• সিলেট, সন্ধ্যা ৭:৫১, ২০শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

ভুয়া জন্মতারিখ দেখিয়ে বাল্যবিবাহ,  উভয় পক্ষকে তলব করেছে মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর

admin
প্রকাশিত জানুয়ারি ৪, ২০২৬
ভুয়া জন্মতারিখ দেখিয়ে বাল্যবিবাহ,  উভয় পক্ষকে তলব করেছে মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর

Manual4 Ad Code

স্টাফ রিপোর্টার: সিলেটে থামছে না বাল্যবিবাহ। শহর-গ্রামে অপ্রাপ্ত বয়সেই বিয়ে দেওয়া হচ্ছে ছেলে-মেয়েদের। এমন একটি ঘটনা ঘটছে সিলেট সিটি কর্পোরেশনের ৩৫নং ওয়ার্ডের আলুতল ছড়ারপাড় এলাকায়। ভুয়া জন্ম তারিখ ব্যবহার করে অপ্রাপ্তবয়স্ক একটি মেয়ের বিবাহ সম্পন্ন করার অভিযোগ উঠেছে, যা নিয়ে স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোচনা ও উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। ২০২৫ সালের ৪ নভেম্বর নোটারী পাবলিক সমগ্র বাংলাদেশ সিলেটের মাধ্যমে ১৫ বছরের অপ্রাপ্ত মেয়েকে নোটারীর মাধ্যমে বয়স বাড়িয়ে বাল্য বিবাহ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। অথচ তার এসএসসি (ভোকেশনাল) সার্টিফিকেট তার জন্ম তারিখ ১০ ডিসেম্বর ২০১০ উল্লেখ রয়েছে। সে অনুযায়ী তার বয়ষ ১৫ বছর।

স্থানীয়দের অভিযোগ, কিশোরগঞ্জ জেলার কটিয়াদি উপজেলার রায়খলা গ্রামের লাল মিয়া ও খুদেজার ছেলে মুজাহিদুর রহমানের সাথে নুর মিয়া ও ছালমা বেগমের মেয়ে মোছাঃ আকলিমা বেগম নামের এক কিশোরীর বিয়ে পারিবারিকভাবে সম্পন্ন করা হয়। বিয়ের সময় নোটারি পাবলিক, সিলেট-এর মাধ্যমে মেয়ের জন্ম তারিখ ১০ ডিসেম্বর ২০০৮ দেখানো হলেও তার প্রকৃত জন্মসনদ অনুযায়ী জন্মতারিখ ১০ ডিসেম্বর ২০১০, যা স্পষ্টভাবে বাল্যবিবাহের শামিল।

Manual5 Ad Code

অভিযোগে আরও বলা হয়, ছেলে মুজাহিদুর রহমানের জন্মতারিখ দেখানো হয়েছে ১৬ আগস্ট ২০০৬। বিয়েটি ধার্য করা হয় ৪ নভেম্বর ২০২৫ ইং তারিখে এবং বিবাহের মোহরানা নির্ধারণ করা হয় ৫ লক্ষ টাকা। অথচ কাগজপত্র যাচাই করলে দেখা যায়, কনের পক্ষের বিয়ে দেওয়ার সময় কনের বয়স আইনি বিবাহযোগ্য বয়সে পৌঁছায়নি। জন্মসনদ সার্ভারে জন্মনিবন্ধন ২০০৬৪৮১৪৫৯৫০২৫৬২৫ নম্বরটি ছেলের সঠিক তথ্য পাওয়া গেলেও মেয়ের জন্মনিবন্ধন ২০০৮৯১১৬২৪২১১৫৫৭০ নম্বরের কোনো তথ্য সার্ভারে নেই। যা বয়স গোপনের বিষয়টিকে আরও স্পষ্ট করে।

Manual1 Ad Code

এই অনিয়মের প্রেক্ষিতে ৪ নভেম্বর ২০২৫ইং তারিখে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে স্থানীয় কয়েকজন মৌখিকভাবে অভিযোগ করেন। অভিযোগটি তদন্ত ও বিচারকার্য পরিচালনার জন্য উপজেলা নির্বাহী অফিসার পরবর্তীতে মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর সিলেট অফিসে পাঠান। মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর সিলেটের উপ-পরিচালক শাহানা বেগমকে বিষয়টি তদন্ত করে দেখার দায়িত্ব দেওয়া হয়।

Manual5 Ad Code

পরবর্তীতে তিনি গত ১৫ ডিসেম্বর মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর সিলেট অফিস থেকে উভয় পক্ষকে ২২ ডিসেম্বর স্বশরীরে সকল প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সহ হাজির হওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হলেও নির্ধারিত দিনে শুধুমাত্র মেয়ের পক্ষ উপস্থিত হয়। ছেলের পক্ষ কোনো কারণ ছাড়াই অনুপস্থিত থাকে। এরপর মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর সিলেটের কর্মকর্তা ৫ জানুয়ারি পুনরায় উভয় পক্ষকে উপস্থিত হওয়ার নির্দেশ দেন।

Manual3 Ad Code

এলাকাবাসী অভিযোগ করে বলেন, এ ধরনের বাল্যবিবাহের ঘটনা দিন দিন বাড়ছে, যা কম বয়সী ছেলে-মেয়েদের সামাজিক ও নৈতিক অবক্ষয়ের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। যাতে এ ধরনের আর কোন বাল্যবিবাহ না হয়, সচেতন মহল, দ্রুত তদন্ত শেষ করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং এলাকায় বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে প্রশাসনের কঠোর ভূমিকা কামনা করেছেন।

Latif Travels
Metropolitan University

আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন

📞 মোবাইল: +8801712540420

✉️ ইমেইল: pavel.syl@gmail.com