• সিলেট, দুপুর ২:২৭, ৩০শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

আদানির বিদ্যুৎসহ বিগত সরকারের অনেক চুক্তিতে অনিয়ম পেয়েছে জাতীয় কমিটি

admin
প্রকাশিত জানুয়ারি ২১, ২০২৬
আদানির বিদ্যুৎসহ বিগত সরকারের অনেক চুক্তিতে অনিয়ম পেয়েছে জাতীয় কমিটি

Manual5 Ad Code

আদানির বিদ্যুৎসহ বিগত সরকারের অনেক চুক্তিতে অনিয়ম পেয়েছে জাতীয় কমিটি
অনলাইন ডেস্ক

Manual3 Ad Code

 

আদানির বিদ্যুৎসহ বিগত সরকারের করা বিদ্যুৎকেন্দ্রের সব চুক্তি ও চুক্তির প্রক্রিয়ায় বিভিন্ন অনিয়মের তথ্য পাওয়া গেছে। জাতীয় কমিটির চারজন সদস্যের দেওয়া তথ্যের বরাতে এমনই ধারণা পাওয়া গেছে। ভারতের ঝাড়খন্ডে নির্মিত আদানির বিদ্যুৎকেন্দ্রের সঙ্গে চলমান বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তি ‘বাতিল করার মতো অনিয়ম’ রয়েছে। এসব অনিয়মের প্রমাণ দিয়ে আদালতের মাধ্যমেই ভারতীয় প্রতিষ্ঠান আদানির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া যাবে বলে মনে করছেন কমিটির সদস্যরা। যদিও জাতীয় কমিটির ওই চার সদস্য আনুষ্ঠানিকভাবে কথা বলতে রাজি হননি।

জানা গেছে, জাতীয় কমিটি গতকাল মঙ্গলবার বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খানের কাছে প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। এছাড়া একটি প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়েছে, যেখানে আদানির বিদ্যুৎকেন্দ্রের সঙ্গে করা চুক্তির অনিয়ম তুলে ধরা হয়েছে। যদিও প্রতিবেদনটি বিদ্যুৎ বিভাগ প্রকাশ করেনি। তবে গত নভেম্বরে প্রাথমিক প্রতিবেদন জমার সময় আনুষ্ঠানিকভাবে কথা বলেছিলেন কমিটির সদস্যরা।

গতকাল বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, কমিটির প্রতিবেদন পর্যালোচনার জন্য বিদ্যুৎ বিভাগে পাঠানো হবে। এরপর সরকারের নির্দেশে পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ করবে বিদ্যুৎ বিভাগ।

Manual5 Ad Code

বিদ্যুৎ ও জ্বালানির দ্রুত সরবরাহ বৃদ্ধি (বিশেষ বিধান) আইন–২০১০–এর অধীন করা চুক্তিগুলো পর্যালোচনার জন্য ২০২৪ সালের ৫ সেপ্টেম্বর কমিটি গঠন করে অন্তর্বর্তী সরকার। এরপর ওই বছরের নভেম্বরে বিশেষ আইনটি রহিত করা হয়। বিশেষ আইনের অধীনে করা বিদ্যুৎকেন্দ্রের চুক্তি ও চুক্তির প্রক্রিয়া পর্যালোচনা করে বিশ্লেষণ তুলে ধরা হয়েছে জাতীয় কমিটির প্রতিবেদনে।

কমিটির সদস্যরা জানান, বিগত সরকারের সময় বিশেষ ক্ষমতা আইনে একের পর এক একতরফা চুক্তি করা হয়েছে। চুক্তিতে সব সুবিধা দেওয়া হয়েছে ব্যবসায়ী গোষ্ঠীকে, রাষ্ট্রের কথা চিন্তা করা হয়নি। একটি চুক্তি যেন আরেকটির প্রতিলিপি। সাবেক প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে শুরু করে বিদ্যুৎ সংস্থাগুলো এতে জড়িত ছিল। গ্যাস পাওয়া যাবে না, চুক্তি করা হোক—এমন কথাও দেখা গেছে মন্ত্রণালয়ের সুপারিশে। কমিটির প্রতিবেদন নিয়ে সরকারের দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) তদন্ত করতে পারে।

কমিটির সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র গণমাধ্যমকে জানান, শুধু চুক্তি নয়, চুক্তির আগের পুরো প্রক্রিয়া যাচাই করে দেখা হয়েছে। এতে সাবেক প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি হস্তক্ষেপের নমুনা পাওয়া গেছে। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বেও ছিলেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী। সাবেক দুই বিদ্যুৎ সচিব, যাঁরা পরে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সচিব হয়েছিলেন, তাঁদের সংশ্লিষ্টতা আছে সংঘবদ্ধ দুর্নীতিতে। তাঁরা হলেন আবুল কালাম আজাদ ও আহমদ কায়কাউস।

হাইকোর্ট বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি মঈনুল ইসলাম চৌধুরী এ কমিটির আহ্বায়ক। অন্য সদস্যরা হলেন বুয়েটের ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ও সহ-উপাচার্য আবদুল হাসিব চৌধুরী, কেপিএমজি বাংলাদেশের সাবেক প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা (সিওও) আলী আশফাক, বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশের সাবেক মুখ্য অর্থনীতিবিদ জাহিদ হোসেন, ইউনিভার্সিটি অব লন্ডনের ফ্যাকাল্টি অব ল অ্যান্ড সোশ্যাল সায়েন্সের অর্থনীতির অধ্যাপক মোশতাক হোসেন খান ও সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী শাহদীন মালিক।

কমিটির সদস্যরা গণমাধ্যমকে জানান, চুক্তিগুলো পুরোপুরি কারিগরি, তাই সময় লেগেছে। পর্যালোচনা কমিটির সুপারিশে মূলত ভবিষ্যতে সুরক্ষা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। যাতে এ ধরনের চুক্তি না করা হয়। চুক্তির আগে স্বাধীন কমিশনের মাধ্যমে যাচাই করে দেখার কথা বলা হয়েছে। পর্যালোচনা কমিটির পরামর্শে গত বছরের ২১ জানুয়ারি করা হয় বিদ্যুৎকেন্দ্রের ট্যারিফ (বিদ্যুতের দাম) পর্যালোচনা কমিটি। এ কমিটির কাজ চলমান।

Manual6 Ad Code

চুক্তি অনুসারে প্রতিটি বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ কিনে নেয় বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি)। প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম নির্ধারণে একটি সূত্র দেওয়া আছে চুক্তিতে। এ সূত্র অনুসারে দাম নির্ধারিত হয়। একেক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ক্ষেত্রে একেক দাম। সমঝোতার মাধ্যমে কাউকে কাউকে বিশেষ সুবিধা দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ আছে। দরপত্র ছাড়া বিশেষ বিধান আইনে এভাবে চুক্তি করার সুযোগ নিয়েছে গত আওয়ামী লীগ সরকার।

Manual6 Ad Code

জামায়াতের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, চীন, ভারত, পাকিস্তানসহ ৩০টির বেশি দেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থার রাষ্ট্রদূত, হাইকমিশনার ও কূটনীতিকেরা উপস্থিত ছিলেন। আরও উপস্থিত ছিলেন সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী শাহদীন মালিক, দ্য ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহফুজ আনাম, সংগ্রাম সম্পাদক আবুল আসাদ, নয়া দিগন্ত সম্পাদক সালাউদ্দিন বাবর, দ্য নিউ নেশন সম্পাদক মোকাররম হোসেন, প্রথম আলোর নির্বাহী সম্পাদক সাজ্জাদ শরিফ, মানবাধিকারকর্মী নূর খান লিটন, ডিবিসি নিউজের সম্পাদক লোটন আকরাম, ডিইউজের সভাপতি মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক খুরশীদ আলম প্রমুখ।

রাজনীতিবিদদের মধ্যে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্যসচিব আখতার হোসেন ও মুখ্য সমন্বয়ক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলম, এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান ফুয়াদ, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের নায়েবে আমির মুজিবুর রহমান হামিদী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। আরও উপস্থিত ছিলেন বুদ্ধিজীবী, শিক্ষাবিদ, গবেষকসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিরা।

বিডি প্রতিদিন

Latif Travels
Metropolitan University

আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন

📞 মোবাইল: +8801712540420

✉️ ইমেইল: pavel.syl@gmail.com