছে অন্যরকমভাবে। কেউ বলছেন, দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বিষয়টি নিয়ে আরো খোঁজ-খবর নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাবেন ২১ জানুয়ারির আগে। আর কেউ কেউ বলছেন মনোনয়নপত্র কোনো কারণে বাতিল হয়ে গেলে যাতে দলীয় প্রার্থী থাকে সেজন্যই এই ব্যবস্থা।
এদিকে দলের বাইরে দুটি আসনে ব্যক্তিগত উদ্যোগেও ‘ব্যাকআপ’ প্রার্থী রাখা হয়েছে। তাদের একজন আছেন সিলেট-২ আসনে। আর অপরজন সিলেট-৬ আসনে।
সিলেট-২ (বিশ্বনাথ-ওসমানীনগর) আসনে বিএনপির দলীয় প্রার্থী হিসাবে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন নিখোঁজ বিএনপি নেতা এম ইলিয়াস আলীর স্ত্রী তাহসিনা রুশদির লুনা। তবে ২০১৮ সালের তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা মনে রেখে এবার এ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন তার ছেলে ব্যারিস্টার আবরার ইলিয়াস অর্ণব। সেবার লুনার মনোনয়নপত্র বাছাইকালে বাতিল হয়েছিল।
আর সিলেট-৬ আসনে জমিয়তে উলামা ইসলামের ফখরুল ইসলাম স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। জমিয়ত বিএনপির সঙ্গে আসন সমঝোতার ভিত্তিতে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছে। সিলেট-৫ আসনে বিএনপি জমিয়তের কেন্দ্রীয় সভাপতি মাওলানা উবাদুল্লাহ ফারুককে সমর্থন দিয়ে নিজেরা কোনো প্রার্থী দেয়নি। কিন্তু এ আসনে সিলেট জেলা বিএনপির প্রথম সহসভাপতি মামুনুর রশীদ ওরফে চাকসু মামুন স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে তার মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন।
সিলেট-৬ (গোলাপগঞ্জ-বিয়ানীবাজার) আসনে জমিয়ত বিএনপি প্রার্থীকে সমর্থন দিয়ে দলীয় প্রার্থী ঘোষণা না করলেও দলটির নেতা ফখরুল ইসলামের স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে মনোনয়নপত্র দাখিলের ঘটনাকে বিএনপিকে চাপে রাখার কৌশল বলে মনে করছেন সচেতন মহল।
বিএনপি চাকসু মামুনকে চাপ দিয়ে নির্বাচন থেকে বিরত রাখতে সক্ষম হলে ফখরুল ইসলামকেও বিরত রাখবে জমিয়ত। আর তা না হলে স্বতন্ত্র হিসাবেই ফখরুল নির্বাচনী মাঠে থেকে যেতে পারেন বলে ধারনা রাজনীতি সচেতনদের।