হচ্ছেনা মা-ছেলের ‘ল ড়া ই’ : ছেলের কাছে ‘ঋণগ্রস্থ’ লুনার মনোয়ন বৈধ, আবরারের বাতিল
নিউজ ডেস্ক
সিলেট-২ (ওসমানীনগর–বিশ্বনাথ) আসনে বহুল আলোচিত মা–ছেলের সম্ভাব্য নির্বাচনী লড়াই আপাতত থমকে গেছে। মনোনয়ন যাচাই-বাছাইয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে দাখিল করা ব্যারিস্টার আবরার ইলিয়াসের মনোনয়নপত্র বাতিল হওয়ায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। ফলে একই আসনে বিএনপির প্রার্থী তাহসিনা রুশদীর লুনা ও তার পুত্র আবরার ইলিয়াসের মধ্যে সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বিতার সম্ভাবনা আপাতত অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। তবে আপিলের সুযোগ থাকায় শেষ পর্যন্ত পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, তা নির্ভর করছে নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তের ওপর।
শনিবার (৩ জানুয়ারি) সকালে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে সিলেটের রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম এসব সিদ্ধান্ত জানান। তিনি বলেন, স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে দাখিল করা মনোনয়নপত্রে এক শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষর সংক্রান্ত অনিয়ম প্রমাণিত হওয়ায় ব্যারিস্টার আবরার ইলিয়াস এবং আরেক স্বতন্ত্র প্রার্থী মোহাম্মদ আব্দুস শহীদের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে।
রিটার্নিং কর্মকর্তা জানান, সিলেট-২ আসনে মনোনয়ন জমা দেওয়া ৯ প্রার্থীর মধ্যে ৬ জনের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। বৈধ প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন বিএনপির তাহসিনা রুশদীর লুনা, জামায়াতে ইসলামীর অধ্যাপক আব্দুল হান্নান, খেলাফত মজলিসের মোহাম্মদ মুনতাসির আলী, জাতীয় পার্টির মাহবুবুর রহমান চৌধুরী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মাওলানা আমির উদ্দিন এবং গণফোরামের প্রার্থী সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. মুজিবুল হক। অপরদিকে যাচাই-বাছাইয়ে উপস্থিত না থাকায় গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থী জামান আহমদ সিদ্দিকীর মনোনয়নপত্র সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হয়েছে।
তাহসিনা রুশদির লুনার হলফনামা অনুযায়ী, তার কাছে নগদ অর্থ রয়েছে ৪ লাখ ২০ হাজার ৪৬৪ টাকা। তিনি তার ছেলের কাছ থেকে ঋণ হিসেবে আরও সাড়ে ১৩ লাখ টাকা নেওয়ার কথা উল্লেখ করেছেন।
এদিকে সিলেট-২ আসনকে ঘিরে মা–ছেলের মনোনয়ন দাখিলের পেছনে ছিল রাজনৈতিক কৌশল। ২০১৮ সালের নির্বাচনে আইনি জটিলতার কারণে তাহসিনা রুশদীর লুনা নির্বাচন করতে না পারায় বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী হিসেবে গণফোরামের মোকাব্বির খান ওই আসনে নির্বাচিত হন। সে অভিজ্ঞতা মাথায় রেখেই এবার সম্ভাব্য ঝুঁকি এড়াতে বিকল্প হিসেবে লুনা ও তার ছেলে ব্যারিস্টার আবরার ইলিয়াস—উভয়েই মনোনয়নপত্র জমা দেন।
দলীয় সূত্রগুলো জানিয়েছে, মূল পরিকল্পনা ছিল—দুজনের মনোনয়নই বৈধ হলে তাহসিনা রুশদীর লুনাই নির্বাচনে থাকবেন এবং তার ছেলে মনোনয়ন প্রত্যাহার করবেন। আর কোনো কারণে লুনার মনোনয়ন বাতিল হলে বিকল্প হিসেবে আবরার ইলিয়াস প্রার্থী হবেন। তবে যাচাই-বাছাইয়ের প্রাথমিক ধাপে ছেলের মনোনয়ন বাতিল হওয়ায় সেই সমীকরণ আপাতত ভেঙে গেছে।
প্রসঙ্গত, তাহসিনা রুশদীর লুনার স্বামী ও আবরার ইলিয়াসের বাবা এম. ইলিয়াস আলী ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত সিলেট-২ আসনের সংসদ সদস্য ছিলেন। তিনি ২০১০ সালে বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক নির্বাচিত হন। ২০১২ সালের ১৭ এপ্রিল রাজধানী থেকে ব্যক্তিগত গাড়িচালকসহ নিখোঁজ হন ইলিয়াস আলী। দীর্ঘ সময় পার হলেও তার কোনো সন্ধান মেলেনি।
তফসিল অনুযায়ী, মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই চলবে ৩০ ডিসেম্বর থেকে ৪ জানুয়ারি পর্যন্ত। এরপর ৫ থেকে ৯ জানুয়ারি আপিল গ্রহণ এবং ১০ থেকে ১৮ জানুয়ারি আপিল নিষ্পত্তি করা হবে। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন ২০ জানুয়ারি এবং প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে ২১ জানুয়ারি। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত ব্যালট পেপারের মাধ্যমে স্বচ্ছ ব্যালট বাক্সে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।